নীড় পাতা » ব্রেকিং » লংগদুতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ’র

লংগদুতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ’র

পৃথক পৃথক বিবৃতিতে লংগদুতে পাহাড়ীদের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ এর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সেনা জোন ও থানার পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস প্রদান করা সত্ত্বেও জুম্মদের ঘরবাড়িতে বাঙালিদের অবাধে এই অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনা থেকে এটা নি:সন্দেহে বলা যায় যে, সেনা-পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃত্বের যোগসাজশে জুম্মদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক হামলার পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে সেটেলার বাঙালিরা লাশ নিয়ে মিছিল করার আয়োজন করেছিল।

বিবৃতিতে আরে বলা হয়, ‘জুম্মদের জায়গা-জমি জবরদখল ও স্বভূমি থেকে উচ্ছেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, সর্বোপরি জুম্ম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার হীন উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রযন্ত্র তথা শাসকশ্রেণির মদদে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে জনসংহতি সমিতি মনে করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জরুরী ভিত্তিতে সেনা-পুলিশের ছত্রছায়ায় সেটেলার বাঙালিদের এই হামলা বন্ধ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছে এবং এই অগ্নিসংযোগ ও হামলার সাথে জড়িত সেনা-পুলিশ ও সেটেলার বাঙালিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে।’

অন্যদিকে পাহাড়ের আরেক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর পক্ষ থেকে দেয়া প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাকে সাদা চোখে সাধারণ একটি সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কোন সুযোগ নেই। মূলত: পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প সৃষ্টি করার মাধ্যমে জুম্ম জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে নস্যাৎ করা ও তাদেরকে নিজভূমি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এই হামলার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশের সচেতন ও সাধারণ জনগণকে সোচ্চার হবার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি বিবৃতিতে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে সেনাবাহিনীর সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জারি থাকা সেনা শাসন অপারেশন উত্তরণকে দায়ি করেন। তিনি বলেন, জুম্ম ধ্বংসের নীল নকশা হিসেবেই পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলারদের সহায়তা করার জন্য সেনা শাসন জারি রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে লংগদুতে সাম্প্রদায়িক হামলার সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা বিধানকরা এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে দুর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

রাঙামাটির লংগদুতে উপজেলা পর্যায়ে ‘দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি)-২০১৯’ অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার লংগদু …

২ comments

  1. সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিহার করে সবাইকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক হতে হবে,,এখনিই সময় সব সম্প্রদায়ের মানুষের এক কাতারে এসে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক হোক পার্বত্য অঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: