নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » সবুজ পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন

সবুজ পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন

Lama-Orange-Photo,--29-Nov'চলতি মৌসুমে বান্দরবানের লামা উপজেলার সবুজ পাহাড়ে কমলার বাম্পার ফলন হয়েছে। এক সময় এখানের পাহাড়গুলোতে ফলদ, বনজ গাছের বাগান ও জুমের ব্যাপক আবাদ হত। বেশ কয়েক বছর ধরে কমলার উপজেলা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে এ উপজেলা। অধিকাংশ পাহাড় এখন কমলার থোকায় ভরে উঠেছে। সর্বত্র সচরাচর বিক্রি হচ্ছে উৎপাদিত টস্টসে রসালো কমলা। এখানের কমলা স্বাদ ও আকারের দিক থেকে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কমলার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তাই দিন দিন কদর বাড়ছে এ কমলার। এছাড়া এখানকার পাহাড়ের মাটি, আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগি এবং কমলা চাষে লাভের মুখ দেখায় চাষিরা কমলা চাষের দিকে দিন দিন ঝুঁকে পড়ছেন। প্রতিদিনই এখানে উৎপাদিত কমলা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। পাহাড়ে উৎপাদিত কমলা বিক্রি করে উপজেলার দেড় সহস্রাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি চাষি আর্থিকভাবে পরিবার লাভবান হয়েছেন। সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থাগুলো আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে পরিকল্পিত কমলা চাষে সহযোগিতা করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তবে এতদ্বঞ্চলে কোনও হিমাগার না থাকায় চাষিরা কমলার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লামা উপজেলায় ১০৯ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে কমলার চাষ হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেবমতে এর পরিধি দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দরিদ্র পাহাড়ি পরিবারগুলোকে জুম চাষ থেকে ফিরিয়ে আনতে বিকল্প কমলা চাষের প্রকল্প হাতে নেয়। কমলা চাষের মাধ্যমে জুমিয়াদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ২৪০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণসহ বিনামূল্যে চারাও বিতরণ করা হয়।

স্থানীয় মুরুং সম্প্রদায়ই এ চাষে বেশি উদ্যোগি। তারা অবৈজ্ঞানিকভাবে বীজ সংগ্রহ করে পাহাড়ের মাছাংয়ের ওপর পলিব্যাগ করে চারা উৎপাদন করে পাহাড়ি ভূমিতে রোপণ করেন। সাধারণত চারা লাগানোর ৫-৬ বছর পর থেকে কমলা উৎপাদন শুরু হয়। মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে ফুল থেকে ফল এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে ওই ফল পাঁকতে শুরু করে। এক একটি কমলা গাছে গড়ে ১ হাজার থেকে ৩ হাজারের বেশি কমলা ধরে। একটানা ১৫ বছর পর্যন্Í ফলন দিয়ে থাকে এ গাছ। দুই তিন দিন পরপর গাছ থেকে কমলা উত্তোলন করা যায়। কৃষকরা জানায়, অন্যান্য আবাদের চেয়ে এ আবাদ অনেকাংশে ঝামেলা কম ও পাহাড়ের মাটি ক্ষয় রোধে সহায়ক এবং লাভ বেশি। ৯ বছর পূর্বে প্রথম লুলাইং ও তার আশপাশ এলাকার পাহাড়ের বেশ কয়েকজন মুরু সম্প্রদায় ব্যাক্তি উদ্যোগে কমলা চাষ শুরু করে। তাদের সাফল্য দেখে অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও উৎসাহিত হয়।

কৃষি অফিসের সহযোগিতার কথা জিজ্ঞাসা করলে চাষি লুলাইং এলাকার চাষি মেনলক মুরুং জানান, আমরা উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কোন সহযোগিতা পাই না। ভালো বীজ, কীটনাশক ও সার যদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যেত তবে আরও বেশি লাভবান হওয়া যেত। তবে চাষিরা জানায়, কমলা বিক্রি করতে কষ্ট করতে এখন বাজারে যেতে হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ক্রেতারা বাগান থেকেই কমলা কিনে নিচ্ছেন। তবে হিমাগার না থাকায় কম দামে পাইকারী বেচে দিতে হচ্ছে কমলা। ফলে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বিধায় এতদ্বঞ্চলে হিমাগার স্থাপনের দাবি তুলেন তারা।

এদিকে লামা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যত্রতত্রে অন্যান্য পণ্যের ন্যায় বিক্রি হচ্ছে কমলা। বাজারের কমলা বিক্রেতা মো. বাহার জানান, রূপসীপাড়ার তাংলে মুরুং এর বাগান থেকে পাইকারি দরে ১০ হাজার কমলা কিনেছেন। ২-৩দিন পর বাগান থেকে কমলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন। প্রতিপিস বড় আকারের কমলা ১৫ এবং ছোট আকারের কমলা ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চট্টগ্রামের পাইকারি কমলা ক্রেতা মো. ফারুক বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার আদিবাসীদের বাগান থেকে প্রতিবছর কমলা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে কমলার সাইজ বড় হওয়ায় বেশি দরে কিনতে হচ্ছে। প্রতিশ কমলা ৫শ থেকে ৮শ টাকায় ক্রয় করে ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকায় চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান ফল বাজারগুলোতে বিক্রি করি।

লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী জানান, কমলা চাষ লাভজনক হওয়ায় জুমিয়ারা জুম চাষ থেকে বেরিয়ে এসে ধীরে ধীরে কমলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এখানে অনেক পাহাড়ি ভূমি অনাবাদি পড়ে আছে। যদি সরকার কিংবা বেসরকারী সংস্থাগুলো আরো বেশি উদ্যোগী হয়ে পরিকল্পিতভাবে অনাবাদি ভূমিতে কমলা চাষ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করে; তাহলে পার্বত্য লামা ও আলীকদমে উৎপাদিত কমলা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হত।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply