নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » সন্ত্রস্ত দীঘিনালায় সতর্ক প্রহরা

সন্ত্রস্ত দীঘিনালায় সতর্ক প্রহরা

diginala-pic-09গাড়ীর সাইরেন বাজিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র গাড়ী। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয়েছে চেকপোষ্ট। চলছে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি। নির্দিষ্ট সময়সীমার পর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকার যানবাহন চলাচল। কারণ আজ খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলার সর্বশেষ দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীঘিনালাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে এতো নিরাপত্তার পরও আতংক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। কারণ এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ ও জেএসএস এমএন লারমা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এলাকায় এলাকায় ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দিহান কাজ করলেও প্রশাসন বলছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পূর্ণ হবে।
আজ সকাল সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে দুটি পর্যায়ে খাগড়াছড়ির মোট ৭টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। নির্বাচনে মোট ২৫টি কেন্দ্রে ৬৫ হাজার ৮শ ৭৪জন ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ৮ জন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র ৮টি মোবাইল টিম, পুলিশের ২ জন এএসপির নেতৃত্বে ২টি বিশেষ টিম, ৫টি মোবাইল টিম, ২টি স্ট্রাইকিং টিম দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে উপজেলার ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্র অধিক অধিক ঝুঁকিপূর্ন, ৫ ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। একটি কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে হেলিকপ্টার।
দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফজলুল জাহিদ পাবেল বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুত শেষ করেছি। আশাকরি শান্তিপূর্ণ উপায়ে নির্বাচন সম্পূর্ণ হবে।
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন টিুটু জানান, ‘এই নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সর্বচ্চো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকবে ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি। তাই কোথায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে দুইভাগে খাগড়াছড়ির ৭টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে খাগড়াছড়ি সদর, পানছড়ি, লক্ষীছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া মাটিরাঙ্গা ও রামগড় উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, মানিকছড়িতে জেএসএস এমএনলারমা সমর্থিত প্রার্থী ও মানিকছড়িতে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অর্থাভাবে বেতন হচ্ছে না বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের

মহামারী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে …

Leave a Reply