নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘সরকারের কারণেই আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ শক্তিশালি হতে পারছেনা’

‘সরকারের কারণেই আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ শক্তিশালি হতে পারছেনা’

Larma-Pic-07.12.2013‘সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় পার্বত্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী মশিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা  যে আন্তরিক আগ্রহ ও সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন,তারই ধারাবাহিকতায় এরশাদ আমলে ৬ টি সংলাপ,খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৩ টি সংলাপ এবং সর্বশেষ শেখ হাসিনার সরকারের সময় ৭ টি সংলাপসহ মোট ২৬ টি সংলাপের ফল ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’। এই চুক্তি সাক্ষরের পেছনে এদের সবার অবদান বা ভূমিকা আছে,কোন বিশেষ দল বা সরকার এর সফলতার একক দাবিদার নয়,হতে পারেনা।’

শনিবার রাঙামাটিতে ‘ ১৬ তম পার্বত্য চুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে চুক্তির বর্তমান অবস্থা ও করণীয় শীষক এক মতবিনিময় সভায় এইসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা সন্তু। ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে সন্তু লারমা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এর রবার্ট স্টলম্যান,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রজ্ঞন চাকমা,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নির্মল কান্তি চাকমা।

সন্তু লারমা,চুক্তি সম্পাদককারি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে বলেন,তারা চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে পারেনি। গত পাঁচ বছরে চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি ৫ টি সভা করলেও কমিটি আর কোন দায়িত্ব পালন করেনি,কোন কাজও করেনি বলে অভিযোগ আনেন তিনি।

সন্তু লারমা পার্বত্য শান্তিচুক্তি সাক্ষরের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন,জনসংহতি সমিতির ৫ দফা দাবির প্রেক্ষিতেই সবগুলো সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে শুরুতে সেনাবাহিনীই সরকার পক্ষে সংলাপে অংশ নিলেও পরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সংলাপে নেতৃত্ব দেন বলেও জানান তিনি। জনসংহতি সমিতির পক্ষে একটি সংলাপ কমিটি এইসব সংলাপে অংশ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংলাপের স্মৃতিচারণ করে সন্তু লারমা বলেন, এইসব সংলাপে রাজনৈতিক কূটচাল যেমন ছিলো,তেমনি ছিলো অনেকের উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতাও। Santu-Pic-02

সন্তু লারমা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন,আঞ্চলিক পরিষদ যেনো অকার্যকর থাকে সেইজন্য যা যা করার দরকার সরকার সব করছে,সরকারের কারণেই আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ সক্ষম ও শক্তিশালি হতে পারছেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জনসংহতি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা,অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী,সাবেক স্থানীয় সরকার পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান,আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য স্নেহ কুমার চাকমা,এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিজয় কেতন চাকমা,সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে,হরিকিশোর চাকমা,সাখাওয়াত হোসেন রুবেল,সুশীল প্রসাদ চাকমা প্রমূখ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিবের অনুপস্থিতে ক্ষেপেছেন ডিসি !

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ও কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এটিএম …

Leave a Reply