নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » লক্ষীছড়িতে সেই সুপার জ্যোতি’ই চেয়ারম্যান !

লক্ষীছড়িতে সেই সুপার জ্যোতি’ই চেয়ারম্যান !

supaerjoti-coverrতাকে বিজয়ী করার জন্য জন্য একটি আঞ্চলিক দল বাকী প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগ ছিল। যার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র কিনলেও শেষাবধি টিকে থাকেন মাত্র ৯ জন। এই টিকে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই হুমকি ও চাপের কারণে নামমাত্রই নির্বাচনে অংশ নেন। পারেননি কোন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। ভয়ে প্রতীক বরাদ্ধ পাওয়ার পরও গত ২১ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন না করার কথা জানিয়েছিলেন নীলবর্ণ চাকমা (কাপ-পিরিচ)। তিনি বলেছেন, ‘ইচ্ছে থাকা সত্বেও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেননা। অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী স্বপন চাকমা (দোয়াতকলম)কে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য তাকে ‘শ্রমন’ হিসেবে বিহারে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকরা। মনোনয়নপত্র দাখিল করেও প্রত্যাহার করে নেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রে¤্রাচাই চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দশরত তালুকদার, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেবরানী চাকমা ও মংক্যচিং চৌধুরী। ভয়ে তারা কেউ মুখ খোলেননি। শুধু জানালেন,অসুস্থতা বা মানসিকভাবে প্রস্তুত নন বলেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন !

আর নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে কিনা এই নিয়ে স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে সবার মধ্যে সংশয় ছিলো। প্রশাসনও বিষয়টি বুঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জোরদার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবশেষে সব সংশয়, শংকাকে পিছনে ফেলেম,শেষ হলো লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আর নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক সহ সভাপতি সুপার জ্যোতি চাকমা (প্রাপ্ত ভোট ৪৩৭০)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাথোয়াই অং মারমা (প্রাপ্ত ভোট ২৯৪৬)। ইউপিডিএফ মূলত অস্ত্র ঠেকিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরাজিত আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী সাথোয়াই অং মারমা। তিনি জানান, প্রত্যন্ত ভোটকেন্দ্র গুলোতে সকাল থেকে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। তাঁরা সুপার জ্যোতি চাকমাকে ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করেছে। এবং যেসব এলাকায় আমি বেশি ভোট পাবো সেখানে গিয়ে ভোটারদের ভোট না দিতে হুমকি দিয়েছে। যদি তাঁরা এমন পরিস্থিতি তৈরি না করতো তাহলে আমার বিজয় নিশ্চিত ছিলো।

তবে এই বিষয়ে জানতে বিজয়ী প্রার্থী সুপার জ্যোতি চাকমার সাথে যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠন রিকো চাকমা এগুলোকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নির্বাচনে তিন পদে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন। নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচতি হন অংগ্য প্রু মারমা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচতি হন বেবী রাণী বসু। নির্বাচনে ১৫ হাজার ৯শ ৫ ভোটের বিপরীতে জমা পরেছে ১০ হাজার ৪শ ৯৮ ভোট।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply