সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপিতে তোড়জোর

BNP-BNPআগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জেলা বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে ক্রমশঃ নানা নাটকিয়তার সৃষ্টি হচ্ছে। এক পক্ষ দীপেন দেওয়ানকে আউট করার আবার আরেকটি পক্ষ দীপেন দেওয়ানকে বহাল রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্র এখন আলোচনা জেলা বিএনপি’র নির্বাচন ঘিরেই। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বুলি আউড়িয়ে দীপেন দেওয়ানকে আকড়ে রাখতে চান, আবার কেউবা নতুনত্বের কথা বলে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে চান।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সর্বশেষ পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন। যদি সব চেষ্টা বৃথা যায় তখন নির্বাচনের মাধ্যমেই আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে বলে জানান। ধারণা করা হচ্ছে,নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে রাঙামাটি বিএনপি।

তবে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মূলত: দীপেন-মামুন ও শাহ আলম-দীপন প্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দলীয় কোন্দল এতোদিন সংগঠনের অভ্যন্তরে থাকলেও জেলা সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফলে নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই নিজেদের সমর্থনের কথা অকপটেই স্বীকার করছেন।

জেলা ছাত্রদল সভাপতি আবু সাদাৎ মোঃ সায়েম জেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে মোঃ শাহ আলম ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দীপেন তালুকদারের প্রতি নিজের ও জেলা ছাত্রদলের সমর্থনের কথা এক বাক্যেই স্বীকার করেছেন।

নানা যুক্তি তুলে ধরে একই কথা বলেছেন জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিলও। তিনি জানান, পার্বত্যাঞ্চলের প্রেক্ষাপটে এমপি-মন্ত্রী কিংবা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য উপজাতিই হতে হবে। সে হিসেবে বাঙালীরা জেলার দলীয় পদেই শুধু থাকতে পারেন। তিনি জেলা বিএনপি’র বর্তমান সভাপতি দীপেন দেওয়ানের এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আছে উল্লেখ করে বলেন, সভাপতি হিসেবে তিনি অনেকদিন ছিলেন। এবার জেলা সভাপতি হিসেবে মোঃ শাহ আলম ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে দীপেন তালুকদারকেই সমর্থন করছেন। এতে করে দলে দলে পাহাড়ি-বাঙালীর ব্যালেন্স হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয়তাবাদি সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য-সচিব আবুল হোসেন বালিও মোঃ শাহ আলম-দীপন প্যানের প্রতিই নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেন, কোন ভাড়াটে নয়,বিএনপি পরিচালিত হবে বিএনপির তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের দিয়েই।

জেলা মহিলা দলের আহবায়ক মিনারা আরশাদ সরাসরি না বললেও কথার ছলে দীপেন-মামুন প্যানেলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথাই ইঙ্গিত করেছেন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক জসীম উদ্দিন ও শ্রমিকদলের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন অকপটেই বলেছেন দীপেন-মামুনের প্রতি সমর্থন।

তবে ওলামা দলের জেলা আহবায়ক মাওলানা আবুল কাশেম স্পষ্ট করে কিছু না বললেও প্যানেলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজের সমর্থন পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন।

মুক্তিযোদ্ধা দলের যুগ্ম আহবায়ক বেলাল হোসেন ঠিকাদার ও তাঁতী দলের ওসমান গনি সরাসরি কোনো পক্ষের সমর্থন স্বীকার না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দলের জন্য যোগ্য ও দক্ষ সংগঠক নির্বাচনের উপর জোর দেন।
বিএনপি’র জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও জেলা সহ-সভাপতি আবু নাছির জানান, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইতোমধ্যেই দলের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে মিটিং করেছি। নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছে তাদের নিয়ে প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে,তা না হলে নির্বাচনের দিকেই যাবো আমরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply