নীড় পাতা » ব্রেকিং » র‌্যালি আর আলোচনায় সীমাবদ্ধ পর্যটন দিবস!

র‌্যালি আর আলোচনায় সীমাবদ্ধ পর্যটন দিবস!

‘ভবিষ্যতে উন্নয়নে, কাজের সুযোগ পর্যটনে’ শ্লোগানে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালি ও আলোচনা সভায় রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল। উপস্থিত ছিলেন,  রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবসে এবারের যে প্রতিপাদ্য বিষয় রাখা হয়েছে, এটি রাঙামাটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। রাঙামাটিতে পর্যটন শিল্প বিকাশে প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ গুলোকে কাজে লাগাতে পারলে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, যা বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপশি দেশের রাজস্ব আয়ও ভূমিকা রাখতে পারবে।

অন্যদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবসে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িতরা হতাশা প্রকাশ করেন। রাঙামাটির পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে নানান গল্প, সম্ভাবনা নিয়ে প্রায়শই আলোচনা হয় সভা সেমিনারে। মেলে আশ্বাস উন্নয়ন ও পরিবর্তনের। কিন্তু বাস্তবতা হলো হ্রদ সৃষ্টির এত বছরেও এগোয়নি এ জেলার পর্যটন। অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। পর্যটনের উন্নয়নে স্থানীয় উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারের দায়িত্বশীলরা শুধুমাত্র পরিকল্পনার বৃত্তে আটকে থাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না এই খাতে।

রাঙামাটি হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়নে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড গঠন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ শক্তিশালী করা হলেও, পর্যটন উন্নয়নে তাদের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। অপরদিকে সংস্থাগুলো নামে বেনামে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা খরচ করে। কিন্তু মাত্র কয়েক কোটি টাকা খরচ করলে রাঙামাটির পর্যটন খাতে ব্যাপক পরিবর্তন করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, আমরা উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে কয়েকবার দেখা করেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পায়নি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও পরিষদের হস্তান্তরিত খাত পর্যটন বিষয়ের আহ্বায়ক অমিত চাকমা রাজু বলেন, ‘১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি অনুসারে স্থানীয় পর্যটন শিল্প জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পর্যটন বিকাশে এখনো সংস্থাটি তেমন কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। পাশ্ববর্তী দুই জেলা থেকে পর্যটন উন্নয়নে রাঙামাটি অনেক পিছিয়ে আছি। আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পর্যটন উন্নয়নে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। পাশ হয়ে আসলে কাজ শুরু হলে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) আশীষ কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘পর্যটন নিয়ে মূলত কাজ করে জেলা পরিষদ। কোথাও উন্নয়নের প্রয়োজন হলে আমাদের বললে আমরা সেটি করে দিই। যেমন, বান্দরবানে মেঘলা জেলা প্রশাসক উদ্যোগ নিয়েছে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করে দিয়েছি। রাঙামাটিতেও কেউ যদি তেমন উদ্যোগ নেয় অবশ্যই উন্নয়ন বোর্ড সেটি করার চেষ্টা করবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে ওষুধ সম্পর্কে মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কর্তৃক নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে জনসচেতনতা ফিরিয়ে আনতে …

Leave a Reply