নীড় পাতা » ব্রেকিং » সংবর্ধিত হলো শহীদ পরিবারগুলো

সংবর্ধিত হলো শহীদ পরিবারগুলো

sohid-poribar‘বাংলাদেশ স্বাধীন করার পেছনে যাদের আবদান কোনদিনো ভোলা সম্ভব নয় তারা হলেন বাংলা মায়ের সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা,যাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও একটি লাল সবুজ স্বতন্ত্র পতাকা পেয়েছি,তাদের সেসব স্মৃতি আমাদেরকে সংরক্ষন করতে হবে,যাতে করে আমরা আগামী প্রজন্মকে এই ইতিহাস সম্পর্কে কিছু ধারণা দিতে পারি।’
বৃহত্তম পার্বত্য চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত শহীদ এম আবদুল আলী ও মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক সময়ে রাঙামাটি শহরে প্রাণ দেওয়া ৮ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি বক্তব্যে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’র মাইনী মিলনায়তনে এই সম্মানা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল আলীর কন্যা নাজমা আক্তার, খাগড়াছড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা রণবিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, বান্দরবানের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রীতিকান্তি ত্রিপুরা, শহীদ আবদুস শুক্কুরের ছোট ভাই এমদাদুল হক।

দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, এই ২০১৬ সাল রাঙামাটিবাসীর জন্য অনেক আনন্দের বছর, কারণ এই বছরের ফেব্রুয়ারীতে রাঙামাটি থেকে মংচেছিং রাখাইন ২১শে পদক এবং মার্চে এম. আবদুল আলী স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন। আব্দুল আলী ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে তাদের স্মরণ করা হবে বলে জানিয়ে, তিনি আরো বলেন, আগামীতে রাঙামাটিতে যত সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে সবকটিই তাদের নামেই নামকরণ করা হবে, যাতে করে আমরা তাদেরকে স্মরণ করতে পারি এবং তাদের মত করে আমাদের আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারি।
অনুষ্ঠানে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেন, আজ আমাদের রাঙামাটিবাসীর গর্ভে বুক ফেটে যাচ্ছে, কারণ রাঙামাটিতে একজন বীরশ্রেষ্ঠ ও একজন স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর সন্তানের দেহ আছে। তাদের জন্য আজ আমরা ও আমাদের রাঙামাটির মাটি ধন্য। তাদের যে অবদান তা কোনভাবেই ভোলা যায় না। আমাদের সকলের প্রয়োজন তাদের অবদানকে স্মরণ করে তাদেরকে যথাযথ সম্মান জানানো।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে অবদান রেখে গেছে তা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে,সংরক্ষন করতে হবে,নয়তো তা হারিয়ে যাবে। আমাদের আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেবার জন্য এগুলো ধরে রাখা একান্ত প্রয়োজন, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সেসব ঘটনা ও বীর যোদ্ধাদের অবদানের ইতিহাস আমাদেরকে সংরক্ষন করতে হবে। নয়তো আগামী প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানবে না। তাদের কাছে এমন একটি মহান ইতিহাস ও যুদ্ধ অজানা থেকে যাবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, রাঙামাটিতেও কিছু স্থানে যুদ্ধ হয়েছে। এতে আমাদের অনেক বীর বাংলা মায়ের সন্তানরা জীবন দিয়েছে। আমাদের সকলের প্রয়োজন সেসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে স্মরণ রাখা এবং তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানানো।

স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল আলীর কন্যা নাজমা আক্তার বলেন, আমার বাবা এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য, জীবন দিয়েছেন, এতে আমাদের কোন আফসোস নেই। কিন্তু মাঝে মাঝে যখন দেখে আমার বাবার মত যারা শহীদ হয়েছে তাদের স্মরণে যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে মানুষেরা জুতা নিয়ে উঠে তখন আমার কষ্টে বুক ফেটে যায়।Pic-01

‘আমি বাবার কাছে থাকতে চাই, আপনাদের মাঝে আমি আমার বাবাকে খুজেঁ পেয়েছি, তাই আপনাদের মাঝে থাকতে চাই’ এমন বাক্যর মধ্য দিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এই বীরযোদ্ধার কণ্যা আরো বলেন, রাঙামাটির সকল জাতির মানুষ আমার আপনজন, তারা আমার বাবাকে যে ভাবে ভালোবেসে এমন একটি সম্মাননা দিয়েছে, সে কারণে আমি তাদের কাছে, আমার আপনজনদের কাছে মৃত্যুর পরেও থাকতে চাই।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শুক্কুর এর ভাই এমদাদুল হক বলেন, আমি গর্বিত যে রাঙামাটির মানুষ আমার ভাইকে স্মরণে রেখেছে,তারা আমার ভাইয়ের নামে স্টেডিয়াম করেছে,সড়কের নামকরণ করেছে,ক্লাব করেছে। কিন্তু আমার একটি অনুরোধ, শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়ামের নামের আগে যেনো শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি যোগ করা হয়।

আলোচনা সভার শেষে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদেরকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply