নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » লংগদুতে বিএনপির ২ প্রার্থীর চ্যালেঞ্জার আওয়ামী লীগের ১

লংগদুতে বিএনপির ২ প্রার্থীর চ্যালেঞ্জার আওয়ামী লীগের ১

langudu elc coverরাঙামাটির লংগদু উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ৩১ তারিখ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ টি উপজেলার মধ্যে সবচে বেশি পুনর্বাসিত বাঙালী অধ্যুষিত উপজেলা লংগদু বরাবরই বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জ্বল হোসেনও উপজেলা বিএনপির সভাপতি। এখানে এবারের নির্বাচনে তিনি আবারো দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন,তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের সাবেক উপজেলা সভাপতি হাজী মো: ফয়েজুল আজিম,যিনি ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। লড়াইয়ে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকারও। এছাড়া চতুর্থ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

তোফাজ্জ¦ল হোসেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি অধ্যুষিত এই উপজেলার ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই বটে। তবে গত পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকাবাসীর জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারায় বিপাকে আছেন। এছাড়া সেই নির্বাচনে তিনি তার পুরনো সংগঠন, পুনর্বাসিত বাঙালীদের মধ্যে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সমর্থন পেলেও এবার আর সেই সুযোগ মিলছেনা তার। তার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর পুরনো সংগঠনটির সাথে সৃষ্ট দুরত্ব কমাতে পারেননি তিনি,ফলে এর মাশুলও হয়তো তাকে দিতে হতে পারে। এছাড়া বিএনপির একজন শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থীও তার গলার কাঁটা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু শেষাবধি তিনি যদি জয়ীও হন,তা হবে বিএনপির আবেগি ভোটেই।

হাজী মো: ফয়েজুল আজিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি,বর্তমানে জেলা বিএনপির নেতা। এর আগে উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোটও পেয়েছিলেন। আশা ছিলো,এবার মনোনয়ন পাবেন,কিন্তু মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে এবারো বিদ্রোহী প্রার্থি তিনি এবং গতবারের চেয়েও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবেই। এবার তিনি পাশে পাচ্ছেন গত পাঁচ বছরে তোফাজ্জ্বল হোসেন এর কারণে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের এবং বাঙালীভিত্তিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের আশীর্বাদও। সাথে আছে পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির ‘মন্দের ভালো’ সমীকরণের সমর্থনও। ফলে যেকোন বিচারে অত্যন্ত শক্ত অবস্থান তার এবং তা বিজয়ী হওয়ার মতোই।

ভোটের মাঠে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও সজ্জন মানুষ হিসেবে লংগদু উপজেলায় তার পৃথক গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থান আছে। আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সবাই একক প্রার্থী হওয়ার তার পেছনে ঐক্যবদ্ধ। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের নিজস্ব ভোটব্যাংক অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও বিএনপির দুই প্রার্থী থাকার সুবিধা পাবে দলটি। ফলে বিএনপির তোফাজ্জ¦ল আর ফয়েজ এর পারস্পরিক ভোট কাটাকাটির সুযোগে বারেক সরকার চেয়ারম্যান হয়ে যাওয়ার বিচিত্র নন।

চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি আছেন,থাকবেন কিন্তু বিজয়ী হবেন ,এমন ভাবনা তার ঘনিষ্ঠজনদেরও নেই। ফলে ভোটের মাঠে তার অবস্থান অনুল্লেখযোগ্যই।

৪৪ হাজার ৩৭৯ ভোটারের এই উপজেলার যেকোন প্রার্থীর জয়পরাজয়ে প্রধানত: ভূমিকা রাখবে বাঙালী ভোটাররাই। তবে প্রায় ৭ হাজার পাহাড়ী ভোটারের নীরব সমর্থনও ফলাফলে নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বেইলি সেতু ভেঙে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান প্রধান সড়কের সিনামা হল এলাকার বেইলি সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক …

Leave a Reply