নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো ঝুলে আছে’

‘সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো ঝুলে আছে’

Headman-Confarance-Picture-সরকারের বিভিন্নমুখী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা)। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি সম্পাদনের ১৬বছর পরও সরকার চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো হাতের মুঠোয় রেখে দিয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বা হচ্ছে। তিনি শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক আয়োজিত এ সম্মেলন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
সন্তু লারমা আরো বলেন, সরকার ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে ২০০১সালে আইন করলেও এরপর বৈঠকের পর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু কোনো কাজই হয়নি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হেডম্যানরা ডেপুটি কমিশনারের অধীস্থ কোনো কর্মচারী নন। কিন্তু তারপরও হেডম্যানদের ডেপুটি কমিশনারের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাতে হয়। ডেপুটি কমিশনারগণ পরিবর্তিত আইনে কোনো কাজ করেন না।
শক্তিপদ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও থোয়াই অং মারমার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বৃষকেতু চাকমা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড, শামীম ইমাম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার মিজ লিনা জেসমিন লুসাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শান্তিবিজয় চাকমা।
সন্তু লারমা বলেন, হেডম্যানরা তাঁদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি মুখ্য হিসেবে সরকারের কাছে তুলে না ধরে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। পার্বত্য চুক্তির আলোকে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অধীনে হেডম্যানদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা চুক্তি অনুযায়ী জেলাপ্রশাসক শব্দটি বলতে পারি না। কিন্তু এখন জেলাপ্রশাসক শব্দটিই ব্যবহার করা হচ্ছে। যা চুক্তির সুস্পষ্ট লংঘন। চুক্তিতে ডেপুটি কমিশনার উল্লেখ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এছাড়া জেলার আইনশৃঙ্খলা সভা জেলা পরিষদের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা করছে ডেপুটি কমিশনার।
ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, আমাদের যে সম্পদ আয়ত্ত্বের বাইরে রয়েছে তার জন্য আমরা প্রচুর সময় ও শ্রম দিচ্ছি, কিন্তু যা আয়ত্ত্বে রয়েছে তা নিয়ে আমরা সময় ও শ্রম ব্যয় করছি না। এতে আমাদের মৌলিক কাজগুলো করা যায় না। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারলে দ্বন্দ্ব কমে আসবে, ফলে সামাজিক ঊন্নয়ন বেশি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা ভূমি জরিপকে ভয় পাই। কারণ এটা কানুনগোদের বিচার। চুক্তি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিরসনের পরই জরিপের কথা বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান জেলাপ্রশাসন উন্নয়নে বিশ্বাসী। আমরা উন্নয়নবিরোধী কোনো কাজকে সমর্থন করি না। তিনি বলেন, অধিকার আদায়ের জন্য সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। হেডম্যানদের শিক্ষিত হয়ে মেধা বিকশিত করতে হবে। তবেই এলাকার উন্নয়ন হওয়া সম্ভব।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বৃষকেতু চাকমা বলেন, হেডম্যানদের দাবি আদায়ের জন্য সংগঠনকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। হেডম্যানদের তাঁর নিজ এলাকার একটি ম্যাপ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রথম অধিবেশন শেষে দুপুরে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাদশার ঠাঁই হলো বৃদ্ধাশ্রমে

যাযাবর জীবন; মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও মানুষের ভাষা বোঝে। সব সময় চুপচাপ থাকা পঞ্চাশোর্ধ মানুষটি অনেকের …

Leave a Reply