নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » সন্তু লারমা’র বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাহাড়ে

সন্তু লারমা’র বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাহাড়ে

santu-larmaaaগত শনিবার(২৯ নভেম্বর) পার্বত্য চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরয়ে সন্তু লারমা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় ১ মে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এ অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণায় পাহাড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে ‘পাহাড়ের সাধারণ মানুষের চিন্তার প্রতিফলন’ মন্তব্য করলেও কেউ কেউ তা সন্তু লারমার ‘নতুন স্ট্যান্ডবাজি’ বলে মন্তব্য করেন।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান যে বক্তব্য রেখেছেন তা তাঁর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাঁর বক্তব্য পাহাড়ের সাধারণ মানুষের চিন্তার প্রতিফলন। পাহাড়ের মানুষ যথেষ্ট ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে পাহাড়ের মানুষ চুক্তির মৌলিক ধারা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, সরকার পাহাড়ের মানুষের বাস্তবতা বুঝতে পারলে চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দিবেন। এক্ষেত্রে সময়সীমা কোনো ফ্যাক্টর হবে না।

অসহযোগ আন্দোলনের হুমকিকে ‘সন্তু লারমার পাগলামি’ মন্তব্য করে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) এর মুখপাত্র মাইকেল চাকমা বলেন, সারাবছর ঘুমিয়ে থেকে চুক্তির বর্ষপূর্তিতে তাদের হাঁকডাক বেড়ে যায়। আমরা বিষয়টিকে হিসাবের খাতায় রাখছি না। এটা ধর্তব্যের মধ্যেও পড়ে না। এটা ওনার ভাওতাবাজি। তিনি বলেন, এটা পুরনো বোতলে নতুন মদ। আগেও অনেকবার সশস্ত্র আন্দোলন, মহাসমাবেশের হুমকি দিলেও পড়ে তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। তবুও ১ মে থেকে জেএসএস অসহযোগ আন্দোলন ডাক দিলে ইউপিডিএফ সমর্থন করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে অসহযোগ বিষয়টা পরিষ্কার করুক তারপর দেখা যাবে সমর্থন করবো কিনা। তিনি কি মহাত্মা গান্ধীর স্টাইলে অসহযোগ আন্দোলন করবেন নাকি নিজের স্টাইলে করবেন তাও দেখতে হবে। তবে সাধারণ পাহাড়িদের স্বার্থে আমরা সবকিছুই করতে রাজি আছি। এর জন্য প্রথমেই সংঘাত বন্ধ করতে হবে। বর্ষপূর্তি পালনের প্রতিবাদ করে মাইকেল চাকমা বলেন, জেএসএসের উচিত এদিন চুক্তি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা। চুক্তি বর্ষপূর্তি পালন করবে সেনাবাহিনী।

তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনে সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, ইতোমধ্যে সন্তু লারমা সরকারকে অসহযোগিতাই করে আসছেন। চুক্তি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে দাওয়াত দেওয়া হলেও তিনি আসেননি। ল্যান্ড কমিশনের বিভিন্ন সভাগুলোতেও তিনি যোগদান করেননি। জেলা পরিষদের বিভিন্ন হস্তান্তরিত বিষয়ে অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করেননি। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা তেমন মাথা ঘামাচ্ছি না। তিনি রাষ্ট্রের বেতন ভাতা, সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আবার কিভাবে অসহযোগ আন্দোলন করবেন বুঝতে পারছি না।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অসহযোগ আন্দোলন হুমকি এটা তার ‘নতুন স্ট্যান্ডবাজি’। সরকারের কাছ থেকে আরো নতুন কিছু আদায়ের নতুন কৌশল। এটা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদের নতুন ফসল’।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে একমাত্র বাধা হচ্ছেন সন্তু লারমা। তিনি পাহাড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করলে স্বাভাবিক শান্তি ফিরে আসবে। সাধারণ মানুষ চুক্তির সুফল আরো বেশি ভোগ করতে পারবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply