নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » রাজনৈতিক হানাহানিমুক্ত ‘সম্প্রীতির দীঘিনালা’

রাজনৈতিক হানাহানিমুক্ত ‘সম্প্রীতির দীঘিনালা’

DSC01772.jpg222বর্তমান সরকারের পাঁচ বছর রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতমুক্ত ছিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা। গত পাঁচ বছরে দীঘিনালায় বরাদ্দকৃত টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট একটিও ব্যবহার করতে হয়নি। থানায় কোন রাজনৈতিক মামলা হয়নি। কোন দলের মধ্যে ঘটেনি সংঘর্ষ। জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্রাতৃত্ববোধ। জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ মনে করেন সারাদেশে যাই হোক তাঁরা চান এলাকা শান্ত থাকুক। রাজনীতিতে সমস্যা হবেই,কিন্তু তা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে চান তারা।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন,গত পাঁচ বছরে কোন রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়নি। থানায় বরাদ্দকৃত কোন টিয়ারশেল,রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়নি। পুলিশ সদস্যদের কোন লাটিচার্জে অংশ নিতে হয়নি। রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিলে তা স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বসে মীমাংসা করেন। সকল দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভালো সর্ম্পক রয়েছে।

দীঘিনালা প্রেস ক্লাবে সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রাজু বলেন,সারাদেশের মধ্যে দীঘিনালা অন্যরকম। ২০১০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি যখন সাজেক আর খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়ী-বাঙালী সংহিস ঘটনা চলছে তখন আমরা দীঘিনালাবাসী সকল জাতীয়,আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তি মিছিল করেছিলাম। যা সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিলো। সারাদেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালাও পোড়াও চললেও আমাদের এখানে এখনো পর্যন্ত কোন ঘটনা ঘটেনি। আশাকরি ঘটবেও না।
দীঘিনালা ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ তরুণ কান্তি চাকমা বলেন,দীঘিনালার একমাত্র এ কলেজে সকল রাজনৈতিক দলের কমিটি আছে। দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। ছাত্র সংগঠনগুলো আদর্শগত আলাদা হলেও সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ন পরিবেশের ক্ষেত্রে সবাই ঐক্যবদ্ধ। একে অপরের সাথে খুব ভালো সর্ম্পক।

উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাসুদ রানা বলেন,দীঘিনালায় রাজনৈতিক সকল কর্মসূচী পালন হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করে। আমাদের এলাকা শান্ত ও সংঘাতমুক্ত রাখার জন্য আমরা এক্যবদ্ধ। অন্যদলের নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের সর্ম্পকটা ভাইয়ের মতো। রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয় কিন্তু তা আমরা নেতৃবৃন্দরা বসে মীমাংসা করি। আমরা সংঘাতে বিশ্বাসী নই।

আমাদের এলাকা শান্ত ও সংঘাতমুক্ত রাখার জন্য আমরা এক্যবদ্ধ। অন্যদলের নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের সর্ম্পকটা ভাইয়ের মতো। রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয় কিন্তু তা আমরা নেতৃবৃন্দরা বসে মীমাংসা করি

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মোহাম্মদ কাশেম বলেন,সারাদেশে কি হচ্ছে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা চাই আমাদের এলাকার শান্তি। রাজনৈতিক দল গুলোর আর্দশ ভিন্ন থাকতে পারে। দল গুলো কর্মসূচীও পালন করবে। কিন্তু কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে তা সংঘাতময় হোক তা আমরা কোন দলের নেতৃবৃন্দ  তা কামনা করি না। এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারলে এটাই আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হিসেবে পরম তৃপ্তি। আমরা গত পাঁচ বছরে প্রতিপক্ষ কোন দলের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করিনি। একে অপরের সাথে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সর্ম্পক রয়েছে।

সারাদেশে কি হচ্ছে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা চাই আমাদের এলাকার শান্তি। রাজনৈতিক দল গুলোর আর্দশ ভিন্ন থাকতে পারে। দল গুলো কর্মসূচীও পালন করবে। কিন্তু কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে তা সংঘাতময় হোক তা আমরা কোন দলের নেতৃবৃন্দ  তা কামনা করি না।

ইউপিডিএফ’র উপজেলা সংগঠক কিশোর চাকমা বলেন,আমরা সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই দীঘিনালা শান্ত। সমস্যা হবে,সমস্যা থাকবে। কিন্তু তা সংঘাত বা বৈরিতা সৃষ্টি করে নয় আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করি। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সৌহার্দ্যপূর্ণ সর্ম্পকের কারণে তৃতীয় পক্ষও কোন সুযোগ নিতে পারে না।

জেএসএস(এমএন লারমা)পক্ষের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা বলেন,সংঘাতের কারণে আমরা অতীতে অনেক কিছু হারিয়েছি। অতীত আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমরা আর হারাতে চাই না। সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য আমরা সংগঠন করি সাধারণ মানুষ শান্তি ও এলাকা শান্ত থাকলে আমরা শান্তি। যত বড় সমস্যা হোক আমরা সকল নেতৃবৃন্দ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করি।

সংঘাতের কারণে আমরা অতীতে অনেক কিছু হারিয়েছি। অতীত আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমরা আর হারাতে চাই না।

দীঘিনালা সেনা জোন সদরে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের প্রীতিভোজ সভায় জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল লোকমান আলী বলেন,দীঘিনালার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে যে সর্ম্পক তা অনুকরণীয়। সকল নেতৃবৃন্দ এক টেবিলে বসে আলোচনা করেন,চা চক্র করেন। যে কোন অনুষ্ঠানে সবাই মিলেমিশে যান। দীঘিনালাকে শান্ত রাখার ক্ষেত্রে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এটা প্রশাসনের কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রাখছে বলেও মন্তব্য করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খাগড়াছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ২

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গামারিঢালা থেকে ১ হাজার ৪৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশের …

Leave a Reply