নীড় পাতা » বান্দরবান » লামা-আলীকদম সড়কের গাছ চুরি

লামা-আলীকদম সড়কের গাছ চুরি

Lama-Tree-Cut-Photo,-23-Octবান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়কের দু’পাশের শোভাবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির তিনটি গাছ কেটে ফেলেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত দুই দিনে এসব গাছ কাটা হয়। গাছ কেটে নেয়ার দু’দিন পরও মামলা করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ৩ বছরে এ সড়কের দু’পাশের শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্র। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিরবতা ও সংশ্লিষ্টার কারণে চোরাই সিন্ডিকেট সড়কের দু’পাশের মূল্যবান গাছ ধাপে ধাপে উজাড় করে ফেলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, লামা-আলীকদম সড়কের হরিণঝিরি, ছাগল খাইয়া, ঝোলার দোকান ও ফিসারী কমপ্লেক্স এলাকায় রাস্তার পাশে রবিবার ভোর রাতে সংঘবদ্ধ স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র করাত দিয়ে তিনটি বড় আকারের বেলজিয়াম গাছ কেটে ফেলে। সকালে লোকজনের চলাচল শুরু হলে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা কাটা গাছ গুলো নিয়ে যেতে পারেনি। এলাকাবাসী সকালে রাস্তার পাশে গাছ কাটা দেখে লামা থানায় খবর দিলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ করিমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৩টি গাছ কাটা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে দেখে জব্দ করেন। পরে গাছ গুলো লামা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বরত মো. আবু তাহেরের জিম্মায় দেন।

অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে চক্রটি ধাপে ধাপে শতাধিক গাছ কেটে নিয়ে যায়। ২০১২ সালে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা এক রাতে ২০-২৫টি গাছ নিয়ে গেলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের চাপে পড়ে লামা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। বেশ কয়েক বছর আগে বিৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী রাস্তার দু পাশে বেলজিয়াম, একাশিয়া, ইফিল ইফিল, কড়ই, রেইনট্রি,কাঠাঁল সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন ও রক্ষনাবেক্ষন করেন। গাছগুলো বড় হওয়ার পর বিৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানী সড়ক ও জন পদ বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে। তারপর থেকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগীতায় প্রায় রাতে কাটা হয় এ সড়কের গাছগুলো।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালামসহ আরো অনেকে বলেন, প্রথমে চক্রটির সদস্যরা দিনের বেলায় গাছে ডাল ছাটাই করে। রাতে সড়ক ও জনপদের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগীতায় কাটা হয় গাছ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়না।

গাছ কাটার ব্যাপারে লামা সড়ক ও জনপথ বিভাগে দায়িত্বরত মো. আবু তাহেরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এএসআই) মোহাম্মদ করিম গাছ কাটার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কাটা গাছগুলো উদ্ধার করে সড়ক ও জনপথের দায়িত্বরত কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে থানায় অভিযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কঠোর ‘লকডাউনে’ বান্দরবান, বাড়ছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে কঠোর লকডাউন চলছে বান্দরবানে। সরকার ঘোষিত লকডাউন কার্যকরে মাঠে নেমেছে প্রশাসনের নির্বাহী …

Leave a Reply