নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » শহর রাঙামাটিতে ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে কভিড-১৯

শনাক্তে উল্লম্ফন, আক্রান্তের অর্ধেকই স্বাস্থ্য বিভাগের!

শহর রাঙামাটিতে ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে কভিড-১৯

বুধবার পার্বত্য রাঙামাটি শহর এলাকাতেই ১৭ জনের দেহে কভিড-১৯ শনাক্তের উল্লম্ফনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরজুড়ে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৪৩ জনের দেহে করোনা সংক্রমিত হয়েছে; যার বেশিরভাগই শহর এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া মোট শনাক্তের মধ্যে ১৯ জনই স্বাস্থ্য বিভাগের। এরমধ্যে বেসরকারি দুজন চিকিৎসক, এক স্বাস্থ্যকর্মী ব্যতিত বাকি ১৬জনই রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, অফিস স্টার্ফসহ অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারসহ অন্যান্য কর্মচারী। ফলে রাঙামাটিতে করোনার ‘হট স্পটে’ পরিণত হয়েছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, বুধবার রাতে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রাজদ্বীপের (চক্রপাড়া) একজন, রাজবাড়ির একজন, মানিকছড়ির একজন, দেওয়ানপাড়ার একজন, হাসপাতাল এলাকার দুইজন, উত্তর কালিন্দীপুর তিনজন, রাঙাপানি একজন, মাঝেরবস্তি একজন, ম্যাজিস্ট্রেট কলোনি একজন, রায় বাহাদুর সড়ক তিনজন, কল্যাণপুর একজন এবং তবলছড়ির ওমদামিয়া হিল এলাকার একজন বাসিন্দা রয়েছেন। ১৭ জনের মধ্যে আটজনই স্বাস্থ্য বিভাগের। তারা হলেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের দুইজন অফিস সহায়ক, একজন ঝাড়ুদার, একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন স্টোরকিপার, একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, বেসরকারি চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন মালিক।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা রিপোর্ট

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, বুধরাতে নতুন করে জেলায় ১৭ জনের দেহে করোনার সংক্রমণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন শনাক্ত হওয়া ১৭জনই জেলা শহরের বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট ৪৩ দেহে কভিড-১৯ শনাক্ত হলো।

এদিকে ইতোমধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন ব্যবস্থা বন্ধসহ বেশ কিছু সেবা সংকুচিত করা হয়েছে। এতে করে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন শহুরে বাসিন্দারা- এমনটাই বলছেন তারা। তবে শুরুর দিকে শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকলেও এখন দিনের সেবা শেষে বন্ধ হয়ে যায়।

জেলা শহরের তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা সৈকত রঞ্জন চৌধুরী বলেন, শুরুর দিক থেকেই কিভাবে জেনারেল হাসপাতালে জরুরি সেবাগুলো সব সময়ের জন্যই অব্যাহত রাখা যেতে পারে সেদিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখন সংক্রমণের ফলে অপারেশনসহ বেশ কিছু সেবা বন্ধ আছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষই। তাই এখনই জরুরি সেবাসহ অপারেশন কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া হাসপাতালের প্রতিটি স্টাফ, নার্স ও ডাক্তারদের নমুনা পরীক্ষাসহ রোগীদের নমুনা পরীক্ষার করা অতীব জরুরি মনে করেন তিনি।

রাঙামাটি শহরঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ফুরোমন পাহাড়

প্রসঙ্গত, ৬ মে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এক নার্স ও জেলা শহরের রিজার্ভবাজার এলাকার নয় মাসের এক শিশুসহ চারজনের দেহে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ১২ মে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরেক নার্সের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। ১৩ মে রাঙামাটিতে উপজেলা সদরে দুইজন চিকিৎসক ও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের তিনজন নার্স, বিলাইছড়ির দুইজন, কাউখালী এক স্বাস্থ্যকর্মী, রাজস্থলীতে একজনসহ মোট নয়জন করোনা শনাক্ত হয়। ১৪ মে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নার্স-আয়াসহ দুইজন, লংগদুতে দুইজন, জুরাছড়ির ছয়জন ও জেলা শহরের আরেক বাসিন্দাসহ মোট ১১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত। ১৬ মে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের করোনা পজিটিভ আসে। ২০ মে আরও ১৭ দেহে করোনা পজিটিভ হওয়ায় মোট শনাক্ত দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। তবে ৬ মে শনাক্ত চারজনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার করোনা নমুনা রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসায় তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে দাবি করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পুলিশের জালে ধরা পড়ল সেই মাঈন উদ্দিন

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার ঢাকাইয়া কলোনির সেই মাঈন উদ্দিন (৪৫) আবারো কাপ্তাই থানা পুলিশের হাতে …

Leave a Reply