নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » রামগড় থানা ভবনের টেন্ডারে মহাঘাপলা !

রামগড় থানা ভবনের টেন্ডারে মহাঘাপলা !

PWD-Khgমাত্র দুটি সিডিউল দিয়েই প্রায় ৭ কোটি টাকার রামগড় থানা ভবন নির্মান কাজ বৈধ করছে খাগড়াছড়ি গণপূর্ত বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সাথে যোগসাজসে প্রায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আয়কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে প্রভাবশালী একটি চক্র একজন পাহাড়ী ঠিকাদারের নামে দরপত্রটি জমা দিয়েছেন। সাধারন ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশগ্রহন করতে না দেয়ায় সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে কাজটি ভাগিয়ে নিতে রাঙামাটিতে জমা হওয়া একমাত্র সিডিউলটিও নিয়ে নানা নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে। রাঙামাটি হতে খাগড়াছড়িতে আসার পথে দুর্বৃত্তরা সেটি ছিনিয়ে নিয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

জানা যায়, সারাদেশে ১০১টি থানা ভবন নির্মান প্রকল্পের আওতায় গত ৭ আগষ্ট খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানা ভবন নির্মানের দরপত্র আহবান করা হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্রির এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ছিল দরপত্র জমাদানের শেষদিন। দরপত্রের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। খাগড়াছড়িতে মাত্র দুটি ও রাঙ্গামাটিতে আরো একটি দরপত্র জমা পড়ে। খাগড়াছড়িতে সিডিউল জমা দেয়া দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একটি এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা এবং অপরটি কন্টিনেন্টাল কনস্ট্রাকশন কম্পানী। রাঙ্গামাটিতে জমা পড়ে ডেল্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সিডিউল।

এদিকে রাঙামাটিতে জমা হওয়া সিডিউলটি খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসার পথে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়ক হতে দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জ্যেতি চাকমা জানান, রাঙামাটিতে একটি অপূর্নাঙ্গ সিডিউল জমা পড়েছে। ছিনতাই হবার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

অবশ্য রাঙামাটি গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী জানান, রাঙামাটিতে একটি সিডিউল জমা পড়েছিল। সেটি শাহাদাত হোসেন নামের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বুঝে নিয়ে গেছেন। এদিকে প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক‘জন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, রাঙামাটির সিডিউলটি বাদ দিতেই অপূর্নাঙ্গ কিংবা সিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজানো হচ্ছে।
লাভজনক একটি কাজেও প্রর্যাপ্ত সিডিউল জমা না পড়ার কারণ খুঁজে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি বিশেষ গোষ্ঠির দাপটের কারনে সাধারন ঠিকাদাররা টেন্ডারে অংশ গ্রহন করতে সাহস করেনি। এমনকি এ বিষয়ে কথা বলতেও রাজি হচ্ছেন না। সিডিউল জমা দেয়ার দিনে (১৬ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ির টেন্ডার বক্সগুলোর আশপাশে ক্যাডাররা মহড়া দিয়েছে।

তবে বিশেষ শ্রেনীর ঠিকাদার মো: সেলিম জানান, রাঙামাটি, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সিডিউল থাকার কথা থাকলেও সাধারনত রাখা হয়না। ফলে কেউ চাইলেও সিডিউল ক্রয় করতে বা জমা দিতে পারেননা।

জানা যায়, পাহাড়ী ঠিকাদাররা প্রায় সাড়ে ৪ ভাগ ‘আয়কর’ জমা দেয়া ছাড়াই ঠিকাদারী কাজ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ৭ কোটি টাকার রামগড় থানা ভবনটি নির্মানেও পাহাড়ী ঠিকাদারের অন্তত ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব। অথচ এই কাজে এস অনন্ত ত্রিপুরার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে সিডিউল জমা দেয়া হলেও কাজটি করবেন জনৈক বাঙ্গালী ঠিকাদার। পাহাড়ী ঠিকাদারের নামে এভাবে খাগড়াছড়িতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার আয়কর ফাঁকি দেয়া হলেও কেউই দেখছেনা। এছাড়া সাধারন ঠিকাদাররা সিডিউল কিনতে না পারায় সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত কয়েক বছরে গণপূর্ত বিভাগের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার বিভিন্ন টেন্ডার কাজই এস অনন্ত ত্রিপুরার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে সর্বনিন্ম দরদাতা দেখিয়ে কার্যাদেশ দেয়া হয়। যদিও এস অনন্ত ত্রিপুরা দীর্ঘদিন ধরেই নিজে কোন কাজ করেন না। তার প্রতিষ্ঠানের নামে চলে সব কাজ। ফলে সরকার পুরোপুরি ভাবে আয়কর হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে এস অনন্ত ত্রিপুরা জানান, ‘আমরা কয়েকজন মিলে রামগড় থানা ভবনটির কাজ করবো। তবে দিদারুল আলম, রাজ্জাকও আছেন।’ এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন বাক প্রতিবন্ধি বনে যান। তার মুখ থেকে কথাই বের হচ্ছিলনা। অন্যান্য প্রশ্নেরও তিনি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে সরিয়ে নিতে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জ্যোতি চাকমাকে ইশারায় কথা বলেন। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জ্যোতি চাকমা জানান, খাগড়াছড়ি গনপূর্ত টেন্ডার বক্সে ২টি এবং রাঙ্গামাটিতে অপূর্নাঙ্গ একটি সিডিউল জমা পড়ে।

তারা দুই প্রকৌশলীই জানিয়েছেন, দুই সিডিউলেই কার্যাদেশ দেয়া যাবে। তবুও সিডিউলগুলো চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত বিভাগীয় প্রকৌশলী ও তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

সৌরশক্তি ব্যবহার করে সেচ সুবিধার আওতায় কৃষক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শুকনো মৌসুমে চাষযোগ্য জমির প্রায় অর্ধেকের মতো খালি পড়ে থাকে সেচের অভাবে। …

Leave a Reply