নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » সকাল থেকে মধ্যরাত-মানুষের পাশে জামাল

রাঙামাটি পৌরসভায়

সকাল থেকে মধ্যরাত-মানুষের পাশে জামাল

করোনা মহামারীর কারণে সামর্থ্যবান অনেকেই ও জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আবার অনেকেই নিজের সামর্থ্যানুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, দিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও। রাত দিন মানুষের পাশে থেকে সেবা ও সহযোগিতা দিয়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ আলোচনায় আছেন রাঙামাটি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র মোঃ জামাল উদ্দিন। করোনা সংক্রমনের আগেও বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ভোগেও তাঁর দেখা মিলেছে অসহায় মানুষের পাশে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আগেও রাঙামাটি শহরের যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে নিজ থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়তেন জামাল উদ্দিন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও এতটুকু বদলাননি তিনি। বরঞ্চ তাঁর দায়িত্ব যেনো বেড়ে গেছে। দিন রাত ছুটে চলছেন পৌর এলাকার অলি গলিতে। দিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সহায়তা। পৌরসভার পক্ষ থেকে নিজের ওয়ার্ডের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তার দ্বিগুনেরও বেশি সহায়তা দিতে হয় নিজের পকেট থেকে এমনটাই জানিয়েছেন এই তরুন জনপ্রতিনিধি।
লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই পৌরবাসীর সুরক্ষায় সব ধরনের উদ্যোগের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। জামাল উদ্দিন জানান, পৌরসভা থেকে আমার ওয়ার্ডের জন্য ছয় শত মাস্ক দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে কিনেছি ১৪০০ মাস্ক। মোট দুই হাজার মাস্ক নিজ ওয়ার্ড ছাড়াও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করেছি। সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করেছি। এছাড়াও প্রতি ওয়ার্ডের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে তিনটি হ্যান্ট স্যানিটাইজার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে আরো আটটি কিনে বিভিন্ন এলাকায় দিয়েছি। নিয়মিত ত্রান সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য কাজও চালিয়ে যাচ্ছি।
জামাল উদ্দিন জানান, করোনা মহামারী সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে শহরের প্রবেশমূখে ও বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে ১০টি সচেতনতা মূলক ব্যানার টাঙিয়েছি। এছাড়াও বিভিন্ন অলি-গলিতে বহিরাগত প্রবেশরোধ ও সচেতনতামূলক আরো ৩৫ টি ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এসব কাজ ব্যক্তিগতভাবেই করেছি।
সকাল থেকে মধ্যরাত অব্দি রাঙামাটি শহরের অলিতে গলিতে ছুটে বেড়ানো জামাল উদ্দিনের জেলাপ্রশাসনের বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা সভাতেও সরব উপস্থিতি। তিনি জানান, রমজান মাসের প্রতিটি দিনই সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত লোকজনের খোঁজ-খবর আর তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানেই কাটিয়েছি। প্রতিদিনই সেহেরী খেয়ে ঘুমাতে যেতাম।
পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে যেমন সারাক্ষণ পৌরবাসীর দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন, তেমনি নিজের চেষ্টাতেই করেছেন তারচে বেশি বহু কাজ। করোনায় অসহায়দের সহায়তা দিতে গিয়ে ভুলে যাননি সাম্প্রতিক সময়ের ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায়। আর তাইতো পৌরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গুর বংশ বিস্তাররোধে মশক নিধন ছিটানোর উদ্যোগ নেয়ার পরেও জামাল উদ্দিন নিজ উদ্যোগে ১৮টি স্প্রে মেশিন কিনে বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকায় প্রদান করেন। এছাড়াও নিজ উদ্যোগে ৪০ টি জীবানুনাশক স্প্রে মেশিন কিনে প্রদান করেন বিভিন্ন এলাকায় ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছে।
তিনি জানান, নিয়মিত ত্রান সহায়তা প্রদানের পরেও ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিনই লোকজনদের আর্থিক সহযোগিতা দিতে হয়। লোক লজ্জার ভয়ে যারা সহযোগিতা নিতে পারেন না, এমন অনেককেই সহযোগিতা দিয়েছি গোপনে।
পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লীদের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মসজিদে নামাজের উপকরণও বিতরণ করেন প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন।
তিনি জানান, পৌর এলাকার যখনই যিনি সহযোগিতা চেয়েছেন প্রত্যেককেই সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা করেছি। আগামীতেও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নতুন ২০ জনসহ রাঙামাটিতে শনাক্ত বেড়ে ৬৭৭

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ। বৃহস্পতিবার আসা রিপোর্টে জেলায় নতুন …

Leave a Reply