নীড় পাতা » ব্রেকিং » রাজস্থলীতে পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন

নির্বাক ভূমিকায় প্রশাসন

রাজস্থলীতে পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড় কেটে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। তবে ভাটা তৈরির সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকলেও নির্বাক ভূমিকায় অবতীর্ণ প্রশাসন। রাঙামাটির রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া সড়ক লাগায়ো খোরাইম্রংপাড়া এলাকায় ‘বিআরবি ব্রিকস’ নামে ইটভাটাটি স্থাপন করেছে ভাটা মালিক সাধন দত্ত ও মো. আজিজ দুই নামের ব্যবসায়ী। প্রায় ৯০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে খাড়া করে পাহাড় কাটার কারণে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে ইটভাটার শ্রমিকরাও।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় পাহাড়কাটার যজ্ঞ চললেও নির্বাক ভূমিকা অবতীর্ণ তারা। পাহাড়ের মানুষকে যার খেসারত দিতে হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে, ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। অন্যদিকে পাহাড় কাটার কারণে দিনদিন পার্বত্য চট্টগ্রামে বনভূমির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। নানান কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, রাজস্থলী উপজেলায় সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আস্ত একটি সবুজ পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। অন্তত দেড়শ’ ফুট উচ্চতার বিশাল পাহাড়ের একটি অংশ কেটে নেয়া হয়েছে। কাটা পাহাড়ের বাকী অংশ সেগুন বাগান। দেখেই বুঝা যাচ্ছে বাগানে আচ্ছাদিত পাহাড় কেটে ইটভাটাটি স্থাপন করেছে। খাড়াভাবে পাহাড়টি কাটায় আসন্ন বর্ষায় পাহাড়টি ধসে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রায় দেড় একরের বেশি পাহাড় কেটে সমতল করে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ভাটার পাশেই কাটা পাহাড়ের মাটির স্তুপ। এছাড়া যাতায়াতের জন্য ভাটার পিছনে আরো একটি পাহাড় কেটে রাস্তা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা অবৈধ হলেও তা তোয়াক্কা করেনি ভাটা মালিকরা। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৯৫ এর ৬(খ) অনুযায়ী পরিবেশ সুরক্ষায় পাহাড় কাটা সম্পর্কে বাধা-নিষেধ রয়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কতৃর্ক সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কাটা যাবে না। এছাড়া ভাটা নির্মাণ ও ইট প্রস্তুত আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম নেই। কিন্ত বিআরবি ইটভাটাটি খোরাইম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেষেই স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও লোকালয়ের বাসিন্দাদের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, সাধন বাবু ও আজিজ নামের দুজন ইটভাটা তৈরি করেছে। ভাটায় ইট তৈরির কারণে ভাটার আশপাশের পরিবেশ ধুলোয় ধূসর হয়ে থাকে। কিন্তু স্থানীয়দের চলাফেরায় কিছুটা অসঙ্গতি দেখা দিলেও কেউ কিছু বলছেন না। কারণ তারা এলাকার প্রভাবশালী মানুষ। তারা সবকিছু ম্যানেজড করেই ভাটা বানিয়েছেন।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী জানান, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পাহাড় ধসে দেড় শতাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দেখা যাচ্ছে যারা এসব পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত তারা হয় প্রভাবশালী নয়তো প্রভাবশালীদের মদদপুষ্ট। প্রশাসন পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে পাহাড় কাটা চলছে। অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা পার্বত্য এলাকার জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে ফেলেছ। আবার এসব ইটভাটায় বনের কাঠ পোড়ানো হয়ে থাকে।

এসব প্রসঙ্গে ইটভাটা মালিক সাধন দত্ত বলেন, ইট ভাটার অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে এখনো অনুমোদন পায়নি। তবে পাহাড় কাটা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা না বলে ইটভাটার অংশীদার মো. আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তবে ভাটার মালিক মো.আজিজ বলেন, ‘পাহাড়টি আমার ব্যক্তিগত, তাই কেটেছি। তবে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পাহাড় কাটার কোন অনুমতি নেয়নি। এসব কাজে একটু অসঙ্গতি রয়েছে। সব সময় তো নিয়ম মানার সুযোগ নেই।’

রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শেখ ছাদেক জানান, কয়েক মাসে আগে ইটভাটা মালিকদের কাছে ভাটা স্থাপনে অনুমতিসহ প্রাঙ্গসিক কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। তারা এখনো অনুমোদনের কাগজপত্র জমা দেয়নি। পাহাড় কাটা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি) মোহাম্মদ জমির উদ্দিন বলেন, ‘পরিবেশ আইন অনুযায়ী কোনো ভাবেই পাহাট কাটা যাবে না। যারা আইন অমান্য করেছেন, আমরা খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিবর্ণ পাহাড়ের রঙিন সাংগ্রাই

নভেল করোনাভাইরাসের আগের বছরগুলোতে এই সময় উৎসবে রঙিন থাকতো পাহাড়ি তিন জেলা। এই দিন পাহাড়ে …

Leave a Reply