নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » শাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ে হচ্ছেটা কি ?

শাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ে হচ্ছেটা কি ?

shah-School-picরাঙামাটি শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহ্ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার,পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমাও এই স্কুলের শিক্ষার্থী। অথচ ঐতিহ্যবাহি এই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আর অভিযোগকারিরা খোদ তারই সহকর্মী শিক্ষক। স্কুলের ১৫ জন শিক্ষক সম্প্রতি এক যুক্তসাক্ষরসম্বলিত অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে না জমা দিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন,জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগে। ক্ষুদ্ধ শিক্ষকরা গত দুইদিন ধরে ক্লাসও বর্জন করে আসছেন। যদিও প্রধান শিক্ষকের দাবি ‘স্কুলটির পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা ও পড়াশুনার মান বাড়ানোর চেষ্টা’ করার কারণেই এই অভিযোড় তার বিরুদ্ধে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে ১৫ জন শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলের মহিলা শিক্ষিকাদের অনৈতিক প্রস্তাব রাজি দেয়া, সাধারণ ছুটির দিনেও স্কুল বন্ধ না রাখা,ধর্মীয় দিবস উদযাপন করতে না দেয়া, কারণে-অকারণে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকাঝকা,ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোচিং ফি’র নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, চাকুরিচ্যুত করার হুমকিসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে স্কুলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান। তবে এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেছেন,স্কুলের ভালোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় কিছু শিক্ষক ক্ষুদ্ধ হয়ে এসব করছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে ১৫ জন শিক্ষকের সাক্ষর করা লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের আচার-ব্যবহার অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ। কথায় কথায় শিক্ষকদের ধমক,গালাগালি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে। এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে শিক্ষকদের ‘ইতর প্রাণী’র সাথে তুলনা করে গালি দেন। ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের বলেন ‘তোদের শিক্ষকরা যেমন গাধা, তোদেরকে বানাচ্ছেও গাধা’। প্রধান শিক্ষক স্কুলের ছুটির পর মহিলা শিক্ষিকাদের স্কুলে থাকতে বলেন এবং তার কথা না শুনলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেন।

লিখিত অভিযোগে আরো জানা যায়, ‘গত ২/১২/১৪ইং বার্ষিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষা চলাকালিন দায়িত্বরত এক অবিবাহিত মহিলা শিক্ষিকাকে ক্লাশের মধ্যে এমনভাবে গালাগালি ও অপমান করে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন। যার ফলে সাথে সাথে ঐ শিক্ষিকা চাকুরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তার কথা না শুনলে অন্য শিক্ষিকাদেরও এইরূপ অবস্থা হবে বলে হুমকি দেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের জন্য পূর্বে কোনো নির্দেশনা বা নোটিশ দেন না। পরবর্তীতে কাজটি কেন করা হয়নি? কেন করলেন না? এই নিয়ে শুরু হয় অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি। প্রতিটি শিক্ষক সভার শুরুতেই ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে না কাউকে উদ্দেশ্য করে সবাইকে গালাগালি শুরু করে।’

লিখিত অভিযোগে শিক্ষকরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের আচরণ এমন যে, তার মতে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকই অযোগ্য। স্কুলের কোনো নিয়ম কানুনই সঠিক নয়। বর্তমানে তিনি অমানবিক কিছু নিয়ম কানুন চালু করার পাঁয়তারা করছে।’

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, ‘ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সকল অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে বন্ধ থাকে। সেখানে এই প্রধান শিক্ষক আসার পর এসব ছুটিও কাটাতে পারেনা কেউই। প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে তিনি স্কুলে আসতে বাধ্য করেন। গত ৪জানুয়ারী মুসলমানদের পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী(দঃ) ও এর আগে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌদ্ধ পুর্নিমাতেও ছুটির কোনো নোটিশ দেননি এবং তিনি শিক্ষকদের স্কুলে আসতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।’

অভিযোগে আনা হয়, ‘সম্প্রতি ৭জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে তার পছন্দের লোক নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করছে। এছাড়াও স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষকদেরও চাকুরিচ্যুত করে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তার পছন্দের লোক নিয়োগের টালবাহানা করছেন তিনি।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক মহিলা শিক্ষিকাদের তার কক্ষে একাকি ডেকে নানাভাবে প্রলোভন দেখানো এবং তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেন বলেও লিখিত অভিযোগে বলা হয়।

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগও তোলা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেএসসি ২০৪জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি নামে প্রত্যোকের কাছ থেকে দুইমাসের জন্য ১২০০/-টাকা করে নেন। এছাড়া অনুষ্ঠেয় এসএসসি ৫১জন পরীক্ষার্থীদের প্রত্যোকের কাছ থেকে দুই মাসের ১৬০০/-টাকা করে নেন। যা মোট টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় প্রায় তিন লক্ষাধিক। কিন্তু তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানী দিয়েছেন মাত্র এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকার মত। এছাড়া তিনি ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের জন্য পাঁচ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ফেলেছেন। দুই লক্ষাধিক টাকার উপরে খরচ করার ইখতেয়ার তার নেই। আর যে ভবনটি তিনি তড়িঘড়ি করে করেছেন তা ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক করারও প্রক্রিয়া চলছে।

ইতোপূর্বে তিনি যেসমস্ত বিদ্যালয়ে চাকুরি করেছিলেন সেসব বিদ্যালয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড করার অভিযোগও করা হয় লিখিত অভিযোগে। একই অভিযোগপত্রে শিক্ষকরা এই প্রধান শিক্ষকের অধীনে একদিনও চাকুরি করা নিরাপদ নয় বলে উল্লেখ করে শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

মাত্র ছয় মাস আগে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, আমি এখানে আসার পর বিদ্যালয়ে অনেক অনিয়ম দেখতে পেয়েছি। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কারণে তারা আমার বিরুদ্ধে এসব ভুয়া অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা’ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বানোয়াট’। শিক্ষকরা নিজেদের ‘দুর্বলতা’ ঢাকতে উল্টো তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনছেন বলেও জানান তিনি।

মাত্র ২ বছর আগেই সূবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করা স্কুলটিতে এইসব‘অনভিপ্রেত’ ঘটনায় বিব্রত ও ক্ষুদ্ধ স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

৩ comments

  1. এইটি যদি সত্যে হয় তা হলে আমাদের সকলের এক সাথে এর প্রতিকার করা উচিত, তাছাড়া, পুরাতন অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক আছেন যাদের আমি জানি তাদের থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে হঠাৎ অন্য জায়গা থেকে নিয়োগ দেয়াটা কতটুকু বাস্তবসম্মত হয়েছে তা ভেবে দেখা উচিত, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে চলার মানসিকতা কতটুকু রয়েছে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের তা নির্বাচন কমিটির ভেবে দেখা উচিত ছিল।এটি বিদ্যায়লের সুনাম ক্ষুন্ন করার সামিল, তাই প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে, প্রয়োজনে অভিযুক্ত শিক্ষক অব্যাহতি দেয়া হলে বিদ্যালয়ের জন্য মঙ্গলজনক হবে

  2. সুনামধন্য,ঐতিয্যবাহী এই পুরানো স্কুলটির মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এতো অধোপতন মেনে পারছি না…।

  3. সুনামধন্য,ঐতিয্যবাহী এই পুরানো স্কুলটির মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এতো অধোপতন মেনে পারছি না…।

Leave a Reply

%d bloggers like this: