নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » রাঙামাটি বিএনপি’র চোখে ঊষাতন তালুকদার

রাঙামাটি বিএনপি’র চোখে ঊষাতন তালুকদার

BNP coverদশম সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সারাদেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা অনায়াসে জয়লাভ করলেও রাঙামাটিতে বিএনপি না থাকার কারণে উল্টো আওয়ামী লীগকে হারতে হলো। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার প্রায় ১৮ হাজার ৮৫২ ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনকালীন সরকারের পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে পরাজিত করে। পরাজয়ের পর পাহাড়ের রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণ শুরু হয়।

দীর্ঘ চার দশক পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার তাঁরই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার দেখানো পথে এগিয়ে গেলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সে সংগঠনের সিনিয়রই সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করলেন। আঞ্চলিক দলের এই নেতার জয় পাহাড়ের রাজনীতিতে কি ভূমিকা পালন রাখবে তার সমীকরণ কষছেন রাঙামাটি বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে না গেলেও জয়ী এই নেতার ভবিষ্যত কর্মকান্ডের ওপরই নির্ভর করছে তাঁদের মূল্যায়ন।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেএসএস সশস্ত্র ও রাজপথে আন্দোলন করেছে। এখন জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আশা করবো তারা সহিংসতা পরিহার করে জনকল্যাণে কাজ করবে। পাহাড়ী বাঙালি সবার জন্যই নবনির্বাচত সংসদ সদস্য কাজ করবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

রাঙামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ঊষাতন তালুকদার সম্প্রদায়গত রাজনীতি থেকে আজকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার ভবিষ্যত কর্মকান্ডের মাধ্যমে জনগণই তাঁকে মূল্যায়ন করবে। আমরাও তার কর্মকান্ড দেখার প্রতীক্ষা করছি।

রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি ও রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, গোষ্ঠীগত রাজনীতি থেকে তিনি বের হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতি মূল স্রোতধারায় এসেছেন। ভবিষ্যতে তাঁর নিজের কর্মকান্ড ও মানসিকতার ওপর নির্ভর করবে তাঁর সফলতা। পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান কাজ ও সবচে বড় চ্যালেজ্ঞ। ঊষাতন তালুকদার নির্বাচিত হওয়ায় বাঙালিদের পার্বত্যাঞ্চল থেকে চলে যেতে হবে এমন অপপ্রচার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি কিভাবে উত্থাপন করতে চান, তার ওপরই নির্ভর করছে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা উচিত নয়।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম মনে করেন বিএনপি অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনের ফলাফল এইরকম হতোনা,অন্যরকম হতো। স্বতন্ত্র প্রার্থী উষাতন তালুকদারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,তিনি আওয়ামী লীগের দুর্নীতি,দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনরায় নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন,সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা সমাধানে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলেই আশা রাখি।

তবে রাঙামাটি বিএনপির নেতারা যাই বলুন না কেনো,এবারের নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় পাহাড়ে বিএনপিসহ জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতিকে জটিল সমীকরণেই ফেলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে দলগুলোর বিজয়ী হওয়ার পথে আঞ্চলিক দলের সমর্থন পাওয়ার পথ যেমন রুদ্ধ হলো,তেমনি তাদের ভোটব্যাংকও কিছুটা নড়বড়ে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সময়ই বলে দেকে আসলেই কি হচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে মাছের পোনা অবমুক্ত

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষে লংগদুতে পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। …

Leave a Reply