নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » সাইকেলের চাকায় অদম্য জীবন

সাইকেলের চাকায় অদম্য জীবন

Tajul-cover-picটানা ১৫২ ঘন্টা সাইকেল চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টিকারী প্রতিবন্দ্বী মো.তাজুল ইসলাম(৫৪)সাইকেলের চড়ে হরেক রকম খেলা দেখাচ্ছেন উপজেরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। খেলার ফাঁকে উৎসক জনতা ও নতুন প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচারণা করছেন ‘যৌতুক, মাদক, বাল্যবিয়ে, এইডস ও দুর্নীতি’র ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে। কিন্তু সরকারের কোন মহল তার এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেয়নি এখনো! অথচ ‘সাইকেলের চাকায় ঘোরে এ প্রতিবন্দ্বীর জীবন চাকা’।
দেশের এই সাইকেল জাদুকর মো: তাজুল ইসলাম একান্ত স্বাক্ষাতকারে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ১৯৭৩-৭৪ সালে ভারতের (জলপাইগুড়ি) সাইকেল জাদুকর মো. এনামুল হকের সাইকেল চালনার দক্ষতা দেখে লক্ষীপুর জেলার রাজীবপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকবুল আহম্মদের পুত্র মো: তাজুল ইসলাম তা আয়ত্ব করার চেষ্টা করেন। পরে সে ওই এনামুল হকের নিকট তা শিখতে যান এবং এক বছরের মধ্যে তা শিখে নেন। একে একে দেখাতে শুরু করেন সাইকেলের জাদু। ১৯৭৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী-৬মার্চ আবাহনী ক্লাবের উদ্যোগে মোহাম্মদপুর ঈদগাঁ মাঠে একটানা ১৫২ ঘন্টা ( ৬ দিন ৭ রাত) সাইকেলে অবস্থান করে হরেক রকম খেলা দেখিয়ে চমক সৃষ্টি করেন শারিরীক প্রতিবন্দ্বি এই তাজুল ইসলাম। এভাবেই ‘সাইকেলের চাকায় ঘোরে এ প্রতিবন্দ্বীর জীবন চাকা’। সারা দেশের ১০ হাজার স্কুল-কলেজে এই ক্রীড়ানৈপূন্য দেখাতে গিয়ে তিনি ভাবেন মাদক, যৌতুক,বাল্যবিয়ে, এইডস নিয়ে। নিজ উদ্যোগে শুরু করেন এসব প্রাণঘাতি রোগের কুফল ও প্রতিকারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে। তার গায়ে ও মাথায় ব্যবহৃত গেঞ্জি এবং টুপিতে এসব রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার নাম লিখে তা জনসম্মুখে তুলে ধরেন তিনি। খেলার অবসরে সাইকেলে বসে পানি পান কালে দর্শকদের উদ্দেশ্যে এ নিয়ে কথা বলেন মো.তাজুল ইসলাম। কিন্তু এভাবে প্রতিনিয়ত এতগুলো প্রাণঘাতি রোগের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মদের সর্তক করলেও এ দেশের কোন ব্যক্তির নজর কাড়তে পারেননি এখনো! এ প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মাদক ,যৌতুক,এইডস, বাল্যবিয়ে নিয়ে সরকারের পাশা-পাশি দেশী-বিদেশী সংস্থাগুলো কতই না প্রচারণা চালাচ্ছে ,কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। আমার এ আহব্বানের প্রতি কারো নজর পড়ছে না! তবুও আমি থেমে যাবো না নতুন বছরে নতুন প্রত্যয় নিয়ে শুরু করছি ওই সব প্রচারণার পাশা-পাশি
দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে…
গত এক সপ্তাহ ধরে মানিকছড়ির বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার ক্রীড়ানৈপূণ্য চলছে। গতকাল ১০ মার্চ বিকালে সরকারী হাইস্কুল মাঠে এ নৈপূণ্য প্রদর্শন শেষে কথা হয় প্রতিবেদকের সাথে। মানিকছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির অনুরোধে তিনি এখন থেকে দেশ ব্যাপি তার ক্রীড়ানৈপূণ্যের ফাঁকে উৎসক জনতার ভীড়ে‘ মাদক ,যৌতুক,এইডস, বাল্যবিয়ের পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবেন বলে ও আশ্বস্থ করেন। তার সর্বশেষ আশা এসব বিষয়ে একটি বই প্রকাশ করবেন তাই সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মৌলিক সুবিধাবঞ্চিত রামগড়ের গারোরা

পাহাড়ে গারোদের কষ্টের জীবন। খাগড়াছড়ির রামগড়ে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করলেও নেই তাদের মৌলিক কোন …

Leave a Reply