নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » লক্ষীছড়িতে আতংকে প্রার্থীরা,শংকিত ভোটারও

লক্ষীছড়িতে আতংকে প্রার্থীরা,শংকিত ভোটারও

laxmichari-newssssআগামী ২৭ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের পক্ষে নেই কোন মাইকিং। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় দেখা মেলে প্রার্থীদের পোষ্টার। নিদিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা। শুরুর দিকে তিন পদে আওয়ামীলীগ, বিএনপির ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত টিকে রইলেন ৯ জন। কিন্তু টিকে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে নানা সংশয়। আর জেলার একমাত্র দূর্গম এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আতংকে ভুগছেন স্থানীয়রা। কারণ একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়াসহ বল প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরও নির্বাচন করছেননা লক্ষীছড়ি জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি নীল বর্ণ চাকমা পেয়েছেন (কাপ-পিরিচ)। তিনি বলেন, নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু লক্ষীছড়ির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে আমি সরে দাড়িঁয়েছি। তিনি এর বেশি কিছু বলতে রাজী হননি।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাথোয়াইঅং মার্মা (মোটরসাইকেল) জানান, ‘ইউপিডিএফের বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নেতাকর্মীদের নিয়ে শহর এলাকাগুলোতে আমার প্রচার-প্রচারণা সীমাবদ্ধ। একদম প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে আমি প্রচারনা চালাতে পারছিনা। তিনি বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষীছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ প্রার্থী চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী না হওয়ায় লক্ষীছড়ি বাজার ৬ মাস বন্ধ ছিল। আমরা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাইনা। আমরা পাহাড়ী-বাঙ্গালীর সহাবস্থান চাই।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী অংগ্যপ্রু মার্মা (চশমা) জানান, ‘প্রচার প্রচারনা চালানোর জন্য প্রশাসন থেকে আমি সহযোগিতা পাচ্ছি। আশা করি শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার পাহাড়ী বাঙ্গালীর সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কাজ করবো।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(সন্তু গ্রুপ)র লক্ষীছড়ি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক জোতিষ দেওয়ান জানিয়েছেন, নির্বাচনে আমাদের দল থেকে কোন প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়নি। নির্বাচনে ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। কিন্তু ইউপিডিএফ জনগনের চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। প্রার্থীদের হুমকি দিচ্ছে। ইউপিডিএফ প্রার্থী সুপার জ্যোতি চাকমাকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। অন্য প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার প্রচারনা বন্ধ করে দিয়েছে তাঁরা।
যাদের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ সেই ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) তা অস্বীকার করেছেন। সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক রিকো চাকমা বলেন, ‘লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইউপিডিএফকে নিয়ে যে প্রচারনা চালানো হচ্ছে সব অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর। আর যে সুপার জ্যোতি চাকমার কথা বলে হচ্ছে দল থেকে তাকে সরাসরি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। একটি বিশেষ মহল ইউপিডিএফ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নির্বাচনে মোট ৯ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছে, সাথোয়াই অং মারমা(মোটরসাইকেল) সুপার জ্যোতি চাকমা(আনারস), স্বপন চাকমা(দোয়াত-কলম),মো:মাইনুল ইসলাম(ঘোড়া) ও নীল বর্ণ চাকমা(কাপ-পিরিচ)। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, অংগ্যপ্রু মারমা(চশমা) ও রতন বিকাশ চাকমা(টিউবওয়েল), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুমনা চাকমা(তীর ধনুক) ও বেবি রানী বসু(পদ্ম ফুল)। উপজেলার মোট ১১টি কেন্দ্রে মধ্যে ৬টি কেন্দ্রকে ঝুকিঁপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে দুটি কেন্দ্র দূর্গম হওয়ায় সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনে মোট ১৫ হাজার ৯শ ৫জন ভোটার ভোট দেবেন।
এদিকে নির্বাচনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সর্বচ্চো নিরাপত্তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন লক্ষীছড়ির সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শওকত ওসমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের অনেক আগ থেকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের সাথে কয়েক দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে থাকবে বলেও জানান তিনি। তবে প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি বলে জানন তিনি।
স্থানীয়রা চান একমাত্র দূর্গম এই উপজেলার নির্বাচন যেন শান্তিপূূর্ণভাবে শেষ হয়। আর যারাই নির্বাচিত হবেন তাঁরা যেন পিছিয়ে পরা এই উপজেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply