নীড় পাতা » ছবি » সাকা’র ঋণ শোধ করলো রাঙামাটি বিএনপি !

সাকা’র ঋণ শোধ করলো রাঙামাটি বিএনপি !

Baskorjo-1মানবতাবিরোধী বিচারের রায়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আলোচিত,বিতর্কিত নেতা,ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচতি সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিক্রিয়াও যেখানে সতর্ক,চট্টগ্রাম নগর বিএনপি,উত্তর ও দক্ষিন জেলা বিএনপিও যেখানে দায়সারা হরতাল ডেকে ঘরে বসেছিলো,কোন পিকেটিং-ই করেনি,সেখানে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে কড়া হরতালের ঘটনা জন্ম দিয়েছে নানান আলোচনার।

সাকা চৌধুরীর প্রতি স্থানীয় বিএনপির এই বিশেষ অনুরাগের কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানান তথ্য। বিতর্কিত এই নেতার প্রতি কোন ভালোবাসা বা শ্রদ্ধাবোধের কারণে নয়,বরং তার প্রতি অতীতের ঋণ শোধ করতেই এইদিন রাঙামাটিতে হরতাল পালন করেছে জেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনসমূহ। কেবল তাই নয়,হরতালে যুগপৎ মাঠে ছিলেন জেলা বিএনপির উভয় অংশের নেতারাই।

বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে,রাঙামাটিতে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তিবিরোধী আন্দোলনসহ সকল কর্মসূচীতেই সাকা চৌধুরীর ছিলো সক্রিয় সহযোগিতা। সেই আন্দোলনে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকরা মামলায় আইনজীবি নিয়োগ,জামিনলাভে সহযোগিতা,অর্থ বিনিয়োগের কাজ করেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের। এছাড়া ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ানের নির্বাচনী খরচ মেটাতে সালাউদ্দিন কাদের ১২ লক্ষ টাকা,২০০৮ সালে প্রথমে দীপেন দেওয়ান ও পরে তার স্ত্রী মৈত্রী চাকমার নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে নগদ ১৭ লক্ষ টাকা এবং চেকে আরো ৫ লক্ষ টাকা প্রদান,সর্বশেষ বিএনপির কাউন্সিলে ১ লক্ষ টাকা প্রদান,পাকুয়াখালিতে নিহত বাঙালী শ্রমিকদের বিএনপির পক্ষ থেকে যে নগত অর্থ সহযোগিতা করা হয়েছিলো তাও ছিলো সাকা চৌধুরীর দেয়া। এছাড়া গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের জামিন,মামলারর আইনজীবি নিয়োগসহ খরচ মেটাতেও সাকা চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম বলেন,সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাঙামাটি বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সবচে কাছের অভিভাবক ছিলেন। নেতাকর্মীদের জামিন,মামলায় সহযোগিতাসহ যেকোন প্রয়োজনে তার সহযোগিতা পাওয়া যেতো,তাই স্বাভাবিকভাবেই তার বিরুদ্ধে যে রায় দেয়া হয়েছে তার প্রতিবাদেই আমরা হরতাল পালন করেছি।

ফলে সাকার প্রতি রাঙামাটি বিএনপি নেতাদের রয়েছে বিশেষ দুর্বলতা। আর রাঙামাটি বিএনপির নেতারাও  সাকার প্রতি নিজেদের দুর্বলতার কথা গোপন রাখেননি। রাঙামাটিতে সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিত রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন,তিনি ছিলেন রাঙামাটি বিএনপির অঘোষিত অভিভাবক। আমরা সবসময় তার কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা,মূল্যবান পরামর্শ পেতাম। মনিস্বপন ও দীপেন দেওয়ানের জন্য তিনি নিজেই সাকা চৌধুরীর কাছ থেকে টাকা এনে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন,বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমি যখন হামলা মামলার কারণে রাঙামাটি থেকে পলাতক ছিলাম,তখনো আমি তার সর্বাত্মক সহযোগিতা পেয়েছিলাম। তার কাছে আমরা রাঙামাটি বিএনপি ঋণী।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম বলেন,সালাউদ্দিন কাদেরের রায়ের  প্রতিবাদে হরতাল পালন করে আমরা তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা  প্রকাশ ও ঋণ শোধ করলাম। তিনি আমাদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন,আমরা সামান্য এটুকু না করলে কেমন হতো। রাঙামাটি বিএনপির জন্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী অনেক কিছু করেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদানের পর হরতাল পালন করলেও পৃথকভাবে আর কোন কর্মসূচী পালন করেনি রাঙামাটি বিএনপি।

প্রসঙ্গত,বিগত বিএনপি সরকারের শাসনামলের শেষ সময়ে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে এক জনসভায় খালেদা জিয়ার ভাষণ দেয়ার আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বক্তব্যের কারণেই সেই সময় রাঙামাটিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালুর ঘোষণা তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেননি বলে পার্বত্য এলাকায় কথিত আছে। সেই জনসভায় সাকা চৌধুরীর ব্যঙ্গাত্মক বক্তৃতাকে বিএনপি ত্যাগের অন্যতম কারণ বলে পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সেই সময়কার পার্বত্য উপমন্ত্রী ও পরে এলডিপিতে যোগদানকারি মনিস্বপন দেওয়ান।  এছাড়া বিভিন্ন সময় পার্বত্য এই আসন থেকে সাকা চৌধুরীর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা গেলেও তিনি কখনো প্রার্থী হননি। তবে তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী অবিভক্ত পাকিস্তানে পার্বত্য এলাকাসহ চট্টগ্রাম থেকে গণপরিষদ সদস্য ছিলেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

হ্রদ দখল করে ভবন নির্মাণ !

কাপ্তাই হ্রদ থেকে জেগে উঠা কোনো গাছ নয়, হ্রদের ভিতর থেকে উঁকি দেয়া রড। যা …

One comment

  1. সাকার ভূত দেখছি সবখানেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: