লেকার্সের পথচলায় সামিল সন্তু লারমা

lakesr-01পিছিয়ে পড়া পার্বত্যাঞ্চলে আধুনিক ও যুগোপযোগি শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সেই নব্বই দশকের শুরুতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেনাবাহিনী পরিচালিত লেকার্স পাবলিক স্কুল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পার্বত্যাঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার নিরন্তর চেষ্টা ছিল। হাঁটি হাঁটি পা পা করে দুই যুগ অতিক্রম করলো এই প্রতিষ্ঠান। আর দীর্ঘ এই পথচলায় শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে নয়, সঙ্গীত,সাহিত্য আর ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সমানে সফলতা বয়ে এনেছে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিয়ে পার্বত্যাঞ্চলকে পরিচিতি করেছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতেও। চব্বিশ বছরের সফলতার পথ মাড়িয়ে এই প্রতিষ্ঠান সময়ের প্রয়োজনে রূপান্তরিত হলো কলেজে। মাদক ও রাজনীতি মুক্ত সুশৃংখল এই প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সন্তানের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের মনেও আরো একবার আশার সঞ্চার হয়েছে। আস্থা ও নির্ভরতার এই প্রতিষ্ঠানে নিজের ছেলে মেয়েকে কার আগে কে ভর্তি করাবে সেই প্রতিযোগিতায় মেতেছিল অভিভাবকরা। আর কলেজের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহবান জানিয়েছিলেন শহরের বিত্তবানদের কাছে। আর এই ডাকে সাড়া দিয়েছেন শহরের বিত্তবান ব্যবসায়ীরাও। কলেজের সব প্রস্তুতি সম্পন্নের পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনটাও ছিলো বরাবরের মতো ব্যতিক্রমি আর নান্দনিক।lakers-03
বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের বর্ণিল ও আড়ম্বরপূর্ন আয়োজন আর শিক্ষার্থীদের প্রানবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে করে তুলে প্রাণোচ্ছল। দেশের গন্ডি পেরিয়ে যারা বিদেশের মাটিতেও নিজের মেধা ও যোগ্যাতার আলো ছড়িয়েছে সেই ন¤্রতা তঞ্চঙ্গ্যা, পৌলমী মুমু খীসা, অর্পিতা পাল আর অঙ্গিরা চৌধুরীর চোখ ধাধানো নৃত্য আর গানের ছন্দে পুরো মিলনায়তনই যেনো এক আনন্দময় ভালোলাগার অনুভুতির আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিলো সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহবান। আর তাইতো পাহাড়ি শিল্পীর কন্ঠে বাংলা আর বাঙালী শিল্পীর কন্ঠে পাহাড়ি গানের সুর বারবার সেই ঐক্য আর সম্প্রীতির আহবানই করছিলো। আধুনিক, লোকগীতি আর আঞ্চলিক গানের সুরে সুরে নেচেছে শিক্ষার্থীরা। ছিলো ছোট্ট ছোট্ট শিশু-কিশোরদের ফ্যাশন শো। পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতি গোষ্ঠির পোশাক পরিধান করে শিশু-কিশোরদের উপস্থাপনা মঞ্চকে আরো প্রানবন্ত করে তোলে। বাদ যায়নি কবিতা আবৃত্তিও। কলেজের নতুন শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীদের কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি সকলকেই মুগ্ধ করেছে। আর তাইতো প্রতিটি পরিবেশনার সময় পিনপতন নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে।lakers-04

শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের সাথে সাথে অতিথিগণও নিজেদের ভালোলাগার অনুভুতি ব্যক্ত করেছে বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমার অংশগ্রহণও ছিলো বৈচিত্র আর ভিন্নতর আগ্রহে ঘেরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বারবারই তিনি এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য,শিক্ষক ,শিক্ষার্থীর ভুয়সী প্রশংসায় করছিলেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির মাঝে যুগোপযোগি শিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান কোনো অংশে কম নয়। তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, পাহাড়ে বিরাজমান যে পরিস্থিতি সে পরিস্থিতিতেও শিক্ষার ক্ষেত্রে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহবান জানান।lakers-05
সন্তু লারমা অনুভুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সম্প্রীতি ও ঐক্যের অনুভুতি তা অনুধাবন করলাম। শিক্ষার্থীরা নাচ ও গানের মাধ্যমে তাদের সম্প্রীতি ও ঐক্যের মনের কথাই বলছে। উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হলে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন জরুরী।

তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার উন্নতিতে মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অত্র অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ তা তখনই অনুভব করেছিলাম। ধারাবাহিক সফলতার জন্য অভিনন্দন জানাতেও ভুল করেননি তিনি।
তিনি লেকার্স পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের তিনটি মুলনীতির উল্লেখ করে বলেন, সত্যিই এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ পথচলায় তাদের সেই মূলনীতি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, শুধু অর্থ দিয়েই সব করা যায়না। আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার মাধ্যমেই সফলতা আসে। এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে রয়েছে সবার আন্তরিক চেষ্টার প্রতিফলন ।
তিনি মানুষের কল্যানে নিজেকে নিবেদিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।lakers-06

অনুষ্ঠানের শুরুতেই লেকার্স কলেজ’র নামফলক উম্মোচন করেন সন্তু লারমা। এরপর স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন সম্মাননা পুরস্কার। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সানাউল হক পিএসসি, জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন,সদর জোন অধিনায়ক লে: কর্নেল মালিক মো: সামস্ উদ্দীন,রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. মানিক লাল দেওয়ান, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ডা: একে দেওয়ান,অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী, নিরূপা দেওয়ান।

স্কুলের সহকারি শিক্ষক লিটন দেবে’র উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বৈশালি রায়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী,অভিভাবক আর সুহৃদের অংশগ্রহণের পুরো দিনটিই যেনো হয়ে উঠে লেকার্সের চব্বিশ বছরের ইতিহাসের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি দিন।lskers-07

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply