নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » সম্ভাবনাময় পার্বত্য তিন জেলায় রেশম চাষ প্রকল্পের মেয়াদ আরো একবছর বৃদ্ধি

সম্ভাবনাময় পার্বত্য তিন জেলায় রেশম চাষ প্রকল্পের মেয়াদ আরো একবছর বৃদ্ধি

reshom1পার্বত্য জেলায় রেশম চাষ প্রকল্পের মেয়াদ আরো একবছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। রাঙামাটি রেশম বোর্ড রাঙামাটি রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা রেশম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প-২ এর মাধ্যমে তিনবছর মেয়াদী এ প্রকল্প ২০১১ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রত্যাশিত বরাদ্দ অনুমোদনে দেরি হওয়ার কারণে প্রকল্পের কাজ ৬৬% শেষ হয়, বাকী ৩৪% কাজ সমাপ্ত করার জন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা রেশম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের-২ এর হিসাব অনুযায়ী পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত এ প্রকল্পে উপকারভোগীরা প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সুতার উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
রাঙামাটি রেশম বোর্ডের অধীনে তিনটি সাব-সেন্টার থেকে লংগদু, বেতবুনিয়া, কাউখালী ও রাঙামাটি সদরের বিভিন্ন প্রান্তিক চাষীদের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিনামূল্যে ৩৪,০০০ হাজার তুঁত চারা গাছ লাগানো হয়েছে। এসময় চারাগাছের পাশাপাশি খুঁটি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, পোকার ডিম, বাঁশের ট্রে, র‌্যাকসহ আরো বিভিন্ন উপকরণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এ চারাগাছ থেকে দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে পাতা সংগ্রহ করা যাবে। এসময় চাষীদেরকে বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ডিম সরবরাহ করা হয়। এ ডিম থেকে তুঁত গাছের পাতার মাধ্যমে পোকা পালন করা হয়। ডিম থেকে ২০-২২ দিনের মধ্যে পোকা পাওয়া যায়। এ প্রক্রিয়াকে পলু পালন বলা হয়। পলু পালন সফলভাবে শেষ হলে এ পোকা থেকে কাঁচা গুটি পাওয়া যায়, যা সুতা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত। এ কাঁচা গুটি থেকে সুতা উৎপাদন করা হয়। জুলাই ২০০৮ থেকে শুরু হওয়া তিন বছর মেয়াদের এই প্রকল্পের সময় আগামী জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চার লক্ষ চারা রোপণ করা হবে। প্রকল্পে সুবিধাভোগী চাষীর সংখ্যা ধরা হয়েছে দুই হাজার। প্রকল্প সূত্র জানায় তিন পার্বত্য জেলা ব্যপৃত এই প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৯ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা, এর মধ্যে ১ কোটি ৭৬লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে ব্যয় করা হয়েছে।
রাঙামাটি রেশম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ম্যানেজার(সম্প্রসারণ) মোঃ ওয়ারেছ মোল্লা জানান, আমার চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, অন্যান্য জেলা থেকে এ পার্বত্যাঞ্চলের আবহাওয়া ও মৃত্তিকা রেশম উৎপাদনের সবচেয়ে বেশি উপযোগী। । রাঙামাটিতে যে পরিমাণে চারাগাছ ও ডিম বিতরণ করা হয়েছে তা থেকে আশা করছি এবছর প্রায় ২০০ কেজি হিসেবে ৪ বন্দে ৮০০ কেজি কাঁচা গুটি পাওয়া যাবে। এ কাঁচা গুটি প্রতি কেজি প্রায় ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এভাবে প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত এ চারাগাছ থেকে পলুপালন করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা চাষীদেরকে চারা রোপণ এর পর থেকে পলু পালন সময় পর্যন্ত মোট ৫টি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এতে চাষীরা এ চাষ সম্বন্ধে প্রচুর জ্ঞান লাভ করে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাসমূহে রেশম চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাঞ্চন বরণ দাশ জানান, এ প্রকল্প শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আরো প্রকল্প গ্রহণ করার ইচ্ছা আছে। যদি সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল ও সরকারী বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো যায় তবে পার্বত্যাঞ্চল থেকে সুতা উৎপাদনের কাঁচামাল কাঁচাগুটি প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, চলমান প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও আমরা আরো একবছর এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছি। বর্তমান প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ৩০ বছর এ প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বসুন্ধরা এলপিজি’কে শুভেচ্ছা স্মারক দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের

এলপিজি গ্যাসকে সহজলভ্য করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে পাহাড়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ …

Leave a Reply