নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » শীতে কাঁপছে বান্দরবান

শীতে কাঁপছে বান্দরবান

bandarban-2শীতের তীব্রতা বাড়ছে পাহাড়েও। পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শীতের তীব্রতায় জেলা শহরসহ উপজেলাগুলোতে ঠান্ডা জনিতরোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-কিশোরসহ বয়স্করা। প্রতিদিনই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স গুলোতে রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তীব্র শীতে বান্দরবানে গরম কাপড় কেনার ধুম লেগেছে পাহাড়ী-বাঙ্গালী মানুষের মধ্যে। কিন্তু সরকারীভাবে শনিবার পর্যন্ত বান্দরবানে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় তিন সহস্রাধিক কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের  নেজারত ডেপুটি কালেক্টর শামীম হোসেন। কয়েকদিনের মধ্যে শীতবস্ত্র গুলো উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হবে।
এদিকে প্রচন্ড শীতে বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকদেরও ভীড় জমাতে দেখাগেছে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক ইসরাত আরা ও রাজু রাজ জানান, প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ছে বান্দরবানে। শীতের তীব্রতায় বাধ্য হয়ে গরম কাপড় কিনেছি। শীতে পাহাড়ে বেড়াতে আসার সময় গরম কাপড় সঙ্গে আনা খুবই জরুরী।
স্থানীয়রা জানান, চলতি সপ্তাহে বান্দরবানে প্রচন্ডভাবে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা খড়কুটা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘন কুয়াশার মধ্যে লাইট জ্বালিয়ে পাহাড়ী সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল করতে দেখাগেছে। সন্ধ্যার পর পরই উপজেলা পর্যায়ে রাস্তাঘাট গুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, লোকজনেরা ঘরের মধ্যে বসেই সময় কাটাচ্ছেন। বাজারের ব্যবসায়ী ইলিয়াছ জানান, শীতের তীব্রতায় গরম কাপড় কেনার ধুম পড়েছে। কয়েকদিন ধরে বেচা-বিক্রির ভালো হচ্ছে। নিন্ম আয়ের মানুষেরা ভীড় জমাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে।
এদিকে শীতের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ায় বান্দরবান জেলার দূর্গমাঞ্চলগুলোতে নিমোনিয়া, শর্দি, কাশিসহ ঠান্ডা জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ভীষণভাবে। ঠান্ডা জনিতরোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-কিশোরসহ বয়স্করাও। তবে সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে ঠান্ডা জনিত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বান্দরবানে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতবছরও জেলায় ঠান্ডা জনিতরোগে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়।
জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: মংতেঝ জানান, শীতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। তবে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। দূর্গমাঞ্চলগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল টিম গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
জেলার থানছি, রুমা, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং সদর উপজেলার দূর্গমাঞ্চলগুলোতে বসবাসরত পাহাড়ী-বাঙ্গালী হতদরিদ্র শ্রেণীর লোকজনেরা শীতের কাপড়ের সংকটে চরম দূর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দূর্গমাঞ্চল গুলোতে আজও পর্যন্ত সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে কোনো ধরণের সাহায্য সহযোগীতা পৌছায়নি।
জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত (এনডিসি) শামীম হোসেন জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বান্দরবান জেলার জন্য দুই হাজার ৮শ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুএকদিনের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কম্বলগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনই লোকজনের মাঝে বিতরণ করবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লামায় সহায়তা পেল কর্মহীন মানুষ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা করে চলেছে। …

Leave a Reply