নীড় পাতা » ব্রেকিং » সবচেষ্টা ব্যর্থ করে মারা গেলো সেই হাতিটি !

সবচেষ্টা ব্যর্থ করে মারা গেলো সেই হাতিটি !

hatiiiiiiiiiচিকিৎসক ও বন বিভাগের সব ধরণের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি থেকে অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই বন্য হাতিটি অবশেষে মারা গেছে। হাতিটিকে বাঁচানোর জন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকল টিম ১২দিন টানা চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর রোববার দুপুর সোয়া ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু ঘটে বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও শামসুল আজম নিশ্চিত করেছেন। গত ২২ অক্টোবর কাপ্তাই লেকের কলমি ছড়া বিট এলাকায় পানিতে আধা ডুবন্ত অবস্থায় হাতিটিকে উদ্ধার করেন বনবিভাগের কর্মীরা।

বনবিভাগ সুত্র জানায়, প্রথমে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন সনাক্ত করা গেলেও হাতিটি যে গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা প্রথমে চিকিৎসক টিমের কেউ বুঝতে পারেননি। পরে আহত হাতিটির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা উন্নতি হলে ছয়দিন পর হাতির কানের নিচে ও মাথায় গুলির চিহ্ন দেখতে পান চিকিৎসকরা। লেকের পানি থেকে হাতিটি উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগ) ড. ভজন চন্দ্র দাসকে আহবায়ক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও মো. সামশুল আজমকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করেন বন বিভাগ। মেডিকেল টিমের অন্য সদস্যরা হলেন প্রাণী সম্পদ বিভাগ ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ডা. ফরহাদ হোসাইন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিবেক চন্দ্র সূত্রধর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। বন্য হাতিটিকে কারা এবং কেন গুলি করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। পাহাড়ি উপজাতীয় সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠি হাতির মাংস খায়। তাদের কেউ হাতিটিকে গুলি করতে পারেন, আবার বন্য হাতি লোকালয়ে এসে অনেকের ফসল নষ্ট করেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কেউ হাতিটিকে খুব কাছ থেকে গুলি করতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও শামসুল আজম বন্যহাতিটিকে কারা গুলি করেছে তা বের করতে বনবিভাগ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জানিয়ে বলেন, বৈধ না অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হাতিটিকে গুলি করা হয়েছে তা যেমন কমিটি খুঁজে বের করবে পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, গত ২২ অক্টোবর কাপ্তাই লেকের পানিতে ভাসমান অর্ধমৃত অবস্থায় হাতিটিকে উদ্ধারের পর প্রথমে আমরা হাতির শরীরে কোন ক্ষত চিহ্ন দেখতে পাইনি। কিন্তু উদ্ধারের কয়েকদিন পর দেখা যায় হাতিটির মাথায় এবং কানের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। প্রায় ২০ বছর বয়সের হাতিটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। যে কারণে এতদিন সে বেঁচে ছিল। উদ্ধারের পর অনেক চেষ্টায় হাতিটি উঠে দাঁড়াতে পারলেও তাকে কিছুই খাওয়ানো যায়নি। গত প্রায় ১২দিন হাতিটি না খাওয়া অবস্থায় ছিল। তবে তার চিকিৎসায় সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসক দলটি উদ্ধারের পর থেকে সার্বক্ষণিক হাতির কাছেই অবস্থান করেছেন। উদ্ধারের পর থেকে হাতির পেছনে চিকিৎসা বাবাদ লাখ টাকার বেশি অর্থ খরচ হয়। বাঁচানোর জন্য আরো বেশি টাকা খরচ হলেও চিকিৎসায় কোন ত্রুটি রাখা হতোনা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হাতিটির চিকিৎসার জন্য খুলনা থেকে আসা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাঈদ হোসেন বলেন, উদ্ধার হবার পর থেকে হাতিটিকে প্রতিদিন ১৫টি স্যালাইন পুশ করা হয়। কিন্তু এতবড় হাতির পেট শুধু স্যালাইনের পানিতে ভরতো না,তার স্বাভাবিক খাবারের খুব প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সে নিজের শক্তি ও ইচ্ছায় কিছু খেতে পারতোনা। তার শুড় সে নিজে নাড়াতেও পারতোনা। তিনি বলেন আমার চোখের সামনে হাতিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে,খুবই খারাপ লাগছে আমার।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসকের মাধ্যমে মৃত হাতির ২টি দাঁত কেটে নেওয়া হবে। পরে ময়না তদন্ত করে হাতিটিকে মাটি চাপা দেওয়া হবে। তিন মাস হাতি মাটির নিচে চাপা থাকবে। তিন মাস পর মাটি খুঁড়ে তার কংকাল নেওয়া হবে। দাঁত ও কংকাল যাদুঘরে সর্বসাধারনের দেখার জন্য প্রদর্শন করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply