নীড় পাতা » বান্দরবান » লামায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হামলার চিত্র সিসি ফুটেজে

লামায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি, হামলার চিত্র সিসি ফুটেজে

প্রতীকী ছবি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অংশা ঝিরি এলাকার মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে আলী জহুরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডাকাতের হামলায় দুই জন আহত হন। ৮-৯ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় গাদা বন্দুক, দা ও লম্বা ছুরি নিয়ে ঘরে হামলা চালায়। হামলায় আহতরা হলেন- আলী জহুরের ছোট ভাই মোঃ রফিক, ও তার ভাই আবুল কালাম।

এদিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারে এমন ধারণা করতে পেরে আগে থেকেই আলী জহুর তার বসতঘরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন। যেখানে সন্ত্রাসীদের হামলার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ডাকাতদের আইনের আওতায় আনতে দাবি জানান স্থানীয়রা।

ডাকাতি ও হামলার বিষয়ে অংশা ঝিরির বাসিন্দা আলী জহুর জানান, গত ১৪ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে উত্তর মালুম্যা পাড়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা চা বাগানের ভেতর ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনসহ আরও ২জন মিলে ১টি ছাগল চুরি করে জবাই করতে আমি দেখে ফেলি। তখন তাদেরকে ধাওয়া করলে এক পর্যায়ে দুই জন পালিয়ে গেলেও নুরুল আমিনকে টমটম থেকে হাতে নাতে ধরে ফেলি। পরবর্তীতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিযদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনার সমাধান করেন।

তিনি আরও বলেন, শালিশে নুরুল আমিনকে ছাগল চুরির অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছাগলের প্রকৃত মালিক শামশুল আলমকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। ওই দিন নুরুল আমিন এবং তার বড় ভাই আমাকে ‘দেখে নিবে’ বলে হুমকি দিয়ে যায়। আমি এবং আমার পরিবারের ধারণা সিএনজি বিক্রির নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আমার ঘরে রক্ষিত আছে এই সংবাদ পেয়ে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নুরুল আমিনসহ অজ্ঞাতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। রাত আনুমানিক ১টার সময় ডাকাত দল বাড়ীর আলমিরা ভেঙে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং আমার স্ত্রী জেসমিন বেগমের গলার গহনা ও ছোট বোনের কানের দুলসহ প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ডাকাতদের হামলায় আমার ছোট ভাই মো. রফিক বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় ও ভাই আবুল কালামের বাম হাতে দায়ের কুপ লাগে। আহতদের চকরিয়ায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি লামা থানাকে জানালে রাত দুইটার দিকে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, ডাকাত দল সংখ্যায় ৮ জন ছিল, পরনে ছিল সাদা শার্ট ও কালো জিন্সের প্যান্ট, কয়েকজনের মুখে মুখোশ পরা ছিল এবং তারা চাটগাইয়া ভাষায় কথা বলছিল। অস্ত্র ছিল ২টি- একটি দেশীয় রিভলবার ও একটি একনলা গাদা বন্দুক, দা-ছুরি।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, ঘটনাটি খুবই ভয়ংকর হয়েছে। ছবি ভিডিওতে যা দেখলাম; তাতে রীতিমত ভয় পাওয়ার মত।

এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

আলীকদমের ৬৫টি মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রদান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে মসজিদের অনুকুলে বরাদ্দকৃত আর্থিক অনুদান প্রদান করা …

Leave a Reply