নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি ‘অষ্টম শ্রেণী পাশ’,বাকীরা ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ !

সর্বোচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি ‘অষ্টম শ্রেণী পাশ’,বাকীরা ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ !

langudu-cover-pic-02পুনর্বাসিত বাঙালী অধ্যুষিত উপজেলা লংগদু। এখানে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন চার প্রার্থী। মজার ব্যাপার হলো এই চার প্রার্থীর মধ্যে একজনের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেনী পাশ ! বাকীরা সবাই স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন ! আর সর্বোচ্চ শিক্ষিত (!) জন আবার গত পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন করছেন। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন,যিনি বিএনপির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ বাকী তিন প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আব্দুল বারেক সরকার,বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী ফয়েজুল আজিম এবং উপজেলার ‘বিশিষ্ট’ ঠিকাদার মো: সাইফুল ইসলাম।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় এই প্রার্থীরা নিজেদের যেসব তথ্য দিয়েছেন,তা পর্যালোচনা করেই তাদের শিক্ষা দৈনদশার চিত্র পাওয়া গেছে। শুধু শিক্ষায় ঘাটতিই নয়, আওয়ামী লীগের বারেক সরকার ছাড়া বাকী তিনজনের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা !

বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী মো: তোফাজ্জল হোসেন অষ্টম শ্রেনী পাশ। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে রাঙামাটির চীফ জুডিসিয়াল আদালতে একটি মামলা চলছে,যার মূল নথির জন্য তিনি অপেক্ষ করছেন বলে জানিয়েছেন, এছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা হলেও তা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
পেশায় ‘মৌসুমী ব্যবসায়ী’তোফাজ্জলের কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার,ব্যবসা থেকে ১ লক্ষ টাকা। তবে গত পাঁচ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেব দায়িত্ব পালনকালে প্রাপ্ত সম্মানীর হিসান দেননি তিনি তার হলফনামায়।
তোফাজ্জলের নগদ টাকা আছে ৩ লক্ষ,ব্যাংকে স্ত্রীর বা নিজের নামে কোন টাকা নেই, তবে স্ত্রীর ২ ভরি স্বর্ণ আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তার নিজের নামে ১৩.৭৫ একর কৃষি জমি,স্ত্রীর নামে ৫ একর জমি,নিজের নামে ২ টি কাচাবাড়ী,মৎস খামার এবং আমবাগান আছে। উপজেরার মধ্যম ঘনমোড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা তোফাজ্জলের কোন দায়দেনা নাই।
বিএনপি’রই বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী মো: ফয়েজুল আজিম। পড়াশুনায় ‘স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন’। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলমান এবং এর আগের দুটি মামলায় নিদোর্ষ হয়ে খালাস পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ফয়েজুল আজিমের পেশা ঠিকাদারি ও কৃষি। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার,ভাড়া থেকে ১ লক্ষ,ব্যবসা থেকে ৫ লক্ষ টাকা ,সঞ্চয়ত্র/শেয়ার থেকে ৩ হাজার,প্রার্থীর উপর নির্ভরশীলের পেশা থেকে আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
ফয়েজের নিজ নামে ৪ লক্ষ টাকা নগদ,ব্যাংকে ৫০ হাজার,স্ত্রীর স্বর্ণ ৪ ভরি,নিজের ১ টি মোটর সাইকেল,
এছাড়া নিজের নামে ৪ একর কৃষিজমি,স্ত্রীর নামে ২.১৫ শতক জমি,নিজের নামে ৩.৫০ শতক অকৃষি জমি,৪ টি দোকান প্লট ও দালান,২টি টিনশেড বাড়ী আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আব্দুল বারেক সরকার নিজেকে ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ বলেই জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র কোন মামলার আসামী না হওয়া বারেক এর পেশা মৎস ব্যবসা ও কৃষিকাজ। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকা,ব্যবসা থেকে ৩ লক্ষ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় ব্যবসা থেকে ২ লক্ষ টাকা,চাকুরি থেকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাক। া
বারেক এর নিজের কাছে নগদ টাকা ৫০ হাজার,স্ত্রীর কাছে ৪০ হাজার টাকা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রীর ৩ ভরি স্বর্ণ,নির্ভরশীলদের ৫ ভরি স্বর্ণ আছে। তার ৩ টি দেশীয় ইঞ্জিনচালিত বোট আছে বলে তথ্য দিয়েছেন তিনি।
তার নিজের নামে ১.২ একর,স্ত্রীর নামে ১ একর ও নির্ভরশীলদের নামে ২ একর কৃষি জমি আছে, নিজের নামে ০.৪০ একর অকৃষি জমি এবং সেমি পাকা বাড়ী ১টি,টিনশেড বাড়ী ১ টি আছে। এবং লংগদু সোনালী ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকার ঋন আছে তার।

একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: সাইফুল ইসলামও ‘ স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীন। ঠিকাদারি পেশার সাথে জড়িত সাইফুলের ভাড়া থেকে বছরে আয় ২৪ হাজার,ব্যবসা থেকে ৫ লক্ষ। তার হাতে নগদ টাকা ২ লক্ষ থাকলেও ব্যাংকে কোন টাকা নাই, তবে তার স্ত্রীর ৩ ভরি স্বর্ণ আছে।
সাইফুল এর নিজের নামে ৫ শতক অকৃষি জমি,১টি দোকান প্লট যার মূল্য ৮ লক্ষ ,২ টি সেমিপাকা বাড়ী যার দাম ১০ লক্ষ টাকা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ১৫ লক্ষ টাকার দেনাদার বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদশার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

যাযাবর জীবন; মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের ভাষা বোঝে। সব সময় চুপচাপ থাকা পঞ্চাশোর্ধ মানুষটি অনেকের …

Leave a Reply