নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হচ্ছে আজ

রাঙামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হচ্ছে আজ

306রাঙামাটি শহরের রাজবন বিহারে  শুরু হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় রাজমাতা আরতি চায় আর চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বেইন বুনা ও চরকায় সুতার কাটার মধ্য দিয়ে চীবর দানোৎসব আর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তুলা থেকে সুতা,সুতা থেকে কাপড় এবং কাপড় থেকে চীবর বা বস্ত্র তৈরির কঠিন পর্বটি আজ শুরু হয়ে আগামীকাল শুক্রবার শেষ করার পর নির্মিত চীবর বা বস্ত্র তুলে দেয়া হবে রাজবনবিহারের আবাসিক প্রধান শ্রী প্রজ্ঞালংকর মহাস্থবিরের হাতে। শুক্রবার দুপুরে রাজবনবিহারে নানা ধর্মীয় আচারের পর এই ধর্মীয় গুরুর ধর্মদেশনা শুনতে লাখো পুন্যার্থীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়–য়া,পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার,সাবেক উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্টজনেরা।

উল্লেখ্য,আজ থেকে আড়াই হাজার বছর পূর্বে ভগবান গৌতম বুদ্ধের উপাসক বিশাখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে বৌদ্ধ পুরোহিতদের ব্যবহার্য চীবর (বস্ত্র) তৈরি করে দানকার্য সম্পাদন করার পদ্ধতিতে এ কঠিন চীবর দান প্রবর্তন করেন। প্রত্যেক বছর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাবাস শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমা বা প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধরা এই মহাপূন্যানুষ্ঠান কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করে।
রাজবন বিহারে ১৯৭৭ সালে শ্রদ্ধেয় বনভান্তে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দান প্রচলন করেন। এর আগে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারে ১৯৭৩ সালে এই কঠিন চীবর দান করা হয়। কঠিন চীবর দানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সুতা থেকে কাপড় তৈরি করেন বনভান্তের অনুসারীরা। রাজবন বিহার সূত্র জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের আর কোথাও এই নিয়মে বৌদ্ধদের দানোত্তম কঠিন চীবর দান কার্য সম্পাদন হয়না। এবারের চীবর দান উৎসব এই বিহারের ৩৮ তম উৎসব।

দুইদিন ব্যাপি এই উৎসবকে ঘিরে রাজবনবিহার এলাকাজুড়ে বসে সুবিশাল মেলা। মেলায় বিক্রি হয় নানান পণ্যসামগ্রী।

বনবিহার পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক প্রতুল বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন,কঠিন চীবর দানের এই মহান আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এবারো সুশৃংখল এবং সুন্দরভাবে বিশাল এই আয়োজনটি সফলভাবে শেষ করা যাবে বলে জানান তিনি।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,রাজবনবিহারের এই কঠিন চীবর দানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়। এইসব মানুষের নিরাপত্তা এবং পুরো অনুষ্ঠানে যেনো নির্বিঘেœ শেষ করা যায়,সেই জন্য বরাবরের মতোই পুলিশ বিভাগে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেখানে প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার  রাঙামাটির লংগদু …

Leave a Reply

%d bloggers like this: