নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » রাঙামাটি মহিলা কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

রাঙামাটি মহিলা কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

rangamati_govt_women_collegeরাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষক ও জনবল সঙ্কট, জায়গা বেদখল, আবাসিক ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও ছাত্রীনিবাস সুপারের অভাব এবং কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত না হওয়ায় কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষকগণ এ দাবির যথার্থতা স্বীকার করে বলেছেন তিন পার্বত্য জেলা প্রাচীতনতম সরকারি মহিলা কলেজ হিসেবে এই কলেজের যে হারে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল সে হারে হয়নি।

রাঙামাটি শহরে ১৯৯৪ সালে মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় জেলার নারীশিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। কলেজটির গুরুত্ব বুঝেই ১৯৯৮সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণ করা হয়।

বর্তমানে কলেজটি এইচএসসি ফলাফলে রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাথে একই মানের রয়েছে।

কিন্তু শিক্ষক সঙ্কটের কারণে এই মান ধরে রাখা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ছাত্রী-শিক্ষক এবং অভিভাবকগণ।

এই কলেজে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে থাকার পরও শিক্ষক না আসায় শিক্ষার্থীরা সংশ্লি¬ষ্ট বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা পাচ্ছে না।

কলেজ প্রশাসন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখলেও এতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

অতীতে দেখা গেছে যখনই কোন শিক্ষকের পদোন্নতি হয়, পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষক তদবির করে বড় কোনো শহরের সরকারি কলেজে চলে যান।

এবারও এই কলেজের চারজন সিনিয়র শিক্ষকের পদোন্নতি হয়েছে। এই পদোন্নতির কারণেই অনিশ্চয়তার প্রহর গুণছে শিক্ষার্থীরা। পদোন্নতি প্রাপ্তরা হলেন, হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার, ইংরেজী বিষয়ের প্রভাষক মোঃ হেলাল উদ্দীন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মোঃ রহিম উদ্দীন, পদার্থ বিজ্ঞানের মোঃ সাইফুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন এই চার শিক্ষকের পদোন্নতির কারণে যেকোনো মূহুর্তে বদলির আদেশ আসতে পারে। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ছদর উদ্দিন বলেন, “আমার কলেজের চারজন শিক্ষক পদোন্নতির পরও আমরা আপাতত তাদেরকে ছাড়ছি না। কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে এদেরকে বদলি করা হলে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।”

তিনি জানান, এভাবে পূর্বে আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রভাষক বদলি হওয়ার প্রায় সাড়ে তিনবছর পরও এ বিষয়ের জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লি¬ষ্ট দপ্তরে প্রতি মাসে চিঠি পাঠিয়েও এখনো কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি। এ জন্য বর্তমান শিক্ষকদের বদলির পূর্বে নিয়োগ না দিলে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া এ অঞ্চলের মেয়েদের কথা চিন্তা করে আমরা কলেজটিকে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রচুর ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকার কারণে কলেজের রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষের সামান্যতম উদ্যোগও নেই। কলেজ সড়কের দুইধারের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত রাস্তায় গৃহস্থালী জিনিসপত্র শুকানোর জন্য এমন অবস্থা করে রাখে যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিবেশীদের আচরণ এমন যে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের প্রতিপক্ষ। কলেজের সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে কলেজে নিরাপত্তারও অভাব রয়েছে বলে জানায় তারা। এসমস্যা সমাধানের জন্য তারা কলেজ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

বিশেষত বাসা বাড়িগুলোর পয়ঃপ্রণালী অবিলম্বে কলেজ সড়ক থেকে সরানো না হলে শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

কলেজ সড়কের মুখে যাত্রিছাউনীতে বখাটেরা দল বেঁধে বসে থাকার কারণে ছাত্রীরা নানা সময় হেনস্তার শিকার হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কলেজের ভূমির মোট আয়তন ৪.২৪ একর। যার মধ্যে ১.২৫ একর জমি রাঙামাটি সরকারি কলেজের মালিকানাধীন। যা ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়। কলেজের বেশ কিছু জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বেদখল হয়ে রয়েছে।

সীমানা প্রাচীর না থাকায় ছাত্রীদের স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিষয়টা হুমকি হয়ে আছে।

ছাত্রীনিবাসে মেয়েদের দেখভাল ও নিরাপত্তার জন্য হোস্টেল সুপার নেই।

কলেজের সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম মজুমদারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলেজের কম্পিউটার শিক্ষিকা নাজরীন জাহান ছাত্রীনিবাসের হাউজ টিউটরের দায়িত্ব পালন করছেন।

কলেজের অধ্যক্ষের প্রধান অফিস সহকারি পদটিও খালি। কলেজের অধ্যক্ষের পাশাপাশি উপাধ্যক্ষ পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগে পরিদর্শকের তিনটি পদে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষের জন্য বাসভবনেরও ব্যবস্থা নেই। তিনি নিজে একটি বাসা বাড়ি নিয়ে থাকছেন।

কলেজের সিনিয়র শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মোঃ নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, বেদখল, শিক্ষক ও জনবল সঙ্কটের কারণে কলেজের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রদান করলে কলেজের শিক্ষার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকবে। এছাড়া অনার্স বা ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আবারো এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পার্বত্যাঞ্চলের অনগ্রসর মেয়েদের কথা চিন্তা করে খুব তাড়াতাড়ি এবিষয়ে একটি ভালো সিদ্ধান্ত পাবো বলে আশা করছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ব্যাচ-২০০২ এর পুনর্মিলনী

‘আজো খুঁজি কৈশরের সোনালী অতীত’ এই শ্লোগানে গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ …

Leave a Reply