নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » শত্রু নয়, সহকর্মীর বুলেটে থেমে গেলো যে জীবন…

শত্রু নয়, সহকর্মীর বুলেটে থেমে গেলো যে জীবন…

cover-policeসমতল থেকে পার্বত্য এলাকায় চাকুরী করতে এসে জীবন প্রদীপ নিভে গেল তরুন পুলিশ কনষ্টেবল আনোয়ার হোসেনের। তাও আবার প্রতিপক্ষ বা কোন শত্রুর আঘাতে নয়, আরেক সহকর্মী কনষ্টেবল মোক্তাদিরের গুলিতে ! সরলতা আর সততা-ই কাল হলো তাঁর জীবনের। সততার কারণে-ই জীবন যুদ্ধে উগ্রতার কাছে হেরে গেল সরল মনের মানুষটি। ঘটনাটি বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থানার বাঘাইহাট পুলিশ ফাঁড়িতে। আহত আনোয়ারকে প্রথম দীঘিনালা সেনাজোনে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাৎক্ষনিক হেলিকপ্টারযোগে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টায় তার মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ মোশারফ হোসেন তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। ঘাতক মোক্তাদিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার বিবাড়িয়ার কসবা থানার বাদৈর গ্রামে। সে মাত্র বছরখানেক আগে চাকুরিতে যোগদান করেছিল।
ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে , সততা আর সরলতার কারণে সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল আনোয়ার হোসেন। আর তা মেনে নিতে পারেনি সহকর্মী মোক্তাদির। সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিজের অস্ত্র দিয়ে গুলি করে আনোয়ারকে।
দুপুরে বাঘাইহাট পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক ও নির্বাক হয়ে পড়েছেন অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চলছে ফাঁড়ির অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের পরিবর্তনের কার্যক্রম। মোক্তাদিরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাজেক থানায়। ঘটনাটি নিজস্ব বিভাগীয় হওয়ার কারণে কেউ বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাচ্ছিলনা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোক্তাদির উগ্র মেজাজের হিসাবে পরিচিত ছিল, অপরদিকে সৎ ও সরল হিসাবে সবাই জানতো আনোয়ারকে। আনোয়ার গত মাসে মেস ম্যানেজারের দায়ীত্ব পালন করেন। সততার কারণে এ মাসেও একই দায়িত্ব বর্তায় তাঁর ওপর। আর এটি মেনে নিতে পারেনি মোক্তাদির। কয়েকদিন থেকে মেস খরচের হিসাব-নিকাশ নিয়ে আনোয়ারের সাথে প্রায়ই বিতর্কে জড়াতো সে। ঘটনার দিন সকালে ব্যারাকের বিছানায় বসে আনোয়ার খরচের হিসাব মিলাচ্ছিল। ঠিক তখন মোক্তাদির আনোয়ারকে গরম পানি করে দিতে বললে আনোয়ার রাজি হয়নি। কিছুক্ষন পর আবার মোক্তাদির বলে ফাঁড়ির ইনচার্জ (ক্যাম্প কমান্ডার) গরম পানি চাইছেন। তখন আনোয়ার পানি গরম করে নিয়ে দেখে ফাঁড়িতে ইনচার্জ নাই, তিনি আগেই বেরিয়ে গেছেন। মিথ্যা কথা বলে পানি গরম করানোর কৈফিয়ত চায় আনোয়ার মোক্তাদিরের কাছে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে হাতাহাতি। তখন পাশে থাকা অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ছাড়িয়ে দেয়। এরপর কিছু বুঝে উঠার আগেই বিছানায় থাকা অস্ত্র নিয়ে মোক্তাদির আনোয়ারকে লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।
সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আজিজুল হক জানান, ব্যাক্তিগত বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মোক্তাদির আনোয়ারকে গুলি করে; মোক্তাদিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিবাড়িয়া জেলার কসবা থানার আলোবাতাসে বেড়ে উঠা আনোয়ার, জীবন আর জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন পুলিশে। স্বপ্ন দেখছিলেন একদিন বিয়ে করে সংসারী হবেন। কিন্তু কে জানতো দুর পাহাড়ে এসে কোন শত্রু নয়,বন্ধু সহকর্মীই হবে তার ঘাতক !

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply