নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় শৈলেন দে’কে স্মরণ

শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় শৈলেন দে’কে স্মরণ

Solen-pic-011সাংবাদিক শৈলেন দে একজন আবিষ্ট শুদ্ধ পুরুষ। তিনি ছিলেন প্রকাশের দিকে লুকানো, আর প্রতিভার দিকে বিকশিত। তাঁর কাছে বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস ও পার্বত্যাঞ্চল সৃষ্টির ইতিহাস রয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি, স্বস্তি ও সম্প্রীতির পেছনে যে মানুষটির সারাজীবন কেটে গেছেন তিনি মৃত্যুকালেও কাউকে সুযোগ দিলেন না তাঁর সেবার জন্য। অনেকটা অভিমান করেই তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করেছেন। সংঘাত বিক্ষুব্ধ পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি আনয়নে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে সাংবাদিক শৈলেন দে যে অবদান রেখে গেছেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পার্বত্য অঞ্চলে ১১ টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত আইনগুলো লিখিত আকারে বইয়ে লিপিবদ্ধ করে যে আইনী দলিল প্রণয়ন করে গেছেন তা পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

শনিবার রাঙামাটিতে সাংবাদিক শৈলেন দে’র শোকসভা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাঙামাটি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিক শৈলেন দে’র স্মরণে এই শোক সভার আয়োজন করে রাঙামাটির কর্মরত সাংবাদিকরা।

বক্তারা আরো বলেন, সংঘাত বিক্ষুব্ধ পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি আনায়নে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রয়াত সাংবাদিক শৈলেন দে যে অবদান রেখে গেছেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিশেষ করে প্রযাত সাংবাদিক শৈলেন দে কর্মজীবনে পার্বত্য অঞ্চলে ১১ টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রথাগত আইন গুলো লিখিত আকারে বইয়ে লিপিবদ্ধ করে যে আইনী দলিল প্রনয়ন করে গেছেন তা পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জন্য এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।DSC00090

বক্তারা আরো বলেন, শৈলেন দে ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে কবিতা, নাটক, কলাম লিখতেন। এছাড়া অভিনয়, সঙ্গীত, নৃত্যে তিনি ছিলেন পারদর্শী। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুযোগ নেওয়ার প্রস্তাব পেলেও কোনোদিন তা গ্রহণ করেননি। তিনি কষ্ট সহ্য করতে পারতেন সীমাহীন কিন্তু কোনোদিন তিনি নীতির বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করেননি। বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন অনেক অনেক মানুষের চেয়ে উত্তম, তিনি ছিলেন অনেক অনেক সাংবাদিকের চেয়ে আদর্শবান। পাহাড়ে সৎ সাংবাদিকতার অগ্রসৈনিক ছিলেন তিনি। অন্যায়ের কাছে তিনি কখনো মাথা নত কিংবা আপোস করেননি। তিনি ছিলেন নির্লোভ, নিরহংকারী ও নির্মোহ একজন ব্যক্তি। পাহাড়ের অনেক সৃষ্টিশীল কাজের নেপথ্যে ছিলেন তিনি। শৈলেন দে ছিলেন প্রচারে বিমুখ কিন্তু বিকাশে উম্মুখ।DSC00092

দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় শৈলেন দে’র স্মৃতি তর্পণ করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো, জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট দীপেন দেওয়ান, শৈলেন দে’র ছোট ভাই সৌরেন দে, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা অঞ্জন দে, মানবাধিকার কমিশনের নির্বাহী সভাপতি বিজয় রতন দে, পার্বত্য কণ্ঠের সম্পাদক মোখলেসুর রহমান ভূঁইয়া, শাহ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাঈনুদ্দীন মিন্টু, কপোসেবা সংঘের যশ্বেশ্বর চাকমা বিল্টু, বান্দরবান কালের কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মনিরুল ইসলাম মনু, খাগড়াছড়ির দৈনিক অরণ্য বার্তার সম্পাদক চৌধুরী আতাউর রহমান রানা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়–য়া, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি সুশীল প্রসাদ দে, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান, রাঙামাটি সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্মরণ সভার আহ্বায়ক ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দে। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দৈনিক রাঙামাটির সম্পাদক আনোয়ার আল হক। সভা পরিচালনা করেন পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কমের সম্পাদক ফজলে এলাহী।
DSC00469
সভায় শৈলেন দে’র ছোট ভাই সৌরেন দে তাঁর বড় ভাইকে বটবৃক্ষের সাথে তুলনা করে বলেন, আমাদের পরিবারের যেকোনো সমস্যা তিনি একাই সমাধান করার চেষ্টা করতেন। তাঁর কোনো সমস্যা কোনোদিন আমাদের সাথে শেয়ার করেননি। এমনকি তাঁর নিজের রোগের বিষয়েও তিনি কিছুই বলেননি। তিনি আমাদের ওপর অভিমান করেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের শোকের চাইতেও মায়ের শোক আরো বেশি। তাঁকে কোনোভাবে বোঝানো যাচ্ছে না। শুধুই কান্না করছেন। তিনি সকলের উদ্দেশে বলেন, আমাদের ছেড়ে কেউ সরে যাবেন না।

রাঙামাটির পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো শৈলেন দে’র পিতা শহীদ মনোরঞ্জন দে’র নামে রাঙামাটির যেকোনো একটি সড়ক নামকরণের আশ্বাস দেন এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান সৌরভ দে’র চাকুরীর বিষয়ে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি মায়া বা দয়ার বিষয় নয়। শহীদ পরিবার হিসেবে সে তা পাওয়ার অধিকার রাখে। এছাড়া ডিগ্রি পর্যন্ত তাঁর পড়ালেখার ব্যয় নির্বাহে জেলা প্রশাসন প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, নীতিবিবর্জিত না হয়েও কিভাবে সৎ সাংবাদিকতা করা যায় তাঁর উৎকৃষ্ট উদাহরণ শৈলেন দে। তাঁকে বিভিন্ন সময়ে আমি চায়ের দাওয়াত দিয়েও তাঁকে কোনোসময় জেলা পরিষদে আনতে পারিনি। তাঁর আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাঁর পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে রাঙামাটির সকল সাংবাদিকসহ আমাদের সকলকে একাত্ম হতে হবে। তিনি নিজেও শৈলেন দে’র পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এবিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে সবকিছু করবে জেলা পরিষদ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply