নীড় পাতা » রাঙামাটি » লংগদু ইউএনও’র ফোন নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণা

লংগদু ইউএনও’র ফোন নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণা

‘গুপ্তধন’ পাওয়ার প্রলোভন শুনিয়ে ফোন করে প্রতারণা, লটারি জেতার প্রলোভন শুনিয়ে প্রতারণা, বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা। এমন সব প্রতারণার খবর আমরা কম বেশি সবাই জানি। তেমনি বিভিন্ন দফতরের সরকারি বড় কর্মকর্তার মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে টাকা চাওয়ার এই অভিনব প্রতারণার বিষয়ও আমাদের অজানা নয়। তবুও লোভে পড়ে প্রতারকদের নতুন নতুন কৌশলের কাছে হেরে যাই আমরা।

প্রতারকদের এমন এক কৌশলের শিকার হয়েছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। শুক্রবার (১৫ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ফোন করে প্রতারক চক্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নতমানের ল্যাপটপ দেয়া হবে এমন প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশে টাকা দাবি করে প্রতারকরা। প্রতারকদের এমন ফাঁদে কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা পা দিলেও বেশিরভাগ শিক্ষক প্রতারণা বুঝতে পেরে কৌশলে কেটে পড়েছে।

প্রতারণার শিকার উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাকে অন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাক ফোন দিয়ে জানান ইউএনও স্যার ব্যক্তিগত নাম্বারে আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি ফোন দিলে ইউএনও পরিচয়ে তার অফিসিয়াল নাম্বারে ফোন দিতে বলেন। আমি পুনরায় ফোন দিলে আমার প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ দেয়া হবে বলে বিকাশে টাকা দাবি করেন সে। এবং বলেন রবিবার অফিসে এসে ল্যাপটপ নিয়ে যেতে। আমি কোনো রকম সন্দেহ ছাড়াই তার বিকাশ (০১৮৭০৭৭১৭৮৬) নাম্বারে ৯১৮০ টাকা পাঠিয়ে দেই। পরে আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ করে সন্দেহ হয় আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। দ্রুত অফিসে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত হই আমি ভুল করেছি। প্রতারিত হয়েছি।

তবে প্রতারকের ফাঁদে পা না দিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন অনেক শিক্ষক। তাদেরই একজন লংগদু বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবি রঞ্জন চাকমা। তিনি জানান, শুক্রবার বিকালে আমাকে ফোন করে ইউএনও স্যারের নাম্বার থেকে। ল্যাপটপ দেয়ার তথ্য জানান আমাকে। টেলিটক নাম্বারে কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না বলে একটি রবি (০১৮৭০৭৭২০২৭ ) নাম্বার থেকে আবার কথা বলেন এবং নয় হাজার টাকা দাবি করেন প্রতারক। বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে আমি ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারি স্যার অফিসেই আছেন। এবার আমি সরাসরি স্যারের সাথে দেখা করে বিস্তারিত জানাই।

প্রতারকরা শুক্রবার বিকাল ৩ থেকে ৪ টা পর্যন্ত এক ঘন্টা সময়ে প্রায় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ফোন করেন। যে সময়ে মানুষ বিশ্রামে বাসায় থাকে সেই সময়কে বেছে নিয়েছে প্রতারক চক্র।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন বলেন, একটা প্রতারক চক্র মাঝে মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তাদের নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণা করে আসছে। এ বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া দরকার। আমি বিষয়টি জানতে পেরে থানায় জিডি করেছি। পুলিশ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply