সংঘাতের বিরুদ্ধে উচ্চ শিক্ষাই হোক মূল হাতিয়ার

পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাত নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। পাহাড়ের পরিস্থিতি আসলে কেমন – এ বিষয়টি সেখানের একজন সাধারণ বাসিন্দার চেয়ে ভালো কেউ বলতে পারবেন না। কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, সংঘাতময় এ অঞ্চলটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ইন্টারপ্রিটেশন বা ব্যাখ্যা এসেছে পাহাড়ের বাইরের মানুষের কাছ থেকে। সেসব ব্যাখ্যা দেখে, আমার বিশ্বাস, এখানকার বাসিন্দাদেরও চোখ কপালে উঠবে। পাহাড় নিয়ে আগ্রহী এমন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ আমার হয়েছে। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পাহাড় নিয়ে যদি কেউ সত্যিকারভাবে জানতে চায়, তার কী করা উচিৎ? আমি জবাব দিয়েছি, পূর্ব-প্রভাবিত না হয়ে পাহাড়ে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর কাটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি খুবই জটিল। আমার ধারণা, দেশে এমন জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক মাঠ আর কোথাও নেই। তাই হুট করে পাহাড় সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো, পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সেরা উপায় কী? এক মূহুর্ত চুপ না থেকেই বলেছি, শর্টকাট কোনো পথ নেই। পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য পেশাদারিত্বমূলক, প্রগতিশীল, টেকসই ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থাই পারে বিভেদ ও সংঘাতের পথ রুদ্ধ করতে। রাতারাতি কোনো সমাধান আসবে না।
শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিশেষ্য যোগ করে আমি ছোট্ট উত্তরটাকে বেশ জটিল বানিয়ে ফেলেছি। পাহাড়ে যত যাই হোক, অর্থনৈতিক সমস্যাটি বেশ বড়। এখানের অর্থনীতির বিশাল অংশ নির্ভর করে বনজ সম্পদের ওপর। এ সম্পদ অশেষ নয়। এ সম্পদ প্রাপ্যতার একটি সীমা আছে। ধরা যাক, পাহাড়ের বনজ সম্পদ ফুরিয়ে যাবার মতো অবস্থায় পৌঁছলো। সেক্ষেত্রে, মানুষের রুটি-রুজির ওপর যে কেবল ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে, তা নয়। বরং পাহাড়ের অসীম সম্ভাবনার খাতগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যাবে। পাহাড়ের স্বাতন্ত্র্যতা অক্ষুণ্ণ রেখে ও পরিবেশহানি না করে, অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব, যদি একে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি পর্যটন অঞ্চলে পরিণত করা যায়। এক ‘বালি’ যদি ইন্দোনেশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম পারবে না কেন? পাহাড়কে কেন্দ্র করে তাই বিশেষায়িত ও পেশাদারিত্বমূলক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি অলীক কল্পনা নয়। বান্দরবানে পর্যটন ও হোটেল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং। নিশ্চয়ই এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
একই সঙ্গে জনপ্রিয় হতে থাকা রাবার, আনারস, চা, কফি চাষের সম্ভাব্যতা (পটেনশিয়ালিটি) যাচাই করে গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা যায়। এরমধ্যে চা এখনই দেশের রপ্তানিমুখী পণ্য। কফি নিয়ে এখনও ভালো গবেষণা ও প্রচারণা হয়নি। প্রাথমিকভাবে ফলাফল মন্দ আসেনি। কিন্তু উৎপাদনমূখী বলা যাবে না পার্বত্য চট্টগ্রামের কফি চাষকে। কিন্তু সঠিক গুরুত্ব দিলে একে চায়ের চেয়েও বেশি রপ্তানিমূখী করা সম্ভব। লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই কফি চাষে ভালো করেছে।
তিন পাহাড়েই (সম্ভবতঃ) কৃষি বিষয়ক কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন, খাগড়াছড়ির কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। এখানের গবেষণা পাহাড়ের কৃষি, আবহাওয়া, বন, ইত্যাদি সম্পর্কে কতটুকু ফল নিয়ে আসছে, সেটি ঠিক বোধগম্য নয়। এসবকে বরং সমঝোতা ও আলোচনার ভিত্তিতে কার্যকর ও পেশাদারিত্বমূলক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপায়িত করলে ভালো ফল আসবে। রাঙ্গামাটিতে আছে কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (এটিআই)। ১৫০ একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি থেকে এখন প্রতিবছর কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করে ৮০-১০০ জনের মতো শিক্ষার্থী। অথচ, দেশের গড়পড়তা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও বড় জায়গা দখল করে আছে এটি। পার্বত্য চট্টগ্রামে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সবসময় ভূমিকেন্দ্রিক রাজনীতিই বড় বাঁধা। সেখানে প্রস্তুত ও যৌক্তিকতা থাকা সত্ত্বেও কেন এটিআই-কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের দাবি উঠেনি, তা সত্যিই বিস্ময়কর। পূর্ন-মৌলিক গবেষণাহীন এটিআই কি পাহাড়ের কৃষি উন্নয়নে আদৌ কোনো ভূমিকা রাখছে? কিন্তু কলেবর বৃদ্ধি করে গবেষণাকেন্দ্রিক ও কার্যকর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে একে গড়ে তুললে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবেই। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ফরেস্ট্রি বিভাগ। চট্টগ্রাম ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন বিষয়ক গবেষণার জন্য এ বিভাগটি চালু রয়েছে। তাহলে আমাদের বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি থাকতে পারে।
রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ হয়েছে, শীঘ্রই হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর যদি বান্দরবানে পর্যটন কেন্দ্রিক ও রাঙ্গামাটিতে কৃষিকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়; পাহাড়ের অবস্থাই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। আর বাকি থাকে একটি কারিগরি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের; যে দাবি খাগড়াছড়ি নিঃসন্দেহে করতে পারে। সবার ভাগ্যেই জুটেছে অনেককিছু; খাগড়াছড়ির ভাগ্যে এখনও কিছু পড়েনি। প্রাথমিকভাবে প্রকৌশল বা কারিগরি ডিপ্লোমা পর্যায়ের ইন্সটিটিউট গড়ে তুলে এবং পরবর্তিতে একে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা যায়। একটি বিষয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন, সেটি হলো, সর্বক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা রাখতেই হবে। অন্যথায় গোটা উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। পাহাড়ে একমাত্র উচ্চ শিক্ষাই ভেদাভেদহীন কর্মমুখী ও সফল পাহাড় গড়ে তুলতে সক্ষম। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা এরপর কেবল পাহাড় নয়; আমি মনে করি, দেশের সীমা ছাড়িয়ে বহিঃবিশ্বেও নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে। পাহাড়ের সংঘর্ষ নিয়ে অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজে গবেষণা হবে না; হবে পাহাড়ের সফলতার গল্প নিয়ে।
পাহাড়ের সংকট ও বিভেদের বিরুদ্ধে শিক্ষাকেই যদি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হয়, তবে সে শিক্ষা অবশ্যই হতে হবে প্রগতিশীল। প্রগতিশীলতার অনেক অর্থ হতে পারে। তবে আমার কাছে প্রগতিশীল শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে সেটি, যেখানে মনের সুকুমারবৃত্তিগুলো প্রাধান্য পাবে। যেখানে জাতিগত কিংবা ধর্মীয় প্রভাব থাকবে না। অনেকের ভ্রু কুঁচকে যেতে পারে। কিন্তু জাতিগত ও ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়েও পাহাড়ে অধিক জরুরী। কেননা, পাহাড়ে অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়েও ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যতা অনেক বেশি। তাই কোনো বিশেষ ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়াটা মঙ্গলজনক হবে না। এছাড়া আরও অনেক কারণও আছে। আজকাল পাহাড়ে বিশেষ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে ধর্ম বিষয়টাই এতটা বড় হয়ে উঠছে যে, মানুষকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে তারা দ্বিধা করছে না। বাবুছড়া, সাজেক ও বান্দরবানের সাম্প্রতিক বিভেদগুলোই এর ভালো উদাহরণ। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে এটি নতুন সংযোজন, যার ফলে কেবল জটিলতাই বেড়েছে। এছাড়া ইদানীং পাহাড়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর আস্তানার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে, যেটি রীতিমত অশনিসংকেত। আগে থেকেই জাতিগত দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত পাহাড়ে ধর্মীয় রঙ নতুন প্রাণঘাতি উন্মাদনা ছড়াতে পারে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিদেশী জার্নালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আর্টিকেলে ‘ইসলামিজম’ কথাটি উঠে আসছে। ‘ইসলামাইজেশনের’ অভিযোগ উঠে আসছে পাহাড়ের অনেক ‘নেতা’র মুখ থেকেও। ৯/১১-এর বৈশ্বিক পটপরিবর্তনের পর এসব অভিযোগের উৎপত্তি পাহাড়ের জন্য ভালো কিছুর ইঙ্গিত বয়ে আনে না। অথচ, পাহাড়ের বাসিন্দা মাত্রই জানেন, সেখানের অব্যাহত সংঘাতের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ওদিকে আরেক পক্ষের খ্রিষ্টিয়করণের পুরোনো অভিযোগ তো আছেই। সর্বোপরী জাতিগত সংঘাতকে বিপজ্জনক ধর্মীয় সংঘাতে রুপান্তরিত না হতে দিতে চাইলে, সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল শিক্ষাই হবে প্রধান অস্ত্র।
‘বৈষম্যহীন’ বিশেষ্যটি এখানে সবচেয়ে গুরুত্ব বহণ করে। পাহাড়ে অনেকেই নিজেকে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত বা বৈষম্যের শিকার ভাবতে পারেন। কিন্তু বৈষম্যটা যদি হয় শিক্ষা বিষয়ক, নিঃসন্দেহে অভিযোগকারীদের মধ্যে বাংলাভাষী বাঙ্গালিরাই বেশি হবেন। আমি নিশ্চিত নই, শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আদৌ তারা সচেতন কিনা। আমি কোনো ‘স্যাভিওর’ বা ত্রাতাকে দেখতে পাইনি এখনও। যিনি পারবেন শিক্ষার আলো জ্বেলে দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে তাদের মুক্তি দিতে। বড়জোর এসএসসি বা এইচএসসি পর্যন্তই তাদের ‘উচ্চ শিক্ষা’র দৌড়! এরপর তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির একটি চাকরি জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বেশিরভাগ। এসব তো কয়েকজন ব্যাতিক্রম মানুষজনের কথা বলছি। বেশিরভাগ বাঙ্গালি; বিশেষ করে যারা পুনর্বাসিত, তারা এসএসসিও শেষ করতে পারেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি জরিপ করেছিলাম। ছাত্রজীবনে বেসরকারী একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের হয়ে গবেষণামূলক জরিপে হাতেখড়ি হয় আমার। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য নিজের কর্মজীবনেও জরিপ একটি অবিচ্ছেদ্য কাজ। সে জরিপটির বিষয়বস্তু ছিল, একটি গুচ্ছগ্রামে উচ্চ শিক্ষার হার। দেখা গেল, প্রায় ১ হাজার বাঙ্গালি বসবাস করেন এমন একটি গুচ্ছগ্রামে স্নাতক শেষ করেছেন, এমন মানুষ আছেন মাত্র ৪ জন! এরমধ্যে স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) নেই একজনেরও! গোটা গুচ্ছগ্রামে এইচএসসি বা দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ শেষ করতে পেরেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ৭ জন! এসএসসি শেষ করেছেন এমন মানুষের সংখ্যা মাত্র ১৯ জন! মোটামুটি পড়তে ও লিখতে পারেন এমন মানুষের হার মাত্র ২০ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি! এসব স্রেফ একটি জরিপের ফলাফল। যদি বড় ধরণের গবেষণা করা হয়, আমার মনে হয় এর চেয়ে ভালো ফল তো নয়ই, আরও ভয়ঙ্কর কিছু উঠে আসবে। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে, এমন কৌতুহলদ্দীপক বিষয় নিয়ে কেন যে গবেষণা করা হয় না, আমি বুঝি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এক বড় ভাই, যিনি পাহাড় নিয়েও গবেষণা করছেন, জানালেন, তাদের স্পন্সররা বাঙ্গালিদের নিয়ে গবেষণায় মোটেই আগ্রহী নন! বৈষম্যহীনতা তাহলে নেই কোথায়?
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে যেটি প্রধান সমস্যা, আমার কাছে মনে হলো, সেটি হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা লাভে ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা। তাদের মধ্যে বাঙ্গালীদের মতো ‘অনাগ্রহ’ বা ‘সীমিত আগ্রহ’ নেই। যথেষ্ট ইচ্ছা থাকলেও, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা দেখা যায় প্রাথমিক পর্যায়ে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পর্যায়েও। আমি নিজে দেখেছি, অনেক প্রতিকূল এলাকায় বিদ্যালয় আছে বটে; তবে শিক্ষকরা কবে সেখানে গিয়েছেন বা আদৌ কখনও গিয়েছেন কিনা, তা বোঝা মুশকিল। বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো গরু-ছাগল বা শুয়োর রাখার আদর্শ স্থান এখন! আমি মনে করি, এসব বিদ্যালয় পুনরায় চালু করে, স্থানীয় শিক্ষিতদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা উচিৎ। এ ধরণের প্রতিকূলতাকে জয় করার সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হচ্ছে অনলাইন এডুকেশন। যেটি গ্রামীনফোনের সহযোগীতায় জাগো সফলভাবে বান্দরবানে করেছে। তবে এখানে শিক্ষকদের অনলাইন শিক্ষায় প্রশিক্ষণ ও ইন্টারনেটের গতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ন। আর অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ে আবাসিক হলের ব্যবস্থা করলে অবস্থার উন্নতি ঘটতে পারে।
প্রস্তাবিত এমন রূপকল্পে বৈষম্যের কোনো স্থান হওয়া উচিৎ নয়। অন্যথায়, শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রতা ও উন্মাদনার বিরুদ্ধে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা অর্থব ও অকার্যকর হয়ে দাঁড়াবে। এ গোটা প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ জরুরী। তবেই উচ্চ শিক্ষা নতুন এক পাহাড় বিনির্মানের অগণিত কারিগর তৈরি করবে। পাহাড়কে কর্মমূখী করে তোলাই একে সংঘর্ষ থেকে দূরে রাখার একমাত্র পথ।nazmul

লেখক: সাংবাদিক।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply