নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সরকারী পে-লোডার, তেল আর জনবল দিয়ে ঠিকাদারের কাজ !

সরকারী পে-লোডার, তেল আর জনবল দিয়ে ঠিকাদারের কাজ !

pic-01খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগে অনিয়ম আর চরম বিশৃংখলা চলছে। সেতু উন্নয়নের নামে নির্বিচারে পাহাড় কর্তন এবং ওই পাহাড়ের মাটিই সওজের পে-লোডার ব্যবহার করে ঠিকাদারের রিটেইনিং ওয়ালের ফিলিং কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে একই সাথে সরকারী পে-লোডার, অর্থ এবং জনবল ব্যবহার হচ্ছে।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সড়কবিভাগের তত্তাবধানে সাড়ে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে জিওবি‘র অর্থায়নে ৭টি বেইলী সেতু নির্মানের কাজ চলছে। একই সময়ে জাপানের অর্থায়নে জাইকার ১শ ২১ কোটি ব্যয়ে ৮টি সেতুর কাজ শুরু হলেও সওজের কাজের গতি খুবই কম। অন্যদিকে জাইকার সেতুর অধিকাংশই নির্মান কাজ প্রায় শেষের পথে। যথাযথ তদারকির অভাব এবং সওজের অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনেই মূলত: সেতুগুলোর উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ব্যঙমারায় সওজের সেতু নির্মান করতে গিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বিশাল বিশাল পাহাড়কাটা হচ্ছে। খাড়াখাড়িভাবে পাহাড়কাটার ফলে দূর্ঘটনার আশংকাও দেখা দিয়েছে। পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ক্ষতিও নিরুপন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইসমাইল পাহাড় কাটার বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, এটা কোন সমস্যা নয়। পাহাড় কাটার জন্য সড়ক বিভাগের অনুমতি লাগেনা।
অভিযোগ উঠেছে, সড়ক বিভাগের অধীনে খাগড়াছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১০ কিলোমিটার এলাকায় রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেন ও কিছু কিছু স্থানে সড়ক সংস্কার প্রকল্পের ব্যঙমারা ও সাপমারা নামক এলাকায় রিটেইনিংওয়ালে ফিলিং কাজে মাটি ব্যবহারের জন্যই মূলত: বিশাল পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। শুধু তাই নয়; সরজমিন দেখা যায়, সওজের পে-লোডারটি দিয়ে পাহাড়ের মাটি তুলে দেয়া হচ্ছে ওই কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ট্রাকে। ওই মাটিই নিয়ে ফেলা হচ্ছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে রিটেইনিংওয়ালের ফিলিং কাজে। গত ২৭ আগষ্ট হতে (দেড় সপ্তাহ) সরকারী পে-লোডার ব্যবহার করে সওজের চালক এই অনিয়মটি করছেন।
ফেলোডার চালক চাইথোয়াই মারমা নিজেও অকপট স্বীকার করে বলেন, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেকের নির্দেশে তিনি এই অনিয়মটি করতে বাধ্য হচ্ছেন। চালক জানান, মাত্র ৩/৪দিন ধরেই সরকারী ফেলোডার দিয়ে সারাদিন ঠিকাদারের কাজে তিনি নিয়োজিত রয়েছেন। অবশ্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ট্রাকের চালক মো: মামুন জানান, ২ সপ্তাহ যাবত তাদের ৮টি ট্রাকে করে রিটেইনিং ওয়ালের জন্য মাটি ফেলছেন। সওজের পে-লোডার ট্রাকে মাটি তুলে দিচ্ছে। অন্যদিকে সওজের ট্রাক চালক আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, সওজের ট্রাক দিয়ে কোন কাজই হয়নি।
দু‘দিন আগে দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেদক ঘটনাস্থলের (পাহাড় কাটা ও ফেলোডার) ছবি ও তথ্য সংগ্রহের মূহুর্তেই পৌছান সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক। তার সামনেই ফেলোডার দিয়ে ঠিকাদারের ট্রাকে মাটি তোলা হচ্ছিল। এসময় প্রকৌশলী খুবই বিব্রত হন এবং প্রতিবেদককে বোজানোর চেষ্টা করেন। তার সামনে ঘটনার পরও তিনি অস্বীকার করে বলেন, সড়কের কাজের জন্য সওজের ট্রাকে মাটি ফেলা হচ্ছিল।khagrachari-pic-08-09-2014-

জানা গেছে, দৈনিক প্রতিটি পে-লোডারের জন্য দেড়শ লিটার ডিজেল বরাদ্দ থাকে। যদি একসপ্তাহ ধরা হয়; তাহলে সরকারের আনুমানিক ৬৪ হাজার টাকার তেল খরচ হয়। চালক তো আছেই। তাছাড়া পে-লোডারটিও ভাড়া নেয়া হয়নি। রিটেইনিং ওয়ালের ঠিকাদারের সাথে প্রকৌশলীদের সাথে যোগসাজসে বিপুল পরিমান সরকারী অর্থের লোপাট হয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইলের সরাসরি দাবী, তিনি কিছুই জানেন না। সহকারী প্রকৌশলীই জানতে পারেন। তবে, ঠিকাদার ফেলোডারটি ভাড়া নেয়নি বলে জানান।

সওজ সূত্র জানিয়েছে, ব্যঙমারা সেতুর জন্য পাহাড় কর্তনে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ব্যয় ধরা হয়। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি-জালিয়াপাড়া অংশের ১০ কিলোমিটার এলাকায় রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেন ও সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮ কোটি। সূত্রটি ঠিকাদারের নাম ‘জীবন’ বললেও পূর্ন নাম জানাননি। এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আরএবি আরসি প্রাইভেট লিমিটেড।’ ওই প্রতিষ্ঠানের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply