নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » লক্ষীছড়ির ৬ সেতু নির্মাণে শ্লথগতি, চরম দুর্ভোগ

লক্ষীছড়ির ৬ সেতু নির্মাণে শ্লথগতি, চরম দুর্ভোগ

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি। যেতে হয় মানিকছড়ি উপজেলা হয়ে। মানিকছড়ি থেকে লক্ষীছড়ি উপজেলায় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। কিন্তু এই সড়কে নির্মাণাধীন ছয়টি সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চলাচলকারি মানুষের দুর্গতির শেষ নেই। হয় সড়কের বেহাল অবস্থা। নয়তো লোহার বেইলি সেতুর লক্কর-ঝক্কর অবস্থা। জীবনের ঝুঁকি পারপার হচ্ছেন মানুষ। এটা হলো পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সবচেয়ে দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কের এখনকার চিত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমনিতেই এই সড়কের বেইলি ব্রিজগুলোর নাজুক অবস্থার কারণে যুগের পর যুগ ধরে মানুষের কষ্টের সীমা নেই। অবশেষে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় সাড়ে ৩ বছর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় একটি কালভার্টসহ আরও ৫টি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই শ্লথগতিতে চলছে লেমুয়া, মগাইছড়ি, নতুনপাড়া, হাতিছড়া, জুর্গাছড়ি ও ধুরুং খালের ওপর ব্রিজের নির্মাণ কাজ।

বর্তমানে দুটি ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি চারটি ব্রিজের নির্মাণে তাড়া নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে বিকল্প সড়ক ও লক্করঝক্কর ধরণের লোহার সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এ অবস্থার কারণে দুভোর্গে পড়েছেন লক্ষীছড়ি উপজেলাবাসী ও সড়কের আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়া পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের বেশ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। অনেকে চলমান ব্রিজগুলোর উন্নয়ন কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মিলছেনা বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের।

লক্ষীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. রেজাউল করিম অভিযোগ করেছেন, এই সড়কে চলমান প্রতিটি ব্রিজের কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বর্তমানে কাজ প্রায় বন্ধই বলা চলে। মাঝে মাঝে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজে হাত দিলেও বছরের অধিকাংশ সময় বন্ধ পড়ে থাকে।

এলাকার সবজি ব্যবসায়ী নজির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিজগুলোর কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। এখন উন্নয়ন কাজ যেন দুর্গতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ি চলাচলের সময় নাড়াচড়া করার কারণে গাড়িতে থাকা তরিতরকারি সড়কে পড়ে যায়।

এদিকে লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি বারবার দেখিয়ে দেয়ার পরও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু তারা (সওজ) সহসাই কাজ শেষ করার আশ্বাসের কথা জানাচ্ছেন।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ‘সড়ক বিভাগের ৭নং প্যাকেজের কার্যাদেশ পেয়েছে রানা বিল্ডার্স। কিছু অনাকাক্সিক্ষত কারণে সেতুর কাজ শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এখন এপ্রোচের কাজসহ বেশ কিছু কাজ বাকি। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply