শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাতব্বরকে স্মরণ

নিজের উদ্যোগে আর অর্থায়নেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুল। জেলা শহরের পশ্চাৎপদ জনবহুল রিজার্ভ বাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত স্কুলের নামটি নিজের নামেও করেননি তিনি। স্কুলের প্রয়োজনে যখনই যা প্রয়োজন ছিলো সাধ্যানুযায়ী সবটুকুই করেছেন তিনি। বিনিময়ে চাওয়া ছিলো শুধু একটি। আর তা হলো কাপ্তাই বাঁধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পিছিয়ে পড়া বৃহত্তর রিজার্ভ বাজার এলাকা যেনো শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। উদার, নিঃস্বার্থ এবং বিদ্যোৎসাহী মানুষটি হলেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আবদুল বারী মাতব্বর।

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় তাইতো তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করলেন শহীদ আবদুল আলী একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর শুভ্যার্থীরা। আর এক এক করে বক্তারা স্মরণ করলেন দানশীল এই ব্যক্তির রেখে যাওয়া কীর্তির কথা।

শনিবার সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্যাঞ্চলের প্রবীণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব রাঙামাটি সিনিয়র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আল্লামা নুরুল আলম হেজাজী, রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি নজির আহম্মদ, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পরাক্রম চাকমা।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ছাওয়াল উদ্দিনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজি মোঃ মুছা মাতব্বর, স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক সত্য নন্দী, সাবেক শিক্ষক আবদুল জলিল, সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুল খালেক, মরহুমের ছেলে হারুনুর রশীদ মাতব্বর, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক বিজয় রতন দে, শহরের প্রবীণ ব্যক্তি মোঃ নুরুল ইসলাম, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী ও শহীদ আবদুল আলী’র জীবনীগ্রন্থের লেখক ইয়াছিন রানা সোহেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন বলেন, যে সমাজে গুণীর সমাদর করা হয় না, সে সমাজে গুণী লোক জন্মায় না। বর্তমানে সমাজের ভালো মানুষগুলোর কৃতিত্বকে কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। মানুষের কৃতিত্ব কেড়ে নেয়ার হীন সংস্কৃতি চলছে। তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্বৃতি টেনে বলেন, মছকাবো তবুও ভাঙবো না। মাটি আঁকড়েই পড়ে থাকবো। এতেই সফলতা আসবে। তিনি শিক্ষার্থীদের এই নীতি অনুসরণ করারও আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, আমিও ছাত্রজীবনে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছি। কিন্তু যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছি। সেখানে অনুকরণীয় কোনো ব্যক্তিত্ব ছিলো না। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, শহীদ আবদুল আলী একাডেমির সাথে দুইজন মহান ব্যক্তির নাম জড়িয়ে আছে। যা অনুসরণ করার মতো। তিনি শিক্ষার্থীদের এই দুইজন ব্যক্তির ত্যাগ এবং উদারতা সম্পর্কে জানানোর জন্য স্কুলের আয়োজনের ভুয়সী প্রশংসা করেন।

আলহাজ্ব আবদুল বারী মাতব্বরের জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, আলহাজ্ব আবদুল বারী মাতব্বর এমন একজন উদারমনা ও দুরদর্শী ব্যক্তি যিনি এই এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন বটে। কিন্তু তিনি নিঃস্বার্থ ছিলেন বলেই নিজের নামে না করে স্কুলের নামকরণ করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বীরের নামে।

এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ নাছির উদ্দিন ও আলেয়া বেগম, প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল করিম।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আগামীতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার পূর্বে আলহাজ্ব আবদুল বারী মাতব্বরের আত্মার শান্তি কামনায় স্কুলে কোরআন খতম ও তাঁর কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ ছাওয়াল উদ্দিনের সৌজন্যে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply