নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » শিলকখাল রাবারড্যাম প্রকল্প পরিত্যক্ত হওয়ার শংকা !

শিলকখাল রাবারড্যাম প্রকল্প পরিত্যক্ত হওয়ার শংকা !

dam-01বান্দরবানের রাজভিলায় খরস্রোতা শিলকখালে নির্মিত সোয়া ৬ কোটি টাকার রাবারড্যাম প্রকল্প এখন কৃষকের গলায় ফাঁসে পরিনত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় কৃষকের উন্নয়নে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পটি কৃষকদের কোনো কাজেই আসছে না বলে দাবি করেছে স্থানীয় কৃষকেরা। রাবারড্যাম র্নিমাণ কাজে ক্রটির পাশাপাশি কৃষকের চাহিদাকৃত স্থানে রাবারড্যাম প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। সেতুর কাছেই প্রায় ৫০ একরের ব্যক্তিমালিকানার ফসলিজমিতে রাবারড্যামটি নির্মাণের কারণে অসংখ্য কৃষক পরিবার বিপাকে পড়েছে। প্রায় তিনশ পঞ্চাশ একর কৃষি জমিতে সেচ-সুবিধা পাবার লক্ষ্য নিয়ে রাবারড্যামটি নির্মাণ করা হলেও যেকোনো সময় ড্যামটি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানাগেছে, রাবারড্যাম প্রকল্পটি ৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা প্রাক্কলনে দরপত্র দেয়া হলেও শেষপর্যন্ত বর্ধিত করে প্রকল্পের ব্যয় দাড়িয়েছে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকায়। ২০১১ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রকল্পটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দুবছর। ২০১২ সালের শেষদিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও কাজে ত্রুটির কারণে প্রকল্পটি এখনো চালু করা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রাবার ড্যাম প্রকল্পটি নির্মিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষির উন্নয়নে নির্মিত ২৮ মিটার দীর্ঘ রাবারড্যাম জনকল্যাণে আসবে না। রাবার ড্যামের মূল রাবার বেলুনের উচ্চতা ৪ ফুটের কম হওয়ায়, খালের তীরে বালির বাঁধ দেয়ার কারণে রাবারড্যাম প্রকল্প পরিত্যক্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে প্রকল্পের সাইড প্রকৌশলী শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যথাযথ তদারকি না থাকায় যেনোতেনোভাবেই রাবারড্যাম প্রকল্পের কাজ হয়েছে। কৃষকের দাবি উপেক্ষা করে খাল খনন না করা এবং সেচযন্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা না করেই শিলকখালের ওপর অপরিকল্পিতভাবে রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে।

রাবারড্যাম নির্মাণ করতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত শিলকপাড়া-কিবুকপাড়া রাবার বাগান সড়কের একাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। একারণে বর্ষায় রাবার ড্যামের আশেপাশের শতাধিক একরের ফসলি জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিমিজ্জত হয়ে পড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের। রাজবিলা, কুহালং এবং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে রাজবিলা ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, প্রায় ১ বছর আগে দক্ষিণরাজবিলা গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত খড়স্রোত শিলকখালের ওপর নির্মিত সেতুর পাশে অপরিকল্পিতভাবে রাবারড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্ব¡াবধানে ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা প্রাক্কলন ধরে এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের নির্মাণ কাজের দরপত্র প্রদান করা হলেও শেষপর্যায়ে গিয়ে প্রকল্পের বর্ধিত হয়ে ব্যয় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাড়ায়।

এদিকে স্থানীয় রাজবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাইংগ্য প্রু মারমার ৫ একর, মংবাথেয়াই কারবারীর ২ একর, থুইহ্লা মারমা ৫ একর, চিংরং প্রু মারমার ৪ একর এবং অপর এক বাঙ্গালী চাষীর ১ একর, কৃষক ক্যখয় মারমা ৪০ শতক, থুইসা প্রু মারমা ১ একর, রেহ্লা প্রু মারমা ১ একর, উচাথোয়াই কারবারীর ৪০ শতক, অংশৈহ্লা মারমা ৬০ শতক, শৈচামং মারমার ১ একর ৬০ শতক, থুইপ্রু অং মাস্টারের ৬০ শতক, মংচাঅং মারমার ৪০ শতক, অংথোয়াই হ্রী মারমার ৬০ শতক, ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার অংক্য মারমা ৩০ শতক, বাদু মারমার ৪০শতক, ক্যথোয়াই অং মারমার ৪০ শতক, দুংখি মারমার ২০ শতকসহ আরো বেশকয়েকজন কৃষকদের ভূমিহীন বানিয়ে প্রায় ৫০ একর জমি এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ হলে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ ক্ষতিপূরণও পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন।pic-033

এ ব্যাপারে উগ্যপাড়ার কারবারী চাষী মংবাথেয়াই মারমা জানান, নির্র্মিত রাবার ড্যামটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় ৮ফুট উচু রাবার বেলুন দ্বারা আটকানো পানি দিয়ে তারা জমিতে চাষ করতে পারবে না। রাবার ড্যাম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এলাকা সফরকালে কৃষকদের পক্ষে দাবি জানানো হয়েছিল যে, সেচযন্ত্র ব্যবহার ছাড়াই ড্যাম থেকে জমিতে পানি সেচ ব্যবহার করার সুবিধা দেয়ার। কিন্তু বাস্তবে রাবার ড্যামটি বিনা সেচযন্ত্রে পানি সরবরাহ বা ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে প্রায় ১২ ফুট উচুঁ করতে হবে। অন্যথায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে চাষীদের। ফলে চাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় শতাধিক একর ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিবে এবং বালি দিয়ে নির্মিত খালের তীরের বাঁধও বিলীন হয়ে পড়বে।

অপরদিকে রাবারড্যাম নির্মানকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আবুল বশর জানান, এলজিইডি’র প্রকৌশলীদের প্রদত্ত ডিজাইন, র্নিধারিত স্থান এবং মুল নক্সার ভিত্তিতেই এই রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকৌশলীদের তত্ত্ব¡াবধানেই জমি ব্যবহার এবং উন্নয়ন বোর্ডের সড়কের কিছু অংশ কাটা হয়েছে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজের স্বার্থেই। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপুরণ বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন। তবে রাবার ড্যামের কারণে শুষ্ক মৌসুমে শিলকখালে আটকে থাকা পানি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষ করা সম্ভব হবে। কিন্তু পানিসেচের জন্য কোনো কোনো এলাকায় সেচযন্ত্র ব্যবহার করা লাগবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ক্যহ্লা খয় জানান, সকল প্রকার নিয়মনীতি অনুসরণ করেই প্রকল্পি করা হয়েছে। চাষীরা প্রকল্পের সকল সুবিধা ভোগ করবেন। চাষীদের সাথে আলোচনা করেই তাদের জমি প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লামায় সহায়তা পেল কর্মহীন মানুষ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তা করে চলেছে। …

Leave a Reply