নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » রামগড়ে মৈত্রী সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

রামগড়ে মৈত্রী সেতু দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

খাগড়াছড়ির রামগড়ে নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ ঘুরে দেখতে সীমান্তবর্তী মহামুনি এলাকায় প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১, এই সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সাবেক মহকুমা শহর রামগড় যেন ফিরে পেতে যাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য। এক সময়ের মহকুমা শহর রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের কোপানলে জেলার পরিবর্তে হয়ে যায় উপজেলা। এ নিয়ে রামগড়বাসীর মনকষ্টের যেন শেষ নেই। রামগড় স্থল বন্দর চালু হলে দুঃখের কিছুটা লাঘব হয়ত হবে। রামগড়বাসীর জন্য অনেকটা ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো’ মত। স্থলবন্দরটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির আলো দেখছিলেন স্থানীয়রা। তাই উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুটি একনজর দেখতে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কিন্তু নিরাপত্তার কথা ভেবে সেতুর ওপরে উঠতে বাধা দিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে হাজারো লোক ছুটে আসছেন নান্দনিক এই সেতুটি দেখতে রামগড়ের সীমান্তবর্তী মহামুনি এলাকায়। তবে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) প্রকল্প এলাকাসহ স্বপ্নের সেতুর ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
ঢাকা থেকে আসা শিল্পী নামের এক নারী বলেন, তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। রামগড়ে তার পৈতৃকনিবাস। অনেক আগেই এই সেতু নির্মাণের খবর শুনে আনন্দিত হয়েছিলেন। পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার পর সেতুটি দেখতে তর আর সইছিল না তাঁর। তাই ছেলে এবং মেয়েকে সাথে নিয়ে সেতু দেখতে চলে এসেছেন।

আরেক দর্শনার্থী রামগড়ের স্থানীয় বাসিন্দা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহীদা ফেরদৌস বৃষ্টি বলেন, রামগড় পর্যটনের শহর। এই শহরের বুকে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু শহরের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিবে। তিনি আরো যোগ করেন, রামগড়ে স্থলবন্দর চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রসার ও পর্যটন শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়বে। উন্মোচিত হবে অর্থনীতির নতুন দ্বার।

রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক জানান, সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর স্থল বন্দরের কার্যক্রম চালু হলে খুলে যাবে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন দুয়ার। এই স্থলবন্দর চালু হলে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে বলেও আশা করেন তিনি।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু.মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় করার কথা তিনি শুনেছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা পড়ায় সেতুর চারপাশে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে নজর দেবেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৫ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু -১ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। খাগড়াছড়ির রামগড়ে মহামুনি এলাকায় প্রায় ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করছে ভারত সরকার। ৪১২ মিটার দৈঘ্যের সেতুটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৮২ দশমিক ৫৭ কোটি রুপি।

নির্মাণকাজ শেষ হলে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম মহকুমায় সংযোগ স্থাপিত হবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যসহ মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হলে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী সেতুটি উদ্বোধন করবেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply