নীড় পাতা » করোনাভাইরাস আপডেট » শহর ছাড়িয়ে করোনা এখন বিলাইছড়ি-রাজস্থলী-কাউখালীতেও

রাঙামাটি

শহর ছাড়িয়ে করোনা এখন বিলাইছড়ি-রাজস্থলী-কাউখালীতেও

৬ মে দুপুরের আগ পর্যন্ত ‘করোনামুক্ত’ থাকা দেশের একমাত্র জেলা ছিলো রাঙামাটি। কিন্তু সেদিন দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই ভোজবাজির মতো বদলে গেলো পুরো দৃশ্যপট। একদিনের চার করোনারোগী শনাক্ত হওয়া এবং চারজনই শহরের চার এলাকার বাসিন্দা হওয়ায়, মুহুর্তেই যেনো পাল্টে যায় জেলার চিত্র! করোনামুক্ত থাকার নাগরিক অহংবোধে তীব্র চপেটাঘাতের পরদিন যদি এই চারজনের দ্বিতীয় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় তাদের সুস্থ শরীরের কারণেই। সেই রিপোর্টও আসে ‘খুশির বার্তা’ নিয়ে দুইদফায় ১০ ও ১১ মে, নেগেটিভ হয়ে! কিন্তু নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! পরদিন ১২ মে জানা গেলো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আরেক নার্সের শরীরে শনাক্ত হয়েছে কভিড-১৯ !

তবে সবচেয়ে অবাক করা কিংবা মন খারাপ করা খবরটি আসে পরদিন ১৩ মে। সেদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ভেটেনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, যা সিভাসু নামেই পরিচিত, সেখান থেকে প্রথমবারের মতো আসা রিপোর্টে জানা গেলো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের ১ চিকিৎসক, রাঙামাটি শহরে ব্যক্তিগত চেম্বার করা আরেক চিকিৎসক (যার স্ত্রী রাঙামাটি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক), রাজস্থলী উপজেলায় ১ জন এবং বিলাইছড়িতে একই পরিবারের আরও দুইজন আক্রান্ত হয়েছে করোনায় ! একসাথে সর্বোচ্চ পাঁচজন আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনার এই ধকল কাটানোর আগেই রাতেই জানা গেলো আরেক দুঃসংবাদ। ফৌজদারহাট বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) থেকে আসা রিপোর্টে জানা গেলো রাঙামাটি সদর হাসপাতালের ৩ নার্স ও কাউখালী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আরেক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়!

শহর ছাড়িয়ে একদিনেই করোনা ছড়ানোর সংবাদ মিললো তিন উপজেলা থেকে ! বিষয়টা ভাবনারই বটে। জেলায় ২ চিকিৎসক, ৫ নার্স, ১ স্বাস্থ্যকর্মী, ৯ মাস বয়সী শিশুসহ ১৪ মে দুপুর পর্যন্ত আক্রান্ত ১৪ জন। বিষয়টি উদ্বেগের।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসক নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের ভাবনায় ফেলেছে। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।’

রাঙামাটি সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, করোনা শহর ছাড়িয়ে উপজেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, এটা অবশ্যই উদ্বেগের। তবে বিলাইছড়ি ও কাউখালীর আক্রান্তদের রাঙামাটি হাসপাতালের সাথে কানেক্টিভিটির হিস্ট্রি আছে এবং রাজস্থলীর আক্রান্ত যে, সে নারায়নগঞ্জ ফেরত। কে কিভাবে আক্রান্ত হয়েছে, সেটা তো নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তবে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।’

এদিকে আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি দীর্ঘদিন করোনামুক্ত থাকার তকমা ধরে রাখার পর একের পর এক করোনারোগী শনাক্ত হওয়ায়, মন খারাপ শহরবাসীর। চাপা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে শহর ছাড়িয়ে দূর গ্রামেও। সংকট, ভয় আর উদ্বেগের চোরাস্রোত ভুলে বা চেপে রেখে, তবুও প্রত্যাশা সবার, ভালো থাকুক প্রিয় শহর, প্রিয় রাঙামাটি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চলে গেলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পিন্টু

রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু আর নেই। বুধবার বিকেল তিনটায় তিনি …

Leave a Reply