নীড় পাতা » ব্রেকিং » রাঙামাটি মহিলা কলেজে গণবদলীতে শিক্ষার্থীদের হতাশা

রাঙামাটি মহিলা কলেজে গণবদলীতে শিক্ষার্থীদের হতাশা

Rangamati-picঅনেকটা আকস্মিকভাবেই পর পর কয়েকজন শিক্ষকের বদলির খবরে রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজে হতাশা নেমে এসেছে। কলেজটির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ কর্মচারীরা চরম হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, রাঙামাটিতে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনের খরা কাটিয়ে সরকারি মহিলা কলেজ যখন জনসাধারণের আস্থার জায়গায় ফিরে আসতে শুরু করেছে ঠিক তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই অপরিণামদর্শি সিদ্ধান্ত এই জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিষফোঁড়ার মতো উদয় হয়েছে। তারা এ অবস্থা নিরসনে পাহাড়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সহসা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে প্রয়োজনে ছাত্রীরা আন্দোলনের নামবে বলেও গণমাধ্যম কর্মীদের জানানো হয়েছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে কলেজ শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বদলি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৫ নভেম্বর এই কলেজ থেকে তিনজন শিক্ষক বদলি করা হয়। বিষয়টি শনিবার কলেজের শিক্ষার্থী ও স্টাফদের মধ্যে জানাজানি হয়। অথচ আগে থেকেই কলেজটিতে আরো দু’টি পদে কোনো শিক্ষক নেই, উপরন্তু বাংলা বিভাগে কর্মরত বর্তমান প্রভাষকও পদোন্নতি পাওয়ায় সহসাই বদলি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায় একটি ইন্টারমেডিয়েট কলেজে একসাথে ছয়জন বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ভেঙ্গে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, এই বদলি প্রক্রিয়ায় কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মজুমদারও রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মতে তিনি এই কলেজ ছেড়ে চলে গেলে প্রতিষ্ঠানটি একেবারে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এই শিক্ষক কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করায় কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিবন্টন থেকে শুরু করে আবাসন বিষয়ে যাবতীয় প্রক্রিয়া তার নখদর্পণে রয়েছে।

সূত্র জানায়, এবারের বদলি প্রক্রিয়ায় সহকারি অধ্যাপক (হিসাব বিজ্ঞান) মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার, সহাকারি অধ্যাপক (ইংরেজী) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং সহকারি অধ্যাপক (প্রাণিবিদ্যা) সীমা তালুকদার কে এই কলেজ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং ৬/২এ-৫/২০১১১/৯৩০)। জানা গেছে বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক বিপম চাকমাকেও সহসাই বদলি করা হবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মজুমদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার পদোন্নতি হওয়ার কারণে এই বদলি হয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের কিছু নেই। তিনি এও জানান একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি সবাই চায়, তা ছাড়া উর্ধ্বতন নির্দেশ পালন করাটা তার দায়িত্বের অংশ।

রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামালের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে মন্তব্য করার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, আসলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়, এতে আমাদের তেমন হাত নেই। তাছাড়া বিষয়টি আমি এখনও পুরোপুরি অবগত হইনি। তবে স্থানীয় চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের হতাশার বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়ে জানাতে পারি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব অনুধাবন করে আশু পদক্ষেপ না নিলে এই জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে আবরও হতাশা নেমে আসবে। বিশেষ করে বর্তমান অধ্যক্ষ এই কলেজ থেকে চলে গেলে কলেজটিতে ফলাফল উন্নয়ন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা দারুণভাবে ব্যাহত হয়ে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply