নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

খাগড়াছড়ির রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণসহ নানা অপকর্মে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বিপদের আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় রাতজেগে পাহাড়া বসিয়েছেন স্থানীয়রা। এই অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিন কে অপরাধ দমনে আরও কঠোর ও সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, ১৫ আগস্ট গভীর রাতে রামগড় কমপাড়া গ্রামে চাল ব্যবসায়ী মো. ইউছুফের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৩ লাখ টাকা, ৬ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি মোবাইল ফোন সেট লুটে নেয় ডাকাতদল। ৪ আগস্ট রোববার রামগড় সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে দুইটি ল্যাপটপ, দুইটি সাউন্ড বক্স ও নগদ ৫হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই রাতে গর্জনতলী লক্ষন দেবনাথ এর পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ মেরে ফেলে সন্ত্রাসীরা। ৩ আগষ্ট শনিবার গভীর রাতে চার বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। এ সময় ডাকাত দলের হামলায় একই পরিবারের ৪জন আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, গত শনিবার গভীর রাতে ৭/৮ সদস্যের দুর্বৃত্ত দলটি রামগড় পৌরসভার বৈরাগী টিলার নুর ইসলামের বাড়ি, কালাডেবা নুরুল আমীন মেম্বার ও সিরাজ কোম্পানির বাড়িতে ঢুকে নগদ ৪২হাজার টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। নারী ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা আক্তার বলেন, পূর্ব চৌধুরী পাড়া মফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে ৪০ হাজার নগদ টাকা ও এক ভরি সোনা নিয়ে যায়। এসময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। আহতরা হলেন, মফিজুর রহমান (৫০), তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৪০) ও ছেলে বেলাল হোসেন (২৭) ও ইমন হোসেন (১৬)। এর আগের দিন ২, আগষ্ট শুক্রবার কোরবানীর পশু ছিনতাই হয় রামগড় মহামুনি এলাকায়। দুইটি ষাঁড় অস্ত্রের মুখে নিয়ে যায় দুর্বৃত্ত চক্র। ২৯, জুলাই দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে আবদুল ছাত্তার নামের এক বখাটে গ্রেপ্তার হয় রামগড় নাকাপায়। ২০,জুলাই ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাসেম নামের এক ব্যক্তি রামগড় খাগড়াবিলে গ্রেপ্তার হয় পুলিশের হাতে।

একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা ও শাহ আলম মজুমদার বলেন, কোনও দুষ্টচক্র নেপথ্যে থেকে এ সব অশুভ কর্মকান্ড চালিয়ে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে। চুরি ,ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপতৎপরতায় ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। জুয়াখেলা, মদ-গাঁজা সেবনের কারণে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা। রামগড় বাজার কমিটির সভাপতি হাসেম খাঁ মেম্বার বলেন, এখন রামগড়ে যা হচ্ছে ইতোপূর্বে কখনো হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। ২২৯, নম্বর রামগড় মৌজার হেডম্যান মংশেপ্রু চেীধুরী বলেন, লোকজন রাত জেগে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়া দিচ্ছেন। আমরা এখন ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি।

এ প্রসঙ্গে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত বলেন, এখানে আইন-শৃঙাখলা পরিস্থিতি ভালই ছিল হঠাৎ চুরি ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছেন, কয়েকদিনের মধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরোও বলেন, উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন মিলিয়ে ২৭টি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর ও মেম্বারদের আহ্বায়ক করে অপরাধ দমন কমিটি গঠন করেছি।

রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কার্বারি বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে রামগড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। কোন দুষ্টচক্র পরিকল্পিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সরকারের সাফল্যকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)তারেক মো. হান্নান বলেন, সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের ৭টি টিম এলাকায় কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্মের তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদেরও শিগগিরই আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

রাঙামাটিতে বুদ্ধি ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। …

Leave a Reply