নীড় পাতা » ব্রেকিং » শনিবার থেকে রাঙামাটিতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু

শনিবার থেকে রাঙামাটিতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু

civil surgen

শনিবার থেকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে শুরু হচ্ছে ৬ সপ্তাহব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন। ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম সপ্তাহে রাঙামাটি পৌর এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারীরা বেতন-ভাতার স্ক্যাল বৃদ্ধির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত আন্দোলনে থাকায় কবে নাগাদ উপজেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচি করা যাবে তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনিবার সকালে রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাম একটি সংক্রমক রোগ। এটি মূলত হাঁশি-কাশির মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে। হাম আক্রান্ত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কমে যায়। তবে এটির সুচিকিৎসা রয়েছে। এবার সাজেকের ৫ শিশুকে চট্টগ্রামে নিয়ে একমাস চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা সুস্থ হয়েছে। আবার রুবেলা মূলত প্রসূতি মায়েদের হয়ে থাকে। গর্ভের তিন মাসের মধ্যে প্রসূতি নারী রুবেলা আক্রান্ত হলে বাচ্চা ৯০ শতাংশ আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে নবজাতক সন্তানের চোখে ছানিপড়া রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকাংশে মৃত সন্তানও প্রসব হতে পারে।

সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেছেন, এই ক্যাম্পেইন আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও নানামাত্রিক সংকটের কারণে এখন করতে হচ্ছে। মূলত নয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা হাম আক্রান্ত হয়ে থাকে, তাই তাদেরকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে আওতায় প্রতি সপ্তাহের চারদিন টিকা দেয়া হবে, একটি ক্লিনিক পর্যায়ে দেয়া হবে। ক্যাম্পেইনের শুরুটা আমরা রাঙামাটি পৌর এলাকা থেকেই করছি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির দশ উপজেলা ও পৌর এলাকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৩ শিশুকে এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে। এরমধ্যে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ হাজার ৩৩৯ জন। আবার ৫ বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ৭১ হাজার ৫০৪ জন।

প্রেস কনফারেন্সে জেলা সিভিল সার্জন ছাড়াও তার কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফা কামাল, ডা. জয়ধন তঞ্চঙ্গ্যা ও গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমেদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নে হাম আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশু মারা যায়। আক্রান্ত শনাক্ত হয় আরও ১৩০ শিশু। তখন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার সহায়তায় সাজেকের দুর্গম গ্রামের এক পরিবারের ৫ ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। পরবর্তীতে দীর্ঘ একমাস চিকিৎসা কার্যক্রমের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ৫ ভাই। তখন উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষভাবে সাজেক ইউনিয়নে দুই দফায় হাম ক্যাম্পেইন করা হয়েছিলো। এরপর নিয়ন্ত্রণে আসে সাজেকের হাম পরিস্থিতি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো সাজেকের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকাভীতি রয়েছে। যার কারণে ক্যাম্পেইন করা হলেও অনেকেই শিশুদের টিকা কর্মসূচির আওতায় আনছেন না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply