নীড় পাতা » পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া » লামায় ‘জাল ভোটের’ অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

পৌরসভা নির্বাচনে

লামায় ‘জাল ভোটের’ অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

বান্দরবানের লামা পৌরসভা নির্বাচনে ‘জাল ভোটের প্রতিযোগিতা’ এবং এজেন্টদের বের করে দেবার অভিযোগ করেছে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘৫ ও ২ নাম্বার ওয়ার্ডসহ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের উপস্থিতিতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিচ্ছেন। অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। দুই নাম্বার ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর প্রার্থী প্রকাশ্যে কেন্দ্রে ঢুকে জাল ভোট দিচ্ছেন, আমি নিজে দেখেছি। নয়টি ভোট কেন্দ্রে নয় জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও দু’একজন ছাড়া অন্যকেন্দ্রগুলোতে ছিলো না। রিটার্নিং অফিসারের কথা সাথে কাজের কোনো মিল খোঁজে পাচ্ছিনা।’

সরেজমিন দেখা গেছে, শনিবার সকালে লামা পৌরসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে সবগুলো কেন্দ্রে। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। তবে বেলার বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতিও বদলাতে শুরু করে। ভোটারের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবং ২ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে পুরুষ কাউন্সিয়র প্রার্থী না থাকায় কেন্দ্রগুলো দখলে নেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ৫নং ওয়ার্ড’সহ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয় বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের। পৌরসভার ৮, ৪, ৩, ২ ও ১ নাম্বার ওয়ার্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। গণমাধ্যমের উপস্থিতি আর চ্যালেঞ্জের মুখে ‘জাল ভোট’ প্রদানকারীরা সরে পরে। র‌্যাবের উপস্থিতিতে কিছুক্ষণ ফাঁকা হয়ে যায় ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র।

এদিকে আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আব্দুর রহিম, মোজাফফর নামে দুই জন’কে আড়াই হাজার করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে এক জন’কে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তবে এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট গ্রহণ হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম জানান, শান্তিপূর্ন ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের একজন অফিসারসহ পুলিশ-আনসারের ১৬ জন করে সদস্য নিয়োজিত ছিলো। র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরাও টহলে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২৮.৪৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১৩ হাজার ৩৮৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৩ জন এবং নারী ৬ হাজার ৩৮৬ জন। চতুর্থ বারের সাধারণ নির্বাচনে লড়ছেন ৩ জন মেয়র প্রার্থী। তারমধ্যে রয়েছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীন এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম শহীদুল ইসলাম। এছাড়াও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে-৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে-২৬ জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের ২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply