নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রুমে বহিরাগত রেখে তিনি মিটিংয়ে…

রুমে বহিরাগত রেখে তিনি মিটিংয়ে…

facilatis-departmentঅফিসে কর্তা নেই,অচেনা একটি ছেলে কর্তার কম্পিউটার চেয়ারে বসে কম্পিউটারে কি যেনো কাজ করছে,টেবিলের উপর অসংখ্য টেন্ডার এর কাগজ,ব্যাংক ড্রাফট, পে অর্ডারসহ মূল্যবান কাগজপত্র পড়ে আছে, খোলা পড়ে আছে টেন্ডার বাক্সটিও,সেখানেও দেখা যাচ্ছে জমা পড়া টেন্ডার,সবমিলিয়ে অনিরাপদ একটি পরিবেশ, তবুও ছেলেটিকে অফিসের কেউ কিছু বলছেনা। কারণ, ছেলেটি কর্তার বিশেষ আস্থাভাজন এবং বিশেষ সম্পর্কের কারণেই অফিসে তার এই অনধিকার প্রবেশ ! কিন্তু যাদের অসংখ্য মূল্যবান কাগজ কিংবা ব্যাংক ড্রাফট,দরপত্র এইভাবে পড়ে আছে,তারাই বা কেনো বিষয়টি মেনে নিবেন ? কি আর করা, অগত্যা বাইরে থেকে আসা ঠিকাদারদের রোষে ওই অচেনা যুবক ! কর্তা তখনো জেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে,খবর পেয়েও আসছেন না। কিন্তু পুলিশ এলো ঠিকই আর ছেলেটিকে নিয়ে গেলো ঠিকাদারদের অভিযোগের ভিত্তিতে। এলেন জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও। তিনিও শুনলেন ঠিকাদারদের অভিযোগ,কথা বললেন অফিস কর্মকর্তা,কর্মচারিদের সাথেও। যা বোঝার তা বুঝলেন কিংবা কিছুটা সংশয় নিয়ে ফিরেও গেলেন।

মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরের রাণী দয়াময়ী স্কুলের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে ঘটেছে এমন নাটকীয় ঘটনা। আর যা রুমে এতো ঘটনা তিনি ওই বিভাগেরই নির্বাহী প্রকৌশলী নওজেস আলী। আটক হওয়া ছেলেটির নাম মেহেদী ঈমাম,যে নিজেকে রাঙামাটি সরকারি কলেজের ছাত্র বলেই দাবি করেছে এবং বিভাগীয় প্রকৌশলীই তাকে যেকে এনে কাজে লাগিয়েছে বলে দাবি করেছেন মেহেদী। tender-03

tender-02
টেবিলে পড়ে আছে টেন্ডারের মূল্যবান কাগজ ও পেঅর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট

কিন্তু ঠিকাদারদের বক্তব্য পরিষ্কার । তাদের কথা হলো, অফিসের কর্মচারীদের বাদ দিয়ে কেনো বহিরাগত ব্যক্তি কাজ করছেন ? কেনো অচেনা এই যুবক বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে স্পর্শকাতর কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছেন ? খবর পেয়েও কেনো আসলেন না তিনি ? তাদের দাবি,নানান অনিয়মের কারণে আলোচিত এই প্রকৌশলী নিজের অনিয়ম চালাতেই বাইরের ব্যক্তিকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। অভিযোগকালে প্রায় ত্রিশজন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি,তারা অফিসে কাজে এসে বিভাগীয় প্রকৌশলীর রুমে অচেনা এই ছেলেটিকে কাগজপত্র ঘাঁটতে দেখেই আটক করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপসহকারি প্রকৌশলী আয়েত আলী ও হিসাব রক্ষক বিমল চন্দ্র দাস ছেলেটিকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন।

tende-04
এইভাবে খোলা পড়ে আছে টেন্ডার বাক্স

তবে অভিযুক্ত যুবক মেহেদী ইমাম বলেন, আমি তার (নির্বাহী প্রকৌশলী)’র পরিচিত। তিনি কম্পিউটারের কাজ কম জানেন বলে আমাকে সহযোগিতা করতে বলেছেন,আমিও তাই করছিলাম। এইরকম ঝামেলা হলে তো আমি আসতাম না। তিনি আমাকে এইভাবে একটা বিপদে ফেলবেন আমি বুঝতেও পারিনি,তার কাজ করতে এসে আমি নিজেই ঝামেলায় পড়লাম। এই সময় মেহেদী মোবাইল ফোনে ওই প্রকৌশলীকে বলছিলেন, ‘আপনি আমাকে ডেকে এনে কেনো বিপদে ফেললেন ?’

tednder-01
এই সেই যুবক, যাকে নিয়েই এতো কাহিনী..নাম তার মেহেদী ইমাম

আর নির্বাহী প্রকৌশলী ও আলোচিত ওই কর্তা নওজেস আলীর বক্তব্য, ছেলেটি আমার পরিচিত, আমার কাজে সহযোগিতা করার জন্যই এসেছে,ঠিকাদারদের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও নিজের অফিসে হট্টগোল চলাকালে তিনি ঠিকই জেলা পরিষদে মাসিক সভায় ব্যস্ত (!) ছিলেন। তার ডেকে আনা ছেলেটি বিপদে পড়লেও তিনি নিজে আসেননি।

ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(এডিএম) সাইফুদ্দীন আহম্মেদ বলেন, আমি বিষয়টি জানলাম,সবার অভিযোগও শুনলাম। ডিসি স্যারের সাথে আলোচনা করে এবং যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই  প্রকৌশলীর কথা শুনে,পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো। তবে এইভাবে বাইরের লোক দিয়ে অফিসের কাজ করানো এবং প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে রুমের তালা বাইরের ব্যক্তির জন্য খুলে দেয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। এসময় এডিএম এর জিজ্ঞাসাবাদে রুমের পিয়ন জানান, স্যারের নির্দেশেই সে ওই ছেলেটির জন্য রুম খুলে দিয়েছে।

Nayojes-Ali
নির্বাহী প্রকৌশলী নওজেস আলী
shikkha office
রাঙামাটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর কার্যালয়

ছেলেটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কোতয়ালি থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মো: কামাল হোসেন বলেন,অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে আটক করে আমরা থানায় নিয়ে যাচ্ছি,অফিস কি ধরণের অভিযোগ করে তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

পুলিশের জালে ধরা পড়ল সেই মাঈন উদ্দিন

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার ঢাকাইয়া কলোনির সেই মাঈন উদ্দিন (৪৫) আবারো কাপ্তাই থানা পুলিশের হাতে …

Leave a Reply