নীড় পাতা » ব্রেকিং » সাংবাদিক প্রশিক্ষণে এরা কারা?

অনিয়মের অভিযোগ এনে এক সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহার

সাংবাদিক প্রশিক্ষণে এরা কারা?

দেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ পেশাগত উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’র (পিআইবি) রাঙামাটির প্রশিক্ষণে সাংবাদিক বাছাইয়ে ‘অনিয়ম’ আর ‘অসাংবাদিকদের’ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ ওঠেছে। এই অভিযোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক।

গত শনিবার থেকে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’র (পিআইবি) আয়োজনে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ‘শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক রিপোর্টিং প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা শুরু হয়। রোববার এসকল অভিযোগ এনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা বর্জন ও পিআইবি মহা-পরিচালক বরাবর অভিযোগে দায়ের করেন বেসরকারি স্যাটেলাইন চ্যানেল দীপ্ত টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী।

অভিযোগ ওঠেছে, শনি ও রোববার (২৬-২৭ অক্টোবর) রাঙামাটি প্রেসক্লাব হলরুমে অনুষ্ঠিত কর্মশালা পিআইবি আয়োজনে হলেও প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের তালিকা নির্ধারণ করে দিয়েছে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এমন ঘটনায় রাঙামাটির সাংবাদিক নেতারাও বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন।

পিআইবির আয়োজনে হলেও প্রশিক্ষণে সাংবাদিকদের তালিকা নির্ধারণ করে দিয়েছে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

মহা-পরিচালক বরাবর প্রেরিত অভিযোগে বলা হয়, ‘যারা শিশু ও নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছে; তাদের মধ্যে ৪-৫ জন ছাড়া আর কেউই সাংবাদিক হিসেবে রাঙামাটিতে পরিচিত নয়। অধিকাংশ অসাংবাদিক দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন দেখে প্রশিক্ষণ কমর্শালা থেকে দীপ্ত টিভির রাঙামাটির প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী প্রতিবাদ করে নিজের নাম লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন।’

দু’দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, এ প্রশিক্ষণে এমন লোকজনকে আনা হয়েছে যাদেরকে আমরা আগে থেকে চিনতামও না। প্রশিক্ষণের পরিচয় পর্বে এক ব্যক্তি নিজ পত্রিকা/প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি দিলেও পত্রিকার সম্পাদকের নাম বলতে পারেননি! এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের রাঙামাটি প্রতিনিধি হিসেবে রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি কর্মরত আছেন বলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে জেনে আসছি। এছাড়া যারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেনা; তারাও সে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কর্মশালা অংশগ্রহণ করেছে। এটা সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ আচরণ। ভবিষ্যতেও এ ধরণের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকদের নীতি নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।’

প্রশিক্ষণের পরিচয় পর্বে এক ব্যক্তি নিজ পত্রিকা/প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি দিলেও পত্রিকার সম্পাদকের নাম বলতে পারেননি! এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের রাঙামাটি প্রতিনিধি হিসেবে রাঙামাটি প্রেসক্লাব সভাপতি কর্মরত আছেন বলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে জেনে আসছি। এছাড়া যারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেনা; তারাও সে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কর্মশালা অংশগ্রহণ করেছে

তারা অভিযোগ করেন, ‘প্রথমদিনের কর্মশালায় দুই ঘন্টা অংশগ্রহণ করে চলে এসেছে, পরবর্তীতে দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় দুপুরে গিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এমন ব্যক্তিও পিআইবির মত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণের সনদ গ্রহণ করেছে!’

প্রথমদিনের কর্মশালায় দুই ঘন্টা অংশগ্রহণ করে চলে এসেছে, পরবর্তীতে দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় দুপুরে গিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এমন ব্যক্তিও পিআইবির মত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণের সনদ গ্রহণ করেছে

এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী দীপ্ত টিভির রাঙামাটি প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আমি অবাক হলাম, কী করে পিআইবির মত প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এমন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অসাংবাদিকরা স্থান পেল? এটি খুবই ন্যাক্কারজনক ও অপমানজনক সাংবাদিকদের জন্য। শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমনটি করা উচিত নয়। এমনকি বিএনপি জামায়াত সম্পৃক্ত ছেলেদের নিয়ে নাম সর্বস্ব কথাকথিত ডটকম থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই আমি এর প্রতিবাদ করে প্রশিক্ষণ থেকে আমার নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি। রাঙামাটি প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এমনটি করবে ভাবতেই অবাক লাগে।’

নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এমনটি করা উচিত নয়। এমনকি বিএনপি জামায়াত সম্পৃক্ত ছেলেদের নিয়ে নাম সর্বস্ব কথাকথিত ডটকম থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তাই আমি এর প্রতিবাদ করে প্রশিক্ষণ থেকে আমার নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি

রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান রাজন বলেন, ‘সিনিয়র সাংবাদিকদের মাঝে নীতি নৈতিকতা থাকা উচিত। এভাবে অসাংবাদিকদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো খুবই দুঃখজনক। জুনিয়র সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয়াতে কোনো আপত্তি নেই। তবে সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে নিজ আত্মীয় স্বজনদের প্রশিক্ষণে নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিম্ন মানসিকতার পরিচয় বহন করে। কোনো অনলাইন পত্রিকা বা অনলাইন টিভির আইডি কার্ড ও ক্যামেরা থাকলেই সাংবাদিক হয়ে যায় না।’

সিনিয়র সাংবাদিকদের মাঝে নীতি নৈতিকতা থাকা উচিত। এভাবে অসাংবাদিকদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করানো খুবই দুঃখজনক। তবে সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে নিজ আত্মীয় স্বজনদের প্রশিক্ষণে নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিম্ন মানসিকতার পরিচয় বহন করে

এ ব্যাপারে প্রেস ইনস্টিউট বাংলাদেশ’র (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, ‘আমরা সাধারণত প্রেসক্লাবকে বিশ্বাস করি। কিন্তু তারা এমনটি করবে বুঝতে পারিনি। এর জন্য রাঙামাটি প্রেসক্লাবই দায়ী, কারণ সাংবাদিকদের তালিকা তারাই দিয়েছে। আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম, তখন আমিও বুঝতে পেরেছিলাম, আমার বক্তব্য অংশগ্রহণকারীরা মাথায় ধারণ করার ক্ষমতা নেই। তাই আমি পরের সেশনে ছিলাম না। ভবিষতে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। আর এমন ঘটনা ঘটলে রাঙামাটিতে আর প্রশিক্ষণ করানো যাবে না।’

আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম, তখন আমিও বুঝতে পেরেছিলাম, আমার বক্তব্য অংশগ্রহণকারীরা মাথায় ধারণ করার ক্ষমতা নেই। তাই আমি পরের সেশনে ছিলাম না। ভবিষতে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। আর এমন ঘটনা ঘটলে রাঙামাটিতে আর প্রশিক্ষণ করানো যাবে না

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নতুন ২০ জনসহ রাঙামাটিতে শনাক্ত বেড়ে ৬৭৭

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার আসা রিপোর্টে জেলায় নতুন …

Leave a Reply