নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » লেজেগোবরে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগ

লেজেগোবরে খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগ

লেজেগোবরে অবস্থা বললেও কম হবে। গ্রাম থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের। সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতাও উল্লেখযোগ্য নয়। সবখানেই যেনতেন অবস্থা। প্রকাশ্য গ্রুপিং সত্যেও বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি যতটা শক্তিশালী এখানে ঠিক ততটাই দূর্বল সরকারী দলটির সাংগঠনিক অবস্থা। নির্বাচনের আগে দল চাঙ্গা হবার পরিবর্তে বিশৃংখলা চলছে প্রাচীনতম এই সংগঠনে। চাপা ক্ষোভ থাকলেও অদৃশ্য ভয়ে দলের কেউই মুখ খুলতে সাহস করছেননা। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগ এবং যুবলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীই কথা বলেছেন দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। বলছেন, একটি পরিবার আর হাতে গোনা কিছু নেতাই গত সাড়ে ৪ বছরের সব সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। ফলে মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতাসীনদলের বঞ্চিত নেতাকর্মী এবং সাধারন সমর্থকরা সংক্ষুব্দ। অনেকেই ইতিমধ্যে দলের কর্মকান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ কর্মী সম্মেলনে তৃনমূল নেতাকর্মীরা খোলামেলা কথা বলার সুযোগ চেয়েও না পাওয়ায় ঘটে বিশৃংখলা।

সভানেত্রীর স্বাক্ষরের অপেক্ষায় জেলা কমিটি

দীর্ঘ কয়েক বছরের প্রতিক্ষা শেষে ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল হয়। কাউন্সিলরদের ভোটে সভাপতি পদে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভাপতি এবং আলহাজ্ব জাহেদুল আলম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। অন্যান্য পদগুলো বহুদিন ধরে খালি ছিল। পরবর্তীতে সভাপতি-সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা বসে খালি পদ পুরণ করে ঢাকায় পাঠান।
জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা জানান, ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটির প্রস্তাবনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ওই কমিটি বর্তমানে আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তিনি জানান, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর এমপি খুব সহসাই কমিটি অনুমোদনের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন।
তবে প্রস্তাবিত পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়েও উঠেছে নানা কথা। জেলা আওয়ামীলীগের বিগত কমিটির অর্থ সম্পাদক সুইনুপ্রু চৌধুরী বলেন, ‘নতুন কমিটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। আদৌ কমিটিতে আছি কিনা বলতে পারছিনা। গোটা কমিটির হয়তো এমনই দশা।’
জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুল হক বলেছেন, ‘কাউন্সিলের প্রায় ১ বছরেও জানিনা আমি কোথায় আছি। নবনির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদকের সাথে তৃনমূলের কারোর যোগাযোগ পর্যন্ত নেই। এভাবে চললে দলের ভবিষ্যত কি হবে বুঝিনা।’
জেলা কমিটির সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক জুয়েল চাকমার অভিযোগ- সাংগঠনিক কাজকর্মে নেই এমন কিছু লোককে আবারও জেলা কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে মূলত: লেজুরবৃত্তি করার জন্য।

মাঠে দূর্বল আওয়ামী লীগ

রাজনীতির মাঠে খুব একটা দেখা যায়না আওয়ামীলীগকে। আখের গোছানো আর ক্ষমতার মোহে ব্যস্ত দলটির নেতৃস্থানীয়রা। দলের রুটিন কর্মসুচির বাইরে সাংগঠনিক কাজ নেই বললেই চলে। রুটিন কর্মসুচিও হয় হাতে গোনা কিছু নেতাকর্মীর অংশ গ্রহনে। যেন কোথাও বড় ধরনের অসঙ্গতি। অধিকাংশ নেতাকর্মীর অসন্তুষ্টি। কেউ কেউ চাওয়ার পাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত। আবার অনেকেই দলের সব কর্মকান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে বিশৃংখল পরিবেশ বিরাজ করছে দলটিতে।
আওয়ামীলীগ নেতা সুইনুপ্রু চৌধুরী জানিয়েছেন, সবই এলোমেলো। নেতৃত্ব দূর্বলতার কারনে দল সংগঠিত হতে পারেনি। সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার ‘ধরি মাছ, না ছুই পানি’ নীতির ফলে দলটির করুন হাল। দলের নেতাকর্মীরা নতুন সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার মাঝেও পরিবর্তন দেখছেননা। কিছু লোকের কাছে আওয়ামীলীগ জিম্মি হয়ে পড়ায় সাধারন কর্মীরা অসহায় এবং হতাশ।
মাটিরাঙ্গা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল হক দলের সাংগঠনিক অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘জেলা আওয়ামীলীগে প্রান নেই; দলের অবস্থা ভালোনা। খাগড়াছড়িতে এমপি আছেন বলে মনেই হয়না। তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে ওনার সম্পর্ক নেই।’
আওয়ামীলীগের তরুন নেতা জুয়েল চাকমা বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার পর খাগড়াছড়িতে উল্লেখ করার মত একটি জনসভাও হয়নি। অপরদিকে প্রতিদিনই রাজনীতির মাঠ বিএনপি‘র দখলে। এখন মাঠে নামার সময়; অথচ আওয়ামীলীগের দূর্দিন যাচ্ছে। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারনা নেই। এককথায় তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক পিছিয়ে।’
অবশ্য জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এসএম শফি দলের সাংগঠনিক অবস্থাতে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দলের অবস্থা যাই হোক না কেন, সময়মত ঠিকই ঘুরে দাড়াবে।’

কর্মী সম্মেলনে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ

শুক্রবার বিকালে কেন্দ্রীয় ৩জন শীর্ষনেতার উপস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মীসভা শুরুর পর থেকে আভ্যন্তরীন সংকট আরো তীব্র হয়। যুবলীগের জেলা সভাপতি যতন ত্রিপুরা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে আমরা সুবিধাবাদীদের মুখোশ উম্মোচন করবো; এই আশংকায় কথা বলতে দেয়া হয়নি। সেকারনে চিহিৃত ক্যাডাররা যুবলীগের নেতাকর্মী ও সাধারন আওয়ামীলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাই যুবলীগ নেতাকর্মীরা সম্মেলন প্রত্যাখ্যান করেছি।’
যুবলীগের মাটিরাঙ্গা উপজেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারো চোখ রাঙানী দেখতে ধমকি শুনতে আসিনি। কর্মীসভায় নেতাদের এমন আচরনের কারনে প্রত্যাখ্যান করেছি।’
তৃনমূল নেতাকর্মীদের কথা বলার সুযোগ না দেয়ায় কতিপয় নেতার ধমকির কারনে সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যান মাটিরাঙ্গা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুল হক ও মাটিরাঙ্গা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতারাও।
আওয়ামীলীগের নেতা জুয়েল চাকমা বলেন, সম্মেলনের আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর সাথে প্রস্তুতি সভা করলে এমন বিশৃংখলা এড়ানো যেত। ফলে বহু ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীই সম্মেলনে ডাক পাননি।
উল্লেখ্য শুক্রবার বিকালে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর এমপি ও টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি।
সম্মেলনে তৃনমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ না দেয়া নিয়ে কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল দেখা দেয়। এসময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। তখন যোগাযোগ মন্ত্রী অনুষ্ঠানে ছিলেননা। পরবর্তীতে সকলকে কথা বলার সুযোগ করে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সম্মেলনের বাইরে যাই ঘটুক; এর সাথে কর্মী সম্মেলনের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রস্তাবিত জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এসএম শফি জানান, ওইদিনের ঘটনাটি ছিল বিচ্ছিন্ন। এরসাথে কর্মী সম্মেলনের সংশ্লিষ্টতা ছিলনা।
তবে, সমীর দত্ত চাকমা বলেছেন, মারামারির ঘটনা এবং উভয়পক্ষই সুবিধাভোগী।

আওয়ামীলীগ নেতার পুলিশে আশ্রয়

ক্যাডারদের হত্যার হুমকির ভয়ে দু‘দিন ধরে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছেন খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী জাবেদ হোসেন। অপরদিকে জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রশাসনকে জানিয়েছেন যুবলীগের জেলা সভাপতি যতন বিকাশ ত্রিপুরা। এছাড়া ভয় ও আতংকের কারনে ঘর হতে বের হচ্ছেননা যুবলীগ নেতারা।
শনিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে ডুকে মারধরের চেষ্টা করা হয় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাবেদ হোসেনকে। পরে আতœরক্ষার উদ্দেশ্যে থানা পুলিশী হেফাজতে উঠেন তিনি।
জাবেদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘শুক্রবার কর্মী সম্মেলনে নেতাকর্মীদের সুখ-দূ:খ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলার অপরাধে প্রভাবশালী পরিবারের লেলিয়ে দেয়া ক্যাডাররা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। থানা থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে।’ কর্মী সভায় একটি পরিবারের সওজ বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে টেন্ডার ভাগাভাগির কথা বলায় তার ওপর জীবনের ঝুঁকি এসেছে বলে দাবী করেন তিনি।
এদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন বিকাশ ত্রিপুরাও জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে। যুবলীগের জেলা সভাপতি জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভ’গছেন। তার আকুতি- রাজনীতি করার কারনে অবুঝ মেয়ে সন্তানটির ভবিষ্যতের চিন্তা করে প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
কর্মী সম্মেলনে বাইরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন দীঘিনালা যুবলীগের সম্পাদক এফএম আলমগীর, মহালছড়ি যুবলীগের সম্পাদক রেজাউল করিম, মাটিরাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এমরান। সম্মেলনে তৃনমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্যের সুযোগ না দেয়ায় প্রতিবাদ জানানোর কারনেই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অন্চিছুক কয়েকজন যুবলীগ নেতাকর্মী জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক জাহেদুল আলমের ছোট ভাই ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলমের অতিউৎসাহী লোকজনই এসব ঘটনায় জড়িত ছিল।
এ ব্যাপারে দিদারুল আলম জানান, ‘পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বক্তব্য দিতে উঠলে জেলা যুবলীগের সভাপতি-সেক্রেটারীর নেতৃত্বে মাটিরাঙ্গা, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ির উচ্ছংখল কিছু নেতাকর্মী মন্ত্রীকে ভূয়া ভূয়া বলে চিৎকার দিয়ে উঠলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি মানতে না পেরে হস্তক্ষেপ করি। মন্ত্রীকে অপমান করায় ক্ষুব্দ কর্মীরা দু‘একজনকে মারধর করতেও পারে। তবে পৌর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীকে মারধরের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানিনা। এছাড়া আমার কোন নেতাকর্মীই কারো ওপর হামলা চালায়নি। এমন অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।’
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘আওয়ামীলীগ নেতা জাবেদ পুলিশের হেফাজতে আছেন। তাকে কে বা কারা হামলা চালিয়ে মারধর করেন। তিনি পুলিশের নিরাপত্তা চাইলে তাকে থানায় তুলে আনা হয়। এছাড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন বিকাশ ত্রিপুরাও মৌখিকভাবে পুলিশী নিরাপত্তা চেয়েছেন। সেজন্য পুলিশ তাকেও নিরাপত্তা নজরে রেখেছেন।’
মাটিরাঙ্গা আওয়ামীলীগের সম্পাদক সুভাষ চাকমা বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার পরও আওয়ামী পরিবারের সদস্যরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে।’ তিনি এজন্য পরিবারতন্ত্রকে দায়ী করে কেন্দ্রেীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জাহেদ পরিবারে জিম্মি আওয়ামীলীগ!

জেলা আওয়ামীলীগে দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রতিদ্বন্ধি সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব জাহেদুল আলম। শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক ঐতিহ্যসহ নানা কারনেই তার বিকল্প গড়ে উঠেনি খাগড়াছড়িতে। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে কিছুদিন দলের বাইরে ছিলেন। তখন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৬ হাজারের কিছু ভোট পান। পরে অবশ্য নানা বাস্তবতায় তাকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। পুরোদমে সাংগঠনিক কাজে তৎপর হন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ নভেম্বরের কাউন্সিলেও বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
লোকমুখে আলোচনা হয়ে থাকে, বিএনপিতে ওয়াদুদ পরিবার আর আওয়ামীলীগে জাহেদ পরিবারই স্ব-স্ব দলকে নিয়ন্ত্রন করেন। অনেকে বলেন, প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলই দুটি পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। অনেকে বিষয়টিকে দেখছেন নেতিবাচক হিসেবেই। আবার কিছু কিছু নেতার দৃষ্টিতে, জাহেদুল আলম পরিবার ছাড়া ওয়াদুদ ভূইয়াকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা সম্ভব নয়।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে অনেকে অভিযোগের পাহাড় দাড় করিয়েছেন পরিবারটির বিরুদ্ধে। অন্তত ৫/৬ জন জেলা পর্যায়ের নেতা বলেছেন, দলীয় অফিসে আসতে ভয় হয়; তখন তিনি (জাহেদুল আলম) চোখ রাঙানি দেন। মজার ব্যাপার হলো, জেলা আওয়ামীলীগের বহু নেতাই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।
আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান সুইনুপ্রু চৌধুরী দলের দুরাবস্থার জন্য পরিবার কেন্দ্রীক নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতার দাপটকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, কিছু লোকের কাছে বর্তমানে আওয়ামীলীগ পুরোপুরি জিম্মি হয়ে আছে। অনেকে দলত্যাগ করেছেন বলেও অভিযোগ তার।
সাধারন নেতাকর্মীরা অনেকটাই অসহায়।
আওয়ামীলীগ নেতা জুয়েল চাকমা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদেও দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা পরিবারের লোকজনই চাকুরীর অধিকাংশ সুবিধা পেয়েছেন। জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের জন্য প্রায় কোটি টাকার ফান্ড গেল কোথাও তাও জানতে চান এই তরুন নেতা। তিনি বলেন, কয়েকটি পরিবারের সদস্যরাই টেন্ডার ভাগাভাগি করে নেন।
যুবলীগের নেতা চুলী মারমা ও স্বেচ্ছা সেবকলীগের রিটন চাকমা জানান, কয়েকজনের কাছেই সব কিছু জিম্মি। দল কিভাবে চাঙ্গা হবে?

জেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদকের বক্তব্য

খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগ জাহেদ পরিবারের কাছে জিম্মি কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব জাহেদুল আলম জানিয়েছেন, ‘রাজনীতি তো আর জমিদারি সম্পত্তি নয় যে,আমার কাছে জিম্মি থাকবে। যারা এমন অভিযোগ করছেন, তারা বর্ণচোরা, সুবিধাবাদী, আদর্শহীন এবং স্বার্থান্বেষী। তাদের স্থান আওয়ামীলীগে নেই।’
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক দাবী করেছেন, দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই মজবুত। ৩৮টি ইউনিয়নসহ সকল সাংগঠনিক শাখা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য দল পুরোপুরি প্রস্তত।
পৌর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী জাবেদসহ যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার হামলা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে, খুব সহসাই জরুরীভিত্তিতে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধা করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বামী-স্ত্রী’র অবাক ভালোবাসা !

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে একইদিনে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যুর বিরল এক ঘটনা ঘটেছে। সদর ইউনিয়নের আলিচরণ কার্বারি …

Leave a Reply