নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি

শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি

Nannyachar4পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, র‌্যালি ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে নানিয়ারচর ‘গণহত্যা’র ২২তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে নান্যাচর গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং খুনীদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল গণহত্যার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবিও জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে ইউপিডিএফ, তিন গণসংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়। পিসিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের পক্ষে কেন্দ্রীয় সদস্য ধর্মসিং চাকমা, এইচডব্লিএফের পক্ষে সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা চাকমা, ইউপিডিএফের পক্ষে রঞ্জন মেম্বার ও সেন্ট্রো মেম্বার, নান্যাচর উপজেলা পরিষদের পক্ষে ভাইস চেয়ারম্যান রণবিকাশ চাকমা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা, বরপুলপাড়া ইয়ং স্টুডেন্ট ক্লাবের পক্ষে বাবুল চাকমা ও নীল চাকমা এবং শহীদ পরিবারের পক্ষে অমূল্য রতন চাকমা ও চিগোন চাকমা পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের পর দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) নানিয়ারচর থানা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত র‌্যালি ও সমাবেশে ৫ শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। সকাল পৌনে ১১টায় উপজেলা মাঠ থেকে র‌্যালি বের হয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করে সমাধিস্থল নানিয়ারচর সদর শ্মশানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে যায় । সেখানে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদবেদীতে সকাল ১১.১০ টায় পিসিপি নেতৃবৃন্দ ও সমবেত জনতা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান। পরে সেখান থেকে ফিরে র‌্যালিটি আবার উপজেলা মাঠে সমবেত হয় এবং সেখানে ১১.৩০ টার দিকে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নান্যাচর থানা শাখার সভাপতি রিপন আলো চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অনিল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডরেশন (এইচডব্লিউএফ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা চাকমা ও নান্যাচর সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সেন্ট্রো চাকমা। সভা পরিচালনা করেন পিসিপি নেতা কুনেন্টু চাকমা।

বক্তরা বলেন, ‘ ১৯৯৩ সালে এদিনে বাজারের দিনে সওদা করতে আসা নিরীহ নিরস্ত্র পাহড়িদের ওপর নৃশংস হামলায় শোভাপূর্ণ চাকমা, কালাবিজা চাকমা, অর্জুন মণি চাকমা, ধীরেন্দ্র চাকমাসহ ৩০ জনের অধিক পাহাড়িকে হত্যা করা হয়, অসংখ্য মানুষকে জখম করা হয়, অনেক ঘরবাড়ি জালিয়ে দেয়া হয়।’

ব্ক্তারা দাবি জানিয়ে বলেন, ১৭ নভেম্বর গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে এবং দোষীদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাছাড়া সমাবেশ থেকে পাহাড়ের সকল  গণহত্যা ও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ নানিয়ারচর থানা কমিটির দপ্তর সম্পাদক জিটন চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদ রাঙামাটিতে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার নামে ‘উগ্রমৌলবাদ ও ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনমনে বিভ্রান্তির …

Leave a Reply