নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » সন্তানের বয়ঃসন্ধিতে মা বাবা হোক কাছের বন্ধু

সন্তানের বয়ঃসন্ধিতে মা বাবা হোক কাছের বন্ধু

সাইফ রেহমান

সে অনেক আগের কথা তখন ফেইসবুক এর আবির্ভাব ঘটেনি। আমাদের সেই নকিয়া ৩৩১০ সেট ছিলো আজকের এন্ড্রুয়েড ফোনের চাইতেও অনেক বেশী গ্রহণযাগ্যে। বন্ধুরা নড়েচড়ে দেখতো। অনেক বন্ধু তো লক ই খুলতে পারত না। কারো আবদার ছিলো দোস্ত খালি একটা মিসকল দিমু আবার কেউ বলতো দোস্ত খালি একটু সাপের গেম টা।

তখন কাউকে ফোন করার আগেই মাথায় সেট আপ হয়ে যেতো কোন বিষয়ে কি কি কথা বলবো এবং যত কম সময়ে।
মেসেজ দেয়ার সময়ও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতাম।

বিষয় ভিত্তিক লেখার প্রতি একটা ঝোঁক ছিলো আমার। যে বিষয়টা লিখবো ভাবলাম, তার প্রধান কারণ ছিল নিজেরই কিছু আমূল পরিবর্তন নিজেই টের পাচ্ছিলাম ঠিক সেই পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখেই ভাবলাম বয়ঃসন্ধি নিয়ে কিছু লিখবো। আর লিখতে হলে তো জানতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। চাইলে মালিহা কে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে পারতাম। কিন্তু কেমন যেনো একটা সংকোচ বোধ কাজ করছিলো। যদিও মালিহা আমার জন্ম কালের ই বন্ধু, কিন্তু সে মেয়ে।
তাই মেসেজ দিলাম,

_ Dosto

__ Hm, bol

_Plz mind koris na. Ami todar period somporke aktu jante cai, bolbi?

__Stupid. Tor kas thake asob asa korini.

তারপর আমি আর কোনোদিন মালিহাকে ফোন কিংবা মেসেজ দেয়ার সৎ সাহস করিনি।

আসলে বয়ঃসন্ধিকালে আমাদের যে শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনগুলো হয় এসব পরিবর্তন গুলো বাবা মায়ের চোখে আগে পরে এবং কিছু কিছু পরিবর্তন নিজেরাই বন্ধু অথবা বান্ধবীদের সাথে শেয়ার করে। এই শেয়ার করা পরিবর্তন গুলো খুবই কৌতূহলী হয়। এবং এই কৌতুহল গুলো যে সব পজিটিভ হয় তা না অনেক ক্ষেত্রে নেগেটিভ আকার ধারণ করে।

আমরাইতো সেইসব সন্তানের পিতা মাতা তাই না? তাহলে আমরা টেকনিক্যালি কেনো সন্তানদের সাথে কৌতুহলী বন্ধু না হই অন্তত শেয়ারিং করার মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি না!

আমার ছেলের ১২ বছর বয়স থেকে দাঁড়ি গোঁফের রেখা, গলার কণ্ঠস্বর, কাপড় পরিধানে পরিবর্তন সহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে খেয়াল রাখা উচিত বন্ধুদের সাথে মিশে সে বিপদগামী কোনো কিছুতে ঝুঁকে পড়ছে কিনা। ছেলের অগোচরে তার বই খাতা, ড্রয়ার ইত্যাদি চেক করুন। যদি কোনো কিছু দেখে আপনার ভালো না লাগে এবং সন্দেহ হয় তবে চোখ রাঙ্গানী না দিয়ে সেই বিষয় নিয়ে ফ্রেন্ডলি আলোচনা করুন। দেখবেন ফলাফল আপনার অনুকূলে।

ঠিক তেমনি মায়েরা নিতে পারেন মেয়ের দায়িত্ব। বিশেষ করে মেয়ের পিরিয়ড সংক্রান্ত বিষয়টি তাকে পরিষ্কার করে বলুন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে এটা শুধু তোমার না আমার এবং পৃথিবীর সব মেয়েদের হয়। সুতরাং এখানে ভয়ের কিছুই নেই। শুধু দৃঢ় মনোবল রেখো। আর আমিতো তোমার পাশেই আছি। আপনি মা হয়ে পিরিয়ডের সময় যে ভয়ংকর পরিস্হিতির মোকাবেলা করেছেন শুধু মাত্র না জানার কারনে আপনি আপনার সন্তান কে সেই বিষয়গুলো জানান। এটা আপনার দায়িত্ব।

কিছু লজ্জা সংকোচবোধ থাকবে, সেসবকে একটু পরিহার করে আস্তে আস্তে তাদের সাথে আলোচনা শুরু করুন। দেখবেন এক সময়ে ব্যাপারটা খুবই ইজি হয়ে যাচ্ছে। মনে রাখবেন আপনার মোটিভেশান তেমনই হোক যেনো সন্তান কৌতুহলী হয়ে আপনাকে প্রশ্ন করে আরো কিছু জানার জন্য। আপনি নিশ্চিন্তে তুলে ধরুন বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তনগুলো এবং করণীয়।

আজো আমাদের মা বাবাদের ধারনা সময় হলে সবই শিখে যাবে। আমরা শিখেছি না! আমাদের তো কেউ কিছুই শেখায়নি। হুম শিখবে তবে ভুল কিছু শিখতে পারে। সেই ভুলটুকু শোধরানোর দায়িত্ববোধ আপনার আমার থাকুক। যেমনটা পিরিয়ডের ব্যাপারে আমারও বয়ঃসন্ধিকালে অজানা ছিলো। হয়তো যখন বন্ধুদের সাথে বাজে ভাবে আলোচনা করে হাসি ঠাট্টায় মেতেছি তখন আমারই মা কিংবা সদ্য কিশোরী বোন পেটে বালিশ চাপা দিয়ে বিছানায় কাঁতরাচ্ছিলো।

সেদিন যে মালিহার কাছে পিরিয়ড সম্পর্কে জানার জন্য স্টুপিড শুনতে হয়েছিলো আজ সেই মালিহা নিজের পেইজে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার বন্ধু নিয়ে স্যানিটারি প্যাডের ওপর ভ্যাট বসানোর প্রতিবাদ করছে। সত্যি ব্যাপারটা ভালো লেগেছে যে মালিহা এখন প্রকাশ্যে বলতে পারছে স্যানিটারি প্যাড কোনো বিলাসিতা নয়। এটা প্রয়োজন। ঠিক তেমনি আমাদের এবং মালিহাদের উচিত ঠিক সময়ে সচেতন হওয়া এবং বয়ঃসন্ধি নিয়ে আলোচনা করা।

বয়ঃসন্ধিকালের স্লোগান হোক,
মান, লজ্জা, ভয় এই তিন বয়ঃসন্ধিকালে থাকতে নয়।

বয়ঃসন্ধি কালে আপনার সন্তানের সাথে আপনি আলোচনা করলে তাতে আপনার মান যাবে না।
বয়ঃসন্ধি নিয়ে সন্তানের সাথে কথা বলতে লজ্জার কিছুই নেই।
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের ভয় আপনি দুর করুন।

লেখক: সাইফ রেহমান

Micro Web Technology

আরো দেখুন

pahar-facebook

স্যাটেলাইট বানাবে ফেসবুক!

এবার মনে হয়, ইন্টারনেট স্যাটেলাইট বানিয়েই ফেলছে ফেসবুক। তারা এমন এক কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির প্রকল্প …

Leave a Reply