নীড় পাতা » ব্রেকিং » ‘শিক্ষকের নির্যাতনে’ ছাদ থেকে লাফিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

‘শিক্ষকের নির্যাতনে’ ছাদ থেকে লাফিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রাঙামাটিতে অশালীন মন্তব্য ও বেত্রাঘাতের কারণে ছাদ থেকে লাফিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে বেত্রাঘাতের সময় যৌন হয়রানিও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। এদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ওই শিক্ষার্থী রাঙামাটি শহরের একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ইংরেজি শিক্ষক আতাউর রহমান পড়া না পারার অভিযোগে তাকে আপত্তিকরভাবে বেত্রাঘাত করে। এ সময় শিক্ষক তাকে অশালীন কথাও বলে। অপমান সইতে না পেরে একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ওই শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বাসায় এসে জানায়, ইংরেজির শিক্ষক তাকে অশালীনভাবে পিটিয়েছে। পেটানোর সময় শিক্ষক বলেছে, “স্কুলে তুই থাকবি, না হয় আমি থাকবো।” পরে বিষয়টি সহকারী প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনিও উল্টো আমার মেয়েকেই দোষারোপ করেছেন। তখন আরেক শিক্ষিকা ও স্কুলের আয়াও আশালীন বলেছেন। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার না পাওয়ায় মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে স্কুলের ছাদে গিয়ে আত্মহত্যা করতে লাফ দেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার মেয়ে হাসপাতালে সারা দিন কান্নাকাটি করছে।’

ওই ছাত্রীর এক সহপাঠী বলে, ‘স্যার যে পড়া দিয়েছিলেন সেটি অনেকে পারেনি। সেদিন স্যার অনেককে মেরেছেন। আমার বন্ধবীকে বিশ্রীভাবে মারেন। আমাদের দুজনকে ড্রেস ধরে মেরেছেন। পরে তাকে নিয়ে আমি তাদের বাসায় চলে আসি। ওর মাকে বিষয়টি বলি। যখন বিচার পায়নি তখন সে বলে আত্মহত্যা করবে। সে এই অপমান সইতে পারছিল না। কখন যে স্কুলের ছাদে চলে গেলো আমি দেখিনি। পরে চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি আমার বান্ধবী।’

ওই শিক্ষার্থী ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার পর তার বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যারে বলেছে, এমন জয়গায় মারবো কাউকে দেখাতে পারবি না।’

ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায় এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শী অপু দাশ বলেন, ‘আমি দোকানে ছিলাম। চিৎকার শুনে দেখি একটি মেয়ে মাটিতে পড়ে আছে। তখন আমার স্ত্রীকে বাসা থেকে ডেকে তার মাথায় পানি দিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তুলি। এরপর হাসপাতালে পাঠাই। সে পায়ে ও কোমরে আঘাত পেয়েছে।’

ওই শিক্ষার্থীর ভাই বলেন, ‘আমার বোনের মতো আর কারও যেন এমন না হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ কতটা সঙ্গত। হাইকোর্ট থেকে শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে আঘাত না করার নির্দেশ দেওয়ার পরও সে এমন কাজ কীভাবে করলো।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘তাকে মারধর করা উচিত হয়নি। আমরা স্কুলে বেতও রাখি না। হাইকোর্ট থেকে এই বিষয়ে কঠোর নির্দেশের কথা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন মেয়েটির ভাই আমার বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষককেও মেরেছে। তিনি এখন চট্টগ্রামে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মামলা নিয়েছি। শিশু আইন ২০১৩-এর ৭০ ও ১৮৬০ সালের পেনাল কোড আইনে এবং শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরভাবে আঘাত, আত্মহত্যার প্ররোচনা আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় অনিয়ম

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার উপজেলার মেরুং …

Leave a Reply